Thursday, April 11, 2013

মাহমুদুর রহমানাকে গ্রেফতারের প্রতিবাদ জানিয়েছে রাইটার্স ফোরাম অফ নর্থ আমেরিকা





মাহমুদুর রহমানাকে গ্রেফতারের প্রতিবাদ
জানিয়েছে রাইটার্স ফোরাম অফ নর্থ আমেরিকা

নিউ ইয়র্ক: দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে রাইটার্স ফোরাম অফ নর্থ আমেরিকা। একইসঙ্গে মাহমুদুর রহমানের নামে দায়ের করা সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার নিঃশর্ত দাবী করেছে সংগঠনটি। 

এক যৌথ বিবৃতিতে রাইটার্স ফোরামের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল আরিফ ও সাধারণ সম্পাদক নঈম উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের সাংবাদিকতার ইতিহাসে দৈনিক আমার দেশ ও মাহমুদুর রহমান অক্ষয় হয়ে থাকবেন। ইসলাম বিরোধী ষড়যন্ত্র, দূর্নীতি প্রতিরোধ, স্কাইপি কেলেংকারী ও সাম্রাজ্যবাদের থাবা মুকাবেলায় মাহমুদুর রহমানের যোগ্য নেতৃত্বে আমার দেশ অসাধারণ ভূমিকা রেখে আসছে। অন্যদিকে তল্পিবাহক অসংখ্য গণমাধ্যম সাথে নিয়েও যখন সরকার একটি পত্রিকার সাথে পেরে উঠেনি, তখনই সরকার ফ্যাসিবাদী কায়দায় কলম সৈনিক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার করলো। 
তারা বলেন, আমার দেশ পত্রিকা উইকিলিকসে শেখ মুজিবের শাসন আমল প্রকাশের ঘোষণা দেয়ার পর দিনই সরকার ভীত হয়ে মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে। এ ঘোষণার পর তাকে গ্রেফতার করে সরকার নিজেই প্রমাণ করেছে আয়ামী লীগ সবসময় বাক স্বাধীনতা ও অবাধ তথ্য প্রবাহের বিপক্ষ শক্তি। 
বিবৃতিতে নেতারা অবিলম্বে মাহমুদুর রহমানের নামে সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যহার করে নিঃশর্ত মুক্তি জানান। অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে লেখক সাংবাদিকদের নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষণা দেন তারা। 

                                          সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

Monday, April 8, 2013

নিজের গুলিতে লিঙ্গ হারানো যুবলীগ নেতার ভিডিও নিয়ে ফেসবুকে তোলপাড়

 
নিজের গুলিতে লিঙ্গ হারানো যুবলীগ 
নেতার ভিডিও নিয়ে ফেসবুকে তোলপাড়

৮ এপ্রিল হরতালে যুবলীগের এক নেতার নিজের গুলিতে লিঙ্গ হারিয়েছেন দাবী করে একটি ভিডিও পোস্ট ইসলামী আন্দোলন নামের একটি ফেসবুক গ্রুপ। অল্প সময়ে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ছে। হুমড়ি খেয়ে ফেসবুক ইউজাররা ভিডিওটি দেখছে। একে অন্যকে ট্যাগে এবং শেয়ার করছে। লিঙ্গ হারানো নেতার নাম সালাউদ্দিন বলে দাবী করা হয়েছে।


ইসলামী আন্দোলন তাদের পোস্টে লিখেছে: 
নিজের গুলিতে লিঙ্গ হারিয়েছে এক যুবলীগ ক্যাডার !
সকাল দশটা। স্থান চট্টগ্রাম লালখান বাজার মোড়। যুবলীগ ছাত্রলীগের সশস্ত্র ক্যাডাররা প্রস্তুতি নিচ্ছে হেফাজতের সমাবেশে হামলা দেয়ার জন্য। ৩ জন নিজেদের সাথে রাখা অস্ত্র বের করলো। কিন্তু বিপত্তি বাধে যুবলীগ ক্যাডার সালাউদ্দিনের। কোমড় থেকে অস্ত্র বের করার সময় সেখানেই বের হয়ে যায় একটি গুলি। এতে তার লিঙ্গটি বিচি সহ রাস্তায় পড়ে যায়। এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে বিচিহিন সদ্য নুঃপুংশুক এই যুবলীগ ক্যাডার। : 
ভিডিওটির ফেসবুক লিংক : https://www.facebook.com/photo.php?v=431401226953859

নষ্ট শহরে হেফাজতের গণবিস্ফোরণ


নষ্ট শহরে হেফাজতের গণবিস্ফোরণ


ফরহাদ মজহার


হেফাজতি ইসলামের ছয় এপ্রিলের সমাবেশ শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে টান টান উত্তেজনা এবং আতংকের সাময়িক অবসান ঘটেছে। সাময়িক এ কারণে যে সমাজের বিরোধ যে-রাজনৈতিক রূপ লাভ করেছে তাতে এই টান টান অবস্থার পরিসমাপ্তি সহজে ঘটবে না। বরং হেফাজতে ইসলামের মধ্য দিয়ে নতুন একটি রাজনৈতিক শক্তির আবির্ভাব আমরা দেখলাম। যাদের সম্পর্কে সমাজের ধারণা খুবই অল্প। বিদ্যমান দ্বন্দ্ব-সংঘাতের বাস্তবতা ও চরিত্রের কারণে তারা তাদের ধর্মীয় দাবিকে রাজনৈতিক দাবি হিশাবে হাজির করতে সক্ষম হয়েছে। শহুরে ভদ্রলোক ও বিদ্যমান ব্যবস্থার সুবিধাভোগী শ্রেণি তাদের পশ্চাতপদ ও গণবিরোধী চিন্তাচেতনার আবর্জনা এরপরও ঘাঁটতে থাকবে। দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকবে তারা। বুঝতে চেষ্টা করবে না কেন ঘটনাটি ঘটল। এর আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কারণ কী হতে পারে। গণতান্ত্রিক লড়াই সংগ্রামের বিপজ্জনক ঘাটতিগুলো কোথায়। না, সেই কঠিন পর্যালোচনার জায়গায় তারা যাবে না। তারা বলতে থাকবে এরা অসভ্য, অশিক্ষিত ও বর্বর। এরা যদি সমাজে প্রাধান্য বিস্তার করে তাহলে ‘সভ্যতা’ বলে কিছু থাকবে না। নোংরা বর্ণবাদ ও শ্রেণিঘৃণার তীব্রতা দেখব আমরা। ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ও ঘৃণার রাজনীতি সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর ইসলাম আতংকের সঙ্গে একাকার হয়ে যেতে থাকবে।

বাংলাদেশে যারা খেয়ে না খেয়ে ইসলাম বিরোধী রাজনীতির বিরোধিতা করেন তারা জোরে শোরে প্রচার করছেন হেফাজতে ইসলাম আসলে জামাতে ইসলামেরই নামান্তর। একাত্তরে জামাতে ইসলামির ভূমিকার কারণে ইসলাম সম্পর্কে জনগণের মধ্যে যে মন্দ ধারণা রয়েছে তারা তাকে ব্যবহার করে হেফাজতে ইসলামকেও কালিমালিপ্ত করতে চাইছেন। অথচ জামায়াত ও হেফাজতে ইসলামের সম্পর্ক সাপে নেউলে বললেও খুব অত্যুক্তি হয় না। এই ধরণের প্রচার বা প্রপাগাণ্ডা ইসলামের প্রতি শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণির একাংশের ঘৃণা ও বিদ্বেষ শুধু নয়, তুমুল অনাগ্রহও প্রমাণ করে। বাংলাদেশে ইসলামি রাজনীতির বিভিন্ন ধারাকে বুঝতেও সহায়ক হয় না।

বলাবাহুল্য, হেফাজতে ইসলামির কর্মসূচি, রাজনীতি কিম্বা তাদের কাজের কৌশল ইত্যাদি সবকিছুরই পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে। ধর্ম ও রাজনীতি উভয় দিক থেকে। হেফাজতে ইসলামের সমালোচনা বা পর্যালোচনা যে কেউই করতে পারেন। কিন্তু শুরুতেই যে দিকটা বোঝা গুরুত্বপূর্ণ সেটা হচ্ছে ছয় তারিখের কর্মসূচি বাংলাদেশের সমাজ ও রাজনীতির একটা গুণগত পরিবর্তন ঘটিয়েছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইসলাম আর গৌণ অবস্থানে নয়, বরং নির্ধারক অবস্থানে নিজেকে হাজির করবার ইঙ্গিত দিয়ে গেছে। এট ভাল কি মন্দ সেই বিচার এখানে এখন করব না। বরং এই সমাবেশের কয়েকটি শিক্ষণীয় দিক রয়েছেন সেই দিকগুলোই সংক্ষেপে আলোচনা করব।

আসুন নিজেরা মধ্যযুগীয় কুসংস্কার থেকে আগে মুক্ত হবার চেষ্টা করি। তার আগে অন্যকে মুক্তির বাণী শোনানোর অভ্যাস যতো তাড়াতাড়ি ত্যাগ করতে পারব ততোই আমরা রাজনৈতিক ভাবে হুঁশে আসব। অন্তত এক কদম এগিয়ে যাবো।

এটা তো পরিষ্কার যে এই নষ্ট শহরে যে সকল জালিম শ্রেণি এই দেশের জনগণকে শোষণ লুন্ঠন করে টিকে থাকে এবং যারা মনে করে এই দেশ শুধু তাদের, গণমানুষের পদভারে শহর প্রকম্পিত করে হেফাজতের জমায়েত বুঝিয়ে দিয়েছে তারা ছাড়াও বাংলাদেশে আরও কোটি কোটি মানুষ আছে। যে যুদ্ধ এই জালিম শ্রেণী শুরু করেছে তার সম্ভাব্য পরিণতি কী হতে পারে তার খানিক আভাস মাত্র তারা দিয়ে গেল। ক্ষমতাসীন ও তাদের পক্ষের শ্রেণি ও শক্তিগুলো সেই দিকেই দেশকে নেবে কিনা সেটা এখন তাদের ওপরই নির্ভর করছে।

হেফাজতে ইসলাম শুধু ঢাকায় সমাবেশ করতে চায় নি, তারা তাদের কর্মসূচিকে বলেছে ‘লং মার্চ’। মাও জে দং-এর নেতৃত্বে চিনের নিপীড়িত লড়াকু শ্রমিক-কৃষকদের নিয়ে গঠিত গণসৈনিকদের যুদ্ধকৌশল হিশাবে এই দীর্ঘ পদযাত্রার সঙ্গে তাদের কর্মসূচির নামকরণে মিল রাখার মধ্য দিয়ে হেফাজতে ইসলাম বুঝিয়ে দিয়েছে পার্থক্য থাকলেও মজলুমের যে কোন লড়াইয়ের ধরণের মধ্যে মিল থাকা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তাছাড়া তাঁরা দাবি করেছেন, দীর্ঘ পদযাত্রার মধ্য দিয়ে জনগণকে সম্পৃক্ত করবার এই কৌশল কমিউনিস্টদের রণকৌশল বলা ঐতিহাসিক ভুল। কারণ ইসলামের ইতিহাসে এই ধরণের পদযাত্রার প্রচুর উদাহরণ রয়েছে।

এই সমাবেশ পণ্ড করবার জন্য সরকার সব রকমের চেষ্টা করেছে। শেষ চেষ্টা ছিল সেক্টরস কমাণ্ডার্স ফোরাম, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি এবং আরও সাতাশটি সংগঠ্নকে মাঠে নামানো। হেফাজতে ইসলামকে ‘প্রতিরোধ’ করবার জন্য হরতাল ও অবরোধের কর্মসূচিও দেওয়া হয়েছে। ট্রেন, বাস, ফেরি, নৌকা, লঞ্চসহ সব যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। তারপরও লক্ষ লক্ষ মানুষের বৃহত্তম যে সমাবেশ ঢাকায় হয়েছে তা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় ঘটনা হয়ে থাকবে। ঢাকায় যারা আসতে পারেন নি, তারা সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ করেছেন। যদি তাদের হিশাব নেওয়া হয় এবং যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে তাতে দেখা যায় বড়োজোর এক দশমাংশ মানুষ ঢাকায় পৌছাতে পেরেছেন। এর পরও যে লক্ষ লক্ষ মানুষ ঢাকায় এসেছে তা রীতিমতো বিস্ময়কর।

এটাও বিস্ময়কর যে সমাবেশ আগাগোড়াই ছিল শান্তিপূর্ণ। হেফাজতের নেতৃবৃন্দ পুলিশ ও প্রশাসনকে যে কথা দিয়েছেন, সেই ওয়াদা মাফিক সময় মতো তাঁদের সমাবেশ শেষ করেছেন। এতে স্পষ্ট বোঝা গেল কর্মীদের ওপর নেতৃবৃন্দের নিয়ন্ত্রন যথেষ্ট শক্তিশালী। শান্তিপূর্ণ লড়াইয়ের উদাহরণ তাঁরা তৈরী করলেন।

এবার এই সমাবেশের দুই একটি গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্যের ইঙ্গিত দিয়ে শেষ করব।

প্রথমত এ যাবতকাল বাংলাদেশের রাজনীতিতে ধর্ম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে থাকলেও এই প্রথম বার ইসলাম নিজের প্রাধান্য নিয়ে হাজির হোল। শেখ হাসিনা ইসলামি রাজনীতিকে নির্মূল করতে গিয়ে তাকে আরও প্রতিষ্ঠিত করে গেলেন। ভাষা ও সংস্কৃতিভিত্তিক জাতীয়তাবাদের যে আধিপত্য গত ৪২ বছর আমরা বাংলাদেশে দেখেছি, তার দুর্বলতা ও ক্ষয়ের দিকটাও এতে প্রকট হয়ে উঠল।

নিজের মত প্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ ভাবে সভা সমাবেশ করবার অধিকার বাংলাদেশের যে কোন নাগরিকের আছে। হেফাজতের ১৩ দফা আমরা সমর্থন করি বা না করি নাগরিক হিশাবে আমাদের স্বীকার করতে হবে যাদের আমরা সমাজের বাইরে রেখে দিয়েছি, কথা বলতে দেই নি, যাদের ব্যাপারে অযৌক্তিক আতংক আমাদের মধ্যে কাজ করে – এই সমাজ ও রাষ্ট্র তাদেরও। অন্যের অধিকার অস্বীকার করলে নিজের অধিকার রক্ষার নিশ্চয়তা আমরা হারাই। তাদের ‘অশিক্ষিত’, ‘বর্বর’, ‘অসভ্য’ বলার মধ্য দিয়ে নিজের অশিক্ষা, বর্বরতা ও অসভ্যতাই আমরা প্রকাশ করি। যে কারুরই আমরা বিরোধিতা করতে পারি, সমালোচনা করতে পারি, কিন্তু তার নাগরিক অধিকার যদি আমরা স্বীকার না করি তাহলে বাংলাদেশকে আরও অন্ধকার গহ্বরে আমরা ঠেলে দেব।

দ্বিতীয়ত ইসলাম প্রশ্ন আগামি দিনে বাংলাদেশের রাজনীতির নির্ধারক হয়ে উঠবে। রাজনীতি যেভাবে গঠিত হতে থাকবে তার মধ্যে ইসলাম প্রশ্নের মীমাংসা গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য হয়ে নানা ভাবে হাজির হতে থাকবে। সমাজতত্ত্বে, রাজনৈতিক বিশ্লেষণে, সাংস্কৃতিক বিনির্মাণে। কে কিভাবে করবেন তার ওপর তাঁদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে। ইসলাম প্রশ্নের সঠিক মোকাবিলা না হলে রাজনীতিতে নেতিবাচক প্রবণতা বাড়বে। অন্যদিকে এর সঠিক মীমাংসা বাংলাদেশের রাজনীতির বৈপ্লবিক রূপান্তর ঘটাতে পারে। অর্থাৎ বাংলাদেশের বৈপ্লবিক রূপান্তরের প্রশ্নও ইসলাম প্রশ্নের মীমাংসার সঙ্গে আরও সরাসরি যুক্ত হয়ে পড়ল। অর্থাৎ ইসলাম আদৌ জালিমের বিরুদ্ধে মজলুমের লড়াইয়ের সহায়ক হতে পারে কিনা, সেটা এখন রাজনীতির ব্যবহারিক প্রশ্নে পরিণত হবে। একে উপেক্ষা করবার সুযোগ কম। বাংলাদেশের জনগণের বিপ্লবী রণনীতি ও রণকৌশলের বয়ান অন্যদের কাছ থেকে মুখস্থ ধার করবার ও বাইরে থেকে আমদানি করবার সুযোগ কমে যাবে। গণবিচ্ছিন্ন থেকে কেতাবি দিবাকল্পনা পেটিবুর্জোয়া অতো তাড়াতাড়ি হয়তো ত্যাগ করবে না। কিন্তু যাঁরা জানেন কেতাব নয়, জনগণই বিপ্লব করে তারা বাংলাদেশের মজলুম বা নিপীড়িত জনগণকে আন্তরিক ভাবেই বোঝার চেষ্টা করবেন। বিশ্ব ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সৃষ্টিশীল ভাবে ভাবতে দেরি করবেন না। সুনির্দিষ্ট সামাজিক, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতা বিচার করে নিজেদেরই লড়াই সংগ্রামের অভিজ্ঞতার আলোকে ইসলাম প্রশ্নে্র মীমাংসা তারা করবেন। এই কাজ এড়িয়ে যাবার বিশেষ আর উপায় নাই।

তৃতীয়ত, এই সমাবেশের তাৎপর্য হেফাজতে ইসলামের দাবির মধ্যে নয়, বরং সমাবেশে লক্ষ লক্ষ মানুষের উপস্থিতি নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে তাদের সাংগঠনিক ক্ষমতা প্রদর্শন। হেফাজতে ইসলাম সমাবেশে তাদের ১৩ দফা দাবি পেশ করেছে। যেসব দাবিগুলোর প্রতি সমাজে আপত্তি উঠেছে এবং সেই দাবিকে প্রচার প্রপাগাণ্ডার কেন্দ্রে আনা হচ্ছে সেইসব নতুন কোন দাবি নয়। আমরা চাই বা না চাই, ভবিষ্যতে এই দাবির পক্ষেবিপক্ষে তর্কবিতর্ক ও জনমতই রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ নির্ণায়ক হয়ে উঠবে।

নিজের মত প্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ ভাবে সভা সমাবেশ করবার অধিকার বাংলাদেশের যে কোন নাগরিকের আছে। হেফাজতের ১৩ দফা আমরা সমর্থন করি বা না করি নাগরিক হিশাবে আমাদের স্বীকার করতে হবে যাদের আমরা সমাজের বাইরে রেখে দিয়েছি, কথা বলতে দেই নি, যাদের ব্যাপারে অযৌক্তিক আতংক আমাদের মধ্যে কাজ করে – এই সমাজ ও রাষ্ট্র তাদেরও। অন্যের অধিকার অস্বীকার করলে নিজের অধিকার রক্ষার নিশ্চয়তা আমরা হারাই। তাদের ‘অশিক্ষিত’, ‘বর্বর’, ‘অসভ্য’ বলার মধ্য দিয়ে নিজের অশিক্ষা, বর্বরতা ও অসভ্যতাই আমরা প্রকাশ করি। যে কারুরই আমরা বিরোধিতা করতে পারি, সমালোচনা করতে পারি, কিন্তু তার নাগরিক অধিকার যদি আমরা স্বীকার না করি তাহলে বাংলাদেশকে আরও অন্ধকার গহ্বরে আমরা ঠেলে দেব। হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা আমাদের মধ্যযুগে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে না, কারন ইতিহাস যা অতিক্রম করে আসে সেখানে প্রত্যাবর্তন করে না, যদিও বর্তমানে থেকে অতীতের ভার কাঁধে নিয়েই তাকে ভবিষ্যৎ গঠনের কাজ করে যেতে হয়। সেই দিক থেকে নাগরিক অধিকার অস্বীকার করবার রাজনীতি ও সংস্কৃতিটাই বরং মধ্যযুগীয়।

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের ক্ষেত্রে গরিব ও সমাজের প্রান্তিক মানুষগুলোর অংশগ্রহণের সুযোগ দূরে থাক, তাদের কথা বলার অধিকারও আমরা স্বীকার করি না। কারণ আমাদের আপত্তি তারা ধর্মের ভাষায় কথা বলে, পবিত্র কোরান শরিফকে আক্ষরিক ভাবে ব্যাখ্যা করে, কথায় কথায় হাদিসের উদাহরণ দেয়, পুঁজিতান্ত্রিক ভোগী সমাজে গা ঢেলে দেবার বিরোধিতা করে, নীতিনৈতিকতার ওপর অতিরিক্ত জোর দেয়, ইত্যাদি। এতে আমাদের মধ্যবিত্ত জীবন আতংকিত বোধ করে। আমরা চিৎকার শুরু করি তের দফা মানা যায় না। ফলে ধর্মতাত্ত্বিক বয়ানের মোড়কের মধ্যে এই মানুষগুলোর নৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক উদ্বিগ্নতা আমাদের কানে এসে পোঁছায় না। কারন এদের আমরা মানুষ বলেই গণ্য করি না। আমরা আগেই প্রচার শুরু করি বাংলাদেশ তালেবান হয়ে যাচ্ছে। হেফাজতে ইসলামের হাত থেকে পাশ্চাত্য শক্তি এখন আমাদের রক্ষা করুক। পাশ্চাত্য সভ্যতা ছাড়া অন্য কোন সভ্যতা আমরা কল্পনাও করতে অক্ষম। হেফাজতিদের হাত থেকে নিষ্কৃতি পাবার কাতর প্রার্থনায় আকাশ বাতাস ধ্বনিত হয়ে ওঠে। নিজেদের বদ্ধমূল কুসংস্কারের দুর্গন্ধ নিজেদের নাকে এসেও আর লাগে না। বহুদিন হয় আমাদের ঘ্রাণ শক্তিসহ ইন্দ্রিয়ের অন্যান্য বৃত্তিও আমরা নষ্ট করে ফেলেছি।

আসুন নিজেরা মধ্যযুগীয় কুসংস্কার থেকে আগে মুক্ত হবার চেষ্টা করি। তার আগে অন্যকে মুক্তির বাণী শোনানোর অভ্যাস যতো তাড়াতাড়ি ত্যাগ করতে পারব ততোই আমরা রাজনৈতিক ভাবে হুঁশে আসব। অন্তত এক কদম এগিয়ে যাবো।

৭ এপ্রিল ২০১৩। ২৪ চৈত্র ১৪১৯। শ্যামলী।





বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভূমিকম্প


বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভূমিকম্প
ফিরোজ মাহবুব কামাল


উল্টে গেল শাহবাগ মঞ্চ:
বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন প্রচণ্ড ভূমিকম্প।এ ভূমিকম্পে শুধু যে সরকারের পতন ঘটবে তাই নয়।আমূল পরিবর্তন আসবে বহু কিছুতেই।লন্ডভন্ড হয়ে যাবে বহু কিছুই। ইতিমধ্যে এ ভূমিকম্প উল্টিয়ে দিয়েছে শাহবাগ সার্কাসের সাজানো মঞ্চ। ভারতপন্থি ও ইসলামবিরোধী সকল রাজনৈতিক দল,সবগুলি সেক্যুলার সাংস্কৃতিক সংগঠন,সকল ইসলামবিরোধী পত্র-পত্রিকা ও মিডিয়া এবং ইসলামবিরোধী সকল বুদ্ধিজীবী শাহবাগের ব্লগারদের দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতির উপর দীর্ঘকালীন দখলদারির পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু এ ভূমিকম্প তাদের সবকিছুই লন্ডভন্ড করে দিল। তারা ভাবতেই পারিনি,এত দ্রুত তাদের সকল স্বপ্ন হাওয়াই হারিয়ে যাবে। ভূমিকম্পে তো এমনটিই ঘটে। ৬/৪/১৩ তারিখের দৈনিক মানবজমিন লিখেছে,অবস্থা বেগতিক দেখে শত শত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী এখন বিপুল অর্থ সাথে নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে। ৬/৪/১৩ তারিখে লংমার্চ শেষ হলো।কিন্তু লংমার্চ কি শুধু মাইলের পর মাইল পথ হাটায় বা সমাবেশে শেষ হয়? রাজনীতির এটি এক সুদুরপ্রসারি কৌশল।রাজনীতির সাথে লংমার্চের একটি সাংস্কৃতিক ও আদর্শিক বিপ্লবের লক্ষ্যও থাকে। তেমন একটি লক্ষ্য নিয়েই বাংলাদেশের রাজনীতিতে শুরু হয়েছে লাগাতর ভূমিকম্প।

মুসলমানের জীবনে লংমার্চ শেষ হলেও জিহাদ শেষ হয় না।লক্ষ লক্ষ মানুষের এ মহাবেশ প্রমাণ করলো,বাংলাদেশের ইসলামপ্রেমী জনগণ ঘুমিয়ে নাই।শাহবাগীদের লম্ফঝম্প,নাচানাচি ও চিল্লাচিল্লিতে তাদের সবার ঘুম এখন ভেঙ্গে গেছে।আল্লাহ-রাসূলের বিরুদ্ধে গালাগালি এবং ইসলামপন্থিদের ফাঁসিতে ঝুলানো ও তাদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার যে ফাসিবাদী সন্ত্রাস তারা শুরু করেছিল,বাংলাদেশের মাটিতে যে তার স্থান নাই সেটিই প্রমাণিত হলো।অনেকেরই অভিমত,সরকার যানবাহন চলাচল বন্ধ না করলে ঢাকায় কোটি লোকের বেশী সমাবেশ হতো। জনগণের ঈমানে আজ প্রচন্ড জোয়ার এসেছে। ঈমানদারের রাজনীতি তো এভাবেই জিহাদে পরিণত হয়। হাসিনা সরকারের নিষ্ঠুর অত্যাচার ও লুণ্ঠনে সমগ্র দেশবাসী আজ অতিষ্ট। বহুমানুষ কাফনের কাপড় পড়ে ও হাতে জায়নামায নিয়ে ময়দানে নেমেছে। লংমার্চে যাওয়াকে তারা ইবাদত গণ্য করেছে। বাংলাদেশের হাজার বছরের ইতিহাসে এটিই ছিল সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সমাবেশ। এতবড় সমাবেশ পূর্বে কখনোই কোন সরকারের বিরুদ্ধে হয়নি। আইয়ুব–ইয়াহিয়া ও এরশাদের বিরুদ্ধেও হয়নি। বাংলাদেশের সমগ্র ইতিহাসে সবচেয়ে গণধিকৃত সরকার যে শেখ হাসিনার সরকার সেটি এ লংমার্চ প্রমাণ করলো। এটি শুধু লংমার্চ নয়,রূপ নিয়েছে পবিত্র জিহাদে।এ জিহাদের লক্ষ্য,আল্লাহর দুষমণদের অধিকৃতি থেকে শুধু বাংলাদেশের মুক্তি নয়,ইসলাম রক্ষাও। এ জিহাদ শুধু ব্লগারদের শাস্তির দাবীতে নয়।বরং আল্লাহর দ্বীনের পূর্ণ বিজয়ের।



হেফাজতে ইসলামের পরিকল্পনা ছিল,৬ই এপ্রিল বাংলাদেশের সকল জেলা থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ ঢাকায় এসে হাজির হবে। কিন্তু সরকার সেটি চায়নি। চায়নি বলেই সড়ক থেকে যানবাহন তুলে নেয়ার লক্ষ্যে সহযোগী সংগঠনগুলি দিয়ে শুক্রবার ৫ই এপ্রিল সন্ধা থেকেই শনিবার সন্ধা অবধি হরতাল আহবান করে। সরকার সমর্থিত বাস ও লঞ্চ মালিকদের দিয়ে সারা দেশে বাস ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখে। বন্ধ করে দেয় রেল যোগাযোগ। অথচ এ সরকারই হরতালের বিরুদ্ধে বিরোধী দলকে নসিহত করে এবং নির্দেশ দেয় যানবাহন চলাচলের। ঢাকায় জলসার জন্য স্থান দিতেও এ সরকার দীর্ঘদিন গরিমসি করে। তবে এ সমাবেশ রুখার সামর্থ সরকারের ছিল না। কারণ অনুমতি না দিলে হেফাজতে ইসলাম লাগাতর হরতালের ঘোষণা দিয়েছিল। ফলে অনুমতি দিতে বাধ্য হয়। তবে অনুমতি দিলেও নানা শর্ত জুড়ে দেয়। পুলিশ এ সমাবেশকে মতিঝিলের শাপলা চত্ত্বর থেকে দৈনিক বাংলা মোড় পর্যন্ত সীমিত রাখার জন্য নির্দেশ দেয়। এর বাইরে মাইক স্থাপনের অনুমতি দেয়নি। অনুমতি দেয়নি আগে ভাগে মঞ্চ নির্মাণেরও। নির্দেশ দিয়েছিল সমাবেশে কোন রাজনৈতিক তথা সরকার বিরোধী বক্তব্য না রাখার।সে সাথে হুমকি দিয়েছিল,শর্তগুলি মানা না হলে যখন তখন সমাবেশের অনুমতি প্রত্যাহার করে নিবে। তাছাড়া লংমার্চে আসার পথে কুমিল্লা,ফরিদপুরসহ নানা স্থানে মিছিলের উপর সরকারি দলের গুন্ডাদের হামলা হয়েছে। চট্টগ্রামে বহুবাস ভাঙ্গচুর হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ দীর্ঘপথ পায়ে হেঁটে যিকর করতে করতে ঢাকায় এসেছে। আসার পথে পথের দুপাশের গ্রামের মানুষ তাদেরকে খাদ্যপানীয় দিয়ে আপ্রায়ন করেছে। সরকারি বাধাবিপত্তি সত্ত্বেও তাই লংমার্চ ব্যর্থ হয়নি। বরং ক্ষতি হয়েছে সরকারেরই। তাতে বসন খুলে গেছে খোদ আওয়ামী লীগের। আওয়ামী লীগ যে ইসলামের কতটা জঘন্য শত্রু এবং গণবিরোধী সেটি তারা নিজেরাই সমগ্র দেশবাসীর সামনে তুলে ধরলো। ফলে তাদের চরিত্র তুলে ধরতে হেফাজতে ইসলামকে আর বাড়তি কিছু করার প্রয়োজন পড়েনি।

শুরু হলো বিরামহীন জিহাদ:
মু’মিনের জীবনে জিহাদে বিরাম নেই।ব্যক্তির জীবনে প্রকৃত সফলতাটি তো আসে জিহাদে বিজয়ী হওয়ার মধ্য দিয়ে।জিহাদ কখনো হয় নিজের নফসের বিরুদ্ধে।কখনো হয় শয়তানি শক্তির রাজনৈতীক,সামরিক ও সাংস্কৃতিক আধিপত্যের বিরুদ্ধে।স্বেচ্ছাচারি নফসের আধিপত্যের বিরুদ্ধে জিহাদকে বলা হয় জিহাদে আকবর অর্থাৎ বড় জিহাদ। আর শয়তানি শক্তির রাজনৈতীক ও সামরিক আধিপত্যের বিরুদ্ধে জিহাদকে বলা হয় জিহাদে আছগর তথা ছোট জিহাদ। মুসলমানের আমৃত্যু বিচরণ হলো এ দুই জিহাদের অঙ্গণে। জিহাদে আকবরে যারা বিজয়ী হয় তারাই যোগ দেয় জিহাদে আসগরে। এমন জিহাদে পরাজয়ের অর্থঃ শয়তানের কাছে বশ্যতা।তখন ব্যক্তির নফস শয়তানের এজেন্ট বা গোলামে পরিণত হয়। শয়তান তখন তার দখলদারি প্রতিষ্ঠা করে এমন গোলাম ব্যক্তির বুদ্ধি-বিবেক ও রাজনীতি-সংস্কৃতির উপর। শয়তানের হাতে অধিকৃত এমন দাস-ব্যক্তিরাই পাপাচারে লিপ্ত হয় এবং পরিণামে জাহান্নামে গিয়ে পৌঁছে।



শয়তানের এজেন্ডা শুধু ব্যক্তিকে পথভ্রষ্ট করা নিয়ে নয়,বরং সমাজ ও রাষ্ট্রকে নিয়েও।ব্যক্তির পথভ্রষ্টতা বাড়াতেই শয়তান ও তার এজেন্টগণ রাষ্ট্রীয় শক্তিকে কাজে লাগাতে চায়। প্রতি দেশেই শয়তানি শক্তির লাগাতর প্রচেষ্টা তাই সমাজ,সংস্কৃতি ও রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের উপর দখলদারি প্রতিষ্ঠার।শয়তানের সে দখলদারি থেকে নিজেকে এবং সে সাথে পরিবার,সমাজ ও রাষ্ট্রকে বাঁচানোর তাগিদেই প্রতিটি মু’মিনের জীবনে জন্ম নেয় লাগাতর জিহাদ। অঙ্গারে আগুন থাকলে তাতে উত্তাপও থাকে। তেমনি প্রাণে ঈমান থাকলে সে প্রাণে জিহাদও থাকে। জিহাদ না থাকার অর্থ তাই ঈমানহীনতা। নবীজীর আমলে জিহাদে অংশ নেননি এমন একজন সাহাবাকে তাই খুঁঝে পাওয়া যাবে না। তাদের সে জিহাদ ছিল আল্লাহর দ্বীনের বিজয় আনার। সে সাথে শয়তানি শক্তির নির্মূলের। মু’মিনের ঈমান তাই শুধু তাঁকে মসজিদেই টানে না। টানে ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা ও অন্যায়ের নির্মূলে আমৃত্যু জিহাদেও। তাই যে দেশে যত বেশী ঈমানদারের সংখ্যা সেদেশে ততই আল্লাহর পথে জিহাদ। আল্লাহর শরিয়তি বিধান তখন সেদেশে বিজয়ী হয়। সমগ্র মানব ইতিহাসে ঈমানের সবচেয়ে বড় জোয়ার এসেছিল নবীজী (সাঃ)র আমলে মদিনায়। ফলে মদিনার ঘরে ঘরে সেদিন শহীদ পয়দা হয়েছিল। ফলে সে জনপদে তাজমহল নির্মিত না হলেও নির্মিত হয়েছিল সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বহু মানুষ। মানবতা একমাত্র সেদিনই সমগ্র মানব ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। মহান আল্লাহপাক তো ফিরেশতাদের মাঝে তাদের নিয়েই গর্ব করে থাকেন। ইসলামের রাষ্ট্রের এটিই তো সবচেয়ে বড় নেয়ামত। অথচ আজকের ১৫ কোটি মুসলমানের বাংলাদেশে সেটি হয়নি। ফলে দেশটিতে পরাজিত হয়েছে ইসলাম। ইসলাম দুর্বল ভাবে বেঁচে আছে শুধু মসজিদ-মাদ্রাসার ক্ষুদ্র আঙিনায়। বেঁচে আছে নিছক জায়নামাযে;রাষ্ট্রের রাজনীতি,আইন-আদালত,প্রশাসন,শিক্ষা-­সংস্কৃতিতে নয়। ফলে সেকালে মদিনার বুক থেকে ইসলামের নামে বিশ্বশক্তি ও মানব ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ সভ্যতা নির্মাণের কাজ শুরু হলেও বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী ইতিহাস সৃষ্টি করছে দুর্বৃত্তিতে। মুজিবামলে পরিচিত পেয়েছিল ভিক্ষার তলাহীন ঝুড়ি রূপে। বাংলাদেশের এ ব্যর্থতার কারণ, দেশের ভূমি বা জলবায়ু নয়। বরং দেশটির উপর শয়তানের অনুগতদের পূর্ণ দখলদারি। শয়তান ও তার দাসদের হাতে এমন অধিকৃতি কি কোন দেশবাসীকে ভাল কিছু দিতে পারে? আবু জেহেল ও আবু লাহাব যেমন পারিনি,তেমনি মুজিব-হাসিনাও পারিনি।

জিহাদ যখন ফরজে আইন হয়:
দেশ যখন শয়তানি শক্তির হাতে অধিকৃত হয় এবং আইন-আদালত থেকে যখন বিলুপ্ত হয় আল্লাহর শরিয়তি বিধান তখন জিহাদ আর ফরজে কেফায়া থাকে না। নামায-রাযার ন্যায় তখন সেটি ফরজে আইনে পরিণত হয়। শয়তানের অধিকৃতি থেকে দেশকে উদ্ধারের কাজ তখন আর শুধু সরকারের হাতে সীমিত থাকে না। সেটি তখন প্রতিটি মুসলমানের দায়িত্বে পরিণত হয়। নামাযের আযানে হাজির না হওয়াটি যেমন ঈমানদারি নয়,বেঈমান শক্তির অধিকৃতি থেকে দেশমুক্তির জিহাদে অংশ না নেয়াটিও তেমনি ঈমানদারি নয়।নবীজী (সাঃ) এর ইন্তেকালের পর হযরত আবু বকর (রাঃ) যখন খলিফা হন তখন সাহাবীগণ তাঁকে জানিয়ে দেন, “হে আমিরুল মু’মিনিন,আপনি যদি কোরআনের বিধান ও নবীজী (সাঃ) সূন্নত থেকে দূরে সরে যান তবে তরবারি দিয়ে আপনাকে দ্বিখন্ডিত করে ফেলবো।” অথচ আজ যারা বাংলাদেশের শাসন ক্ষমতায় অধিষ্টিত তারা শুধু কোরআনের শরিয়তি বিধান ও নবীজী (সাঃ) সূন্নত থেকেই দূরে সরেনি, বরং আল্লাহর শরিয়তি বিধানকে আস্তাকুঁরে রাখাই তাদের রাজনৈতীক এজেন্ডা।অথচ অতীতে মুসলমানগণ রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ও শরিয়তের প্রতিষ্ঠায় শুধু রাজস্বই দেয়নি,শ্রম,মেধা এবং রক্তও দিয়েছে। মুমিনের জীবনের এটিই তো জিহাদ।বেতনভোগী চাকরবাকরদের দিয়ে এ পবিত্র জিহাদের কাজ হয় না। যখনই তাদের ঘাড়ে এ দায়িত্ব চাপানো হয়েছে তখনই সে চাকরেরা নিজেরাই রাজা হয়ে বসেছে। মুসলিম ইতিহাসে এরাই মীর জাফর রূপে পরিচিত। তারা সহযোদ্ধা ও মিত্র হয়েছে বিদেশী কাফেরদের,এবং ডেকে এনেছে বিদেশী কাফেরদের লুন্ঠন ও শাসন। ফলে তাদের হাতে মু্সলিম দেশের স্বাধীনতা বাঁচেনি।আল্লাহর শরিয়তি বিধানের প্রতিষ্ঠাও হয়নি।বাংলাদেশে এ চাকর-বাকরগণই নামাযী নাগরিকদের রাজস্বের অর্থে মদ আমদানি করে,পতিতাপল্লি পাহারাদারির ব্যবস্থা করে এবং সূদি ব্যাংক প্রতিষ্ঠার ন্যায় নানারূপ পাপের আবাদ বাড়ায়। সর্বোপরি এরাই ইসলামের বিজয়কে অসম্ভব করে রাখে। তাই প্রশ্ন হলো, অপরাধি কি শুধু ব্লগারগণ? হাসিনা সরকার কি কম অপরাধি? ব্লগারদের অপরাধ তারা আল্লাহ, তাঁর রাসুল ও কোরাআন-হাদীসের বিরুদ্ধে অপমানকর কুৎসা লিখেছে। আর সরকার সংবিধান থেকে আল্লাহর উপর আস্থার বানিকে হঠিয়েছে। উভয়ের লক্ষ্য এক ও অভিন্ন। উভয়ই চায় মহান আল্লাহর অসম্মান।চায় রাষ্ট্রীয় মঞ্চ থেকে ইসলামকে সরাতে। তাই বাংলাদেশের আজকের এজেন্ডা কি স্রেফ ব্লগারদের শাস্তিদান?

শত্রুর দুর্গে আঘাত হানার এখনই সময়:
১৯৭৫ ছাড়া আওয়ামী লীগ আর কখনোই রাজনীতিতে এতটা বিপর্যয়ের মুখে পড়েনি যতটা এখন পড়েছে। ফলে তাদের দুর্গে আঘাত আনার এখনই সময়। এ সুযোগ হাতছাড়া হলে শুধু ইসলামপ্রেমী ও দেশপ্রেমী মানুষেরই বিপদ বাড়বে না,বিপদ বাড়বে বাংলাদেশের স্বাধীনতার। মাত্র ক’দিন আগেও আওয়ামী লীগ শাহবাগীদের মাধ্যমে দেশের রাজনীতির দখলদারি নিজ হাতে নিয়ে নিয়েছিল। এখন তারা গভীর গর্তে গিয়ে পড়েছে। সে শাহবাগীদের তারা মাথায় তুলেছিল, যাদেরকে তারা দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের বীর যোদ্ধা বলে আখ্যায়ীত করেছিল তাদেরকে এখন জেলে তুলতে বাধ্য হচ্ছে।
আওয়ামী লীগ ইসলামের যে কতবড় শত্রু সেটি তারা কখনোই গোপন রাখেনি। শেখ মুজিব ১৯৭০য়ের নির্বাচনে ভোট নিয়েছিলেন এ ওয়াদ দিয়ে যে,কোরআন-হাদীসের বিরুদ্ধে কোন আইন তৈরী করা হবে না। অথচ ক্ষমতায় এসে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের যেখানেই ইসলাম,মুসলমান এবং কোরআনের আয়াত ছিল সেখান থেকেই ইসলাম ও কোরআনের আয়াত সরানোর কাজ শুরু করে। পবিত্র কোরআনের বানি ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোগ্রামে,সে বানি শেখ মুজিবের দানবীয় থাবা থেকে বাঁচেনি। ইসলাম ছিল নজরুল ইসলাম কলেজের গায়ে। সেখান থেকেও ইসলাম বিলুপ্ত করা হয়। মুসলিম শব্দটি ছিল জাহাঙ্গিরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে।সেখান থেকেও মুসলিম নামটি কর্তিত হয়। অথচ ভারতে বানারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়,কলকাতায় হিন্দু কলেজের ন্যায় বহু প্রতিষ্ঠান আছে যার সাথে হিন্দু নামটি জড়িত। অন্যদের হাতে বাংলাদেশের সংবিধানে আল্লাহর উপর আস্থার ঘোষণাটি যুক্ত হয়েছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগের সে পবিত্র বানি ভাল লাগেনি। ২০০৮ সালে নির্বাচিত হওয়ার পরই আল্লাহর উপর আস্থার সে ঘোষণাটি তারা বিলুপ্ত করে দেয়।

মুজিব নাস্তিক কম্যুনিষ্টদের রাজনীতিকে শুধু বৈধতাই দেয়নি। তাদেরকে তিনি হাসিনার ন্যায় রাজনীতির পার্টনার রূপে গ্রহণ করেছিলেন। অপরদিকে দেশের ইসলামপন্থিদের রাজনীতিকে তিনি আইন করে নিষিদ্ধ করেছিলেন। অথচ ইসলামে রাজনীতি না করাটাই অনৈসলামি। রাজনীতি করেছেন নবীজী (সাঃ) ও তারা সাহাবায়ে কেরাম। তাদের সে রাজনীতি ভোটদানের রাজনীতি ছিল না,সেটি ছিল রক্তাত্ব জিহাদের মাধ্যমে দেশের শাসনক্ষমতা হাতে নেয়ার। মুসলমান যেখানে নামাযের ইমামতি কোন বেনামাজীকে দিতে পারে না,তেমনি রাষ্ট্রের ইমামীতে বা নেতৃত্বেও কোন বেনামাজী, বেপর্দা ও ইসলামে অঙ্গিকারশূণ্য ব্যক্তিকে দিতে পারে না। সেটি হলে নবীজীর সূন্নত পালন হয় না। বরং গাদ্দারি হয় আল্লাহতায়ালা,তাঁর রাসূলে পাক (সাঃ)ও ইসলামের মূল আক্বিদার সাথে।তখন আল্লাহর শরিয়তি বিধান আস্তাকুঁরে গিয়ে পড়ে।কোন ঈমানদার ব্যক্তি কি আল্লাহর দ্বীনের এমন অপমান কি মেনে নিতে পারে? অথচ বাংলাদেশে তো সেটিই হয়েছে।

আলেম নামধারি কিছু পথভ্রষ্ট ও ইসলামশূন্য ব্যক্তি আওয়ামী সরকারকে জনরোষ থেকে বাঁচাতে বলা শুরুকরেছে আল্লাহই ইসলামের রক্ষক,অতএব ইসলামের রক্ষায় বান্দাহর কোন দায়িত্ব নেই। অর্থাৎ তাদের কথা,মুসলমানের কাজ আল্লাহর দ্বীনের পরাজয় ও অবমাননাটি নীরবে দেখার। তাদের কিছু করার নাই। প্রশ্ন হলো,ইসলামের উপর এতবড় অজ্ঞতা নিয়ে কোন ব্যক্তি আলেম দূরে থাক,মুসলমানও কি হতে পারে? অথচ হাসিনা সরকার তাদেরকে আলেম রূপে চিত্রিত করছে। আল্লাহতায়ালা অবশ্যই ইসলামের রক্ষক। তবে ইসলাম রক্ষণের কাজে আল্লাহর খলিফা রূপে কাজ করে মুসলমানগণ। নবী (সাঃ) ও তার সাহাবাগণকে তো সে কাজেই বহুবার জিহাদ লড়তে হয়েছে। সে জিহাদে যেমন নিজেদের শহীদ হতে হয়েছে,তেমনি বহুশত্রুকে হত্যাও করতে হয়েছে।এবং সে রক্তাত্ব লড়াইয়ের মধ্য দিয়েই আল্লাহর ভূমি আল্লাহর শত্রুদের দখলদারি থেকে মুক্ত হয়েছে।আজও কি এর বিকল্প আছে। এ গুরুভার পালনের জন্যই মুসলমান হওয়ার অর্থই হলো আল্লাহর সাহায্যকারি হয়ে যাওয়া,এবং তাঁর রাস্তায় লাগাতর মুজাহিদ হয়ে যাওয়া। পবিত্র কোরআনে তাই বলা হয়েছে,“হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহর সাহায্যকারি হয়ে যাও।”–(সুরা সাফ,আয়াত ১৪)।আল্লাহর এ সাহায্যকারিদের কাজ কি তাই আল্লাহর শরিয়তের বিধানের পরাজয় দেখে সেটিকে নীরবে হজম করে যাওয়া? বরং পবিত্র কোরআনে অসংখ্য বার বলা হয়েছে,“আল্লাহর রাস্তায় তোমরা জিহাদ করো জান মাল দিয়ে।” তাই যেখানেই ইসলাম ও মুসলমানের উপর হামলা হয়েছে সেখানেই মুসলমানগণ জানমাল নিয়ে তার প্রতিরোধ করেছে। আর এ বিভ্রান্ত ব্যক্তিগণ বলছে,আল্লাহর দ্বীনের হেফাজতের দায়িত্ব হেফাজতে ইসলামকে কে দিল?

হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা দাবি :
হেফাজতে ইসলাম তাদের আন্দোলনকে শুধু ব্লগারদের শাস্তির দাবীর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেনি। তাদের এ আন্দোলনের এটি এক গুরুত্বপূর্ণ দিক। কারণ ইসলামি বিরোধী ব্লগারগণই বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রকৃত রোগ নয়,এটি সিম্পটম মাত্র। রোগ আরো গভীরে। সেটি যেমন দুর্বৃত্ত কবলিত সেক্যুলার প্রশাসন,শিক্ষাব্যবস্থা,বিচার ব্যবস্থা ও সংস্কৃতি,তেমনি দেশের সংবিধান।শুধু দেহের জ্বর কমালে নিউমোনিয়া সারে না।সেজন্য নিউমোনিয়ার চিকিৎসা দরকার।তাই বাংলাদেশে মূল ব্যাধি সারাতে হলে শুধু ব্লগারদের শাস্তি দিলে হবে না,মূল রোগ সেক্যুলার রাজনীতির স্থলে ইসলামের বিজয়ও আনতে হবে। আল্লাহর জমিনকে একমাত্র আল্লাহর সার্বভৌম মালিকানায় দিতে হবে এবং একমাত্র তারই শরিয়তি বিধান প্রতিষ্ঠা করতে হবে।হেফাজতে ইসলামের কাছে সেটি যে গুরুত্ব পেয়েছে সেটি তাদের ১৩ দফা দাবীর মধ্যে প্রকাশ পেয়েছে। ১৩ দফা দাবী হলো নিম্নরূপঃ

১. সংবিধানে ‘আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনঃস্থাপন এবং কুরআন-সুন্নাহ্বিরোধী সব আইন বাতিল।

২.আল্লাহ,রাসূল (সাঃ)ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে কুৎসা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে জাতীয় সংসদে আইন পাস।

৩. কথিত শাহবাগী আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী স্বঘোষিত নাস্তিক-মুরতাদ এবং প্রিয়নবীর (সাঃ) শানে জঘন্য কুৎসা রটনাকারী ব্লগার ও ইসলামবিদ্বেষীদের সব অপপ্রচার বন্ধসহ কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা।

৪. ব্যক্তি ও বাকস্বাধীনতার নামে সব বেহায়াপনা,অনাচার,ব্যভিচার,নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা,মোমবাতি প্রজ্বলনসহ সব বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ বন্ধ করা।

৫. ইসলামবিরোধী নারীনীতি,ধর্মহীন শিক্ষানীতি বাতিল করে শিক্ষার প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত ইসলাম ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা।

৬. সরকারিভাবে কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা এবং তাদের প্রচারণা ও ষড়যন্ত্রমূলক সব অপতৎপরতা বন্ধ করা।

৭. মসজিদের নগরী ঢাকাকে মূর্তির নগরীতে রূপান্তর এবং দেশব্যাপী রাস্তার মোড় এবং কলেজ-ভার্সিটিতে ভাস্কর্যের নামে মূর্তি স্থাপন বন্ধ করা।

৮. জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের সব মসজিদে মুসল্লিদের নির্বিঘ্নে নামাজ আদায়ে বাধা-বিপত্তি ও প্রতিবন্ধকতা অপসারণ এবং ওয়াজ-নসিহত ও ধর্মীয় কার্যকলাপে বাধাদান বন্ধ করা।

৯. রেডিও, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় দাড়ি-টুপি ও ইসলামি কৃষ্টি-কালচার নিয়ে হাসিঠাট্টা এবং নাটক-সিনেমায় খল ও নেতিবাচক চরিত্রে ধর্মীয় লেবাস-পোশাক পরিয়ে অভিনয়ের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের মনে ইসলামের প্রতি বিদ্বেষমূলক মনোভাব সৃষ্টির অপপ্রয়াস বন্ধ করা।

১০. পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশব্যাপী ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত এনজিও এবং খ্রিষ্টান মিশনারিদের ধর্মান্তকরণসহ সব অপতৎপরতা বন্ধ করা।

১১. রাসূলপ্রেমিক প্রতিবাদী আলেম-ওলামা,মাদরাসাছাত্র এবং তৌহিদি জনতার ওপর হামলা, দমনপীড়ন,নির্বিচার গুলিবর্ষণ ও গণহত্যা বন্ধ করা।

১২. সারাদেশের কওমি মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষক,ওলামা-মাশায়েখ এবং মসজিদের ইমাম-খতিবকে হুমকি-ধমকি ও ভয়ভীতি দানসহ তাদের বিরুদ্ধে সব ষড়যন্ত্র বন্ধ করা।

১৩. অবিলম্বে গ্রেফতারকৃত সব আলেম-ওলামা,মাদরাসাছাত্র ও তৌহিদি জনতাকে মুক্তিদান, দায়েরকৃত সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং আহত ও নিহতদের ক্ষতিপূরণসহ দুষ্কৃতকারীদের বিচারের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি প্রদান।

যুদ্ধাবস্থায় দেশ: 
বাংলাদেশ আজ শুধু দ্বিধা বিভক্তই নয়,রীতিমত যুদ্ধও শুরু হয়েছে। এক দিকে ইসলামের পক্ষের শক্তি। অপর দিকে ইসলামের বিপক্ষ শক্তি। ইতিমধ্যেই দুইশতের মত মানুষ শহীদ হয়ে গেছেন। বহু হাজার আহত হয়েছেন। ইসলামের পক্ষের হাজার হাজার মোজাহিদ এখন জালেম শাসকের জিন্দানে। অনেকের বাড়ি-ঘর জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। দেশে যখন এরূপ যুদ্ধ শুরু হয় তখন কি সেদেশে নিরপেক্ষ বলে কেউ থাকে না। যুদ্ধাবস্থায় সবাই নিজ নিজ পক্ষের সাথে একাত্ম হয়ে যায়।তাই খন্দকের যুদ্ধে আরবের পৌত্তলিক,ইহুদী তথা ইসলামবিরোধী সকল শক্তি একতাবদ্ধ হয়ে মদিনার উপর হামলা করেছিল।তেমনি বাংলাদেশেও যত কাফের,ফাসেক,মোনাফিক,সমাজতন্ত্রি,নাস্তিক -তথা আল্লাহর বিরুদ্ধে যত রকমের অবাধ্য বিদ্রোহী আছে তারা সবাই আজ একই মঞ্চে একতাবদ্ধ। তাদের নেতৃত্ব দিচ্ছে আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা। দেশের বাইরেও তাদের মিত্র রয়েছে। সে মিত্রদেরই একজন ভারতের প্রেসিডেন্ট প্রনব মুখার্জি সম্প্রতি তাদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করতে ছুটে এসেছিলেন দিল্লি থেকে।



আওয়ামী নেতাদের অসুস্থ্য চেতনা

চোর-ডাকাতগণ স্রেফ হাত-পা আর অস্ত্র নিয়ে চুরি-ডাকাতিতে নামে না। তাদের প্রতিটি অপরাধের পিছনে রোগাগ্রস্ত একটি চেতনাও কাজ করে। তেমনি ইসলামপন্থিদের জনসভায় যারা লগি-বৈঠা নিয়ে মানুষ হত্যায় নামে,ইসলামের রাজনীতি যারা নিষিদ্ধ করতে চায়,শরিয়তের প্রতিষ্ঠাকে যারা রুখতে চায়,খুঁজে খুঁজে ইসলামি বইপুস্তক যারা বাজেয়াপ্ত করে,আলেমদেরকে যারা কারারুদ্ধ করে,আলেমদের ফাঁসির রায় শুনে যারা মিষ্টি বিতরণ করে,-তাদের মগজেও একটি ভয়ানক দুষ্ট চেতনা কাজ করে।কোন শত্রুকে চিনতে হলে শুধু তার দৈহীক পরিচয়টি জানলে চলে না,তার মনের সে কুৎসিত পরিচয়টিও জানতে হয়।তাই আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের চিনতে হলে তাদের মনের সে পরিচয়টি জানাও অতি জরুরী। তাদের মাঝে ইসলামবিরোধী দুষ্টচেতনা যে কতটা ভয়ানক তার কিছু উদাহরণ দেয়া যাক। শুরু করা যাক দলের নেত্রী খোদ শেখ হাসিনা থেকে। বিগত ২০১১ সালের ৫ই অক্টোবর রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দির ও রামকৃষ্ণ মিশনে দুর্গা পূজা উপলক্ষে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে গিয়ে তিনি বলেছেন,“আমরা জানি এবং শুনেছি মা দুর্গা প্রত্যেক বছর কোনো না কোনো বাহন চড়ে আমাদের এ বসুন্ধরায় আসেন। এবার আমাদের দেবী এসেছেন গজে চড়ে। জানি, গজে চড়ে এলে এ পৃথিবী ধন-ধান্যে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে—তা আমরা দেখতেই পাচ্ছি। এবার ফসল ভালো হয়েছে। মানুষ সুখেই-শান্তিতে আছে। দেশের জিডিপি বৃদ্ধি পেয়ে ৭ ভাগে দাঁড়িয়েছে।”-(দৈনিক আমার দেশ,৬ই অক্টোবর, ২০১১)। এ কথাগুলো শেখ হাসিনা কোনরুপ নেশার ঘোরে বলেননি। জ্বরের প্রকোপে বিকার গ্রস্ততায়ও বলেননি। সুস্থ্য মাথায় “জানেন এবং শুনেছেন” এমন দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে বলেছেন। দুর্গাকে তিনি আমাদের দেবী বলেছেন।“পৃথিবী ধন-ধান্যে পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে এবং জিডিপি বেড়েছে” এতে দুর্গা যে গজে চড়ে এসেছে সে বিশ্বাসটি আরো মজবুত হয়েছে -সেটিও বলেছেন। শেখ হাসিনা এ কথাগুলো বলেছেন মনের মাধুরি মিশিয়ে, এবং পুজা মণ্ডপে দাঁড়িয়ে। এমন অবস্থায় মানুষ যখন কথা বলে তখন সে অন্যের শেখানো কথা বলে না, একান্ত নিজের মনের কথাগুলোই অতি নির্ভয়ে বলে। প্রশ্ন হলো, দেবদেবীর উপর এমন প্রগাড় বিশ্বাসী ব্যক্তিকে কি মুসলমান বলা যায়? কোন ব্যক্তি মুসলমান হওয়ার জন্য কালেমায়ে শাহাদত পাঠের মাধ্যমে সেটির প্রকাশ্যে ঘোষনা দেয়। সে যে মুসলমান সে তার সে মৌখিক উচ্চারণের মধ্যেই প্রকাশ পায়। তখন তার ঈমানদার হওয়ার বিষয়টি শুধু মহান আল্লাহতায়ালাই নন, তাঁর বান্দারাও জানতে পারে। আর পৌত্তলিক অমুসলমানটি তার অমুসলমান হওয়ার ঘোষণাটি দেয় পুজামন্ডমে গিয়ে দেব-দেবীর উপর তার নিজের বিশ্বাসটি জানিয়ে দিয়ে। হাসিনা তো দেবদেবীর উপর সে বিশ্বাসটিই ঢাকেশ্বরী মন্দির ও রামকৃষ্ণ মিশনে দুর্গা পূজা উপলক্ষে পূজামণ্ডপে গিয়ে ব্যক্ত করেছেন। তার মনের বিশ্বাসের সে কথাটি তার মুখের ভাষায় এতটা প্রকট ভাবে প্রকাশ পাওয়ার পরও কি তার ঈমান জানার জন্য তার অদৃশ্য অন্তরের দিকে তাকানোর প্রয়োজন আছে? অথচ শতকরা ৯০ ভাগ মুসলমানের বাংলাদেশ আজ এ পৌত্তলিক নেত্রীর হাতে অধিকৃত। এমন ব্যক্তি যখন বার বার হজ-ওমরাহ করে নির্বাচন কালে মাথায় কালো পট্টি বাঁধে,হাতে তসবিহ নেয় এবং রাস্তার মাঝে মিছিল থামিয়ে নামাযে দাঁড়িয়ে যায়,তাকে কি বলা যাবে? ধর্মের নামে দেশের সংখ্যাগরিষ্ট মানুষকে ধোকা দেয়ার উদ্দেশ্য নিয়েই তিনি যে এসব বেশ ধরেন তা নিয়ে কি সামান্যতম সন্দেহ থাকে? তার পিতাও এরূপ গণতন্ত্রের বেশ ধরে গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে শত্রুতা করেছেন।এবং প্রচণ্ড শত্রুতা করেছেন ইসলামের সাথে।

আওয়ামী নেত্রীর মশকরা:
রোগটি শুধু শেখ হাসিনার একার নয়। ছড়িয়ে পড়েছে তার অন্যান্য সাথীদের মাঝেও। তারও কিছু উদাহরণ দেয়া যাক। আওয়ামী লীগের আরেক গুরুত্বপূর্ণ নেত্রী হলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য,কৃষি মন্ত্রী ও সাবেক ছাত্র ইউনিয়ন নেত্রী মতিয়া চৌধুরী। ইসলাম থেকে তার ভ্রষ্টতা এতটাই প্রকট যে,তিনি তার এক ভাষণে এক নতুন উম্মতের সন্ধান দিয়েছেন। বিএনপি-জামায়াতকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেছেন,“তারা রাসূলে পাক (সাঃ)-এর ইসলামে বিশ্বাস করে না। বিএনপি হচ্ছে জিয়াউর রহমানের উম্মত,তাদের দোসর জামায়াত হচ্ছে নিজামীর উম্মত,আর আমরা যারা আওয়ামী লীগ করি তারা মহানবীর (সাঃ)উম্মত।”-(আমারদেশ, ২১ মার্চ,২০১০)।ধর্ম,মহানবী (সাঃ)ও উম্মত নিয়ে এই নেত্রীর মশকরা যে কতটা রুচীহীন ও অজ্ঞতাপ্রসূত এ হলো তার নমুনা। প্রশ্ন হলো,আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মহানবীর সূন্নত হওযার প্রমাণ কি এই,সংবিধান থেকে তারা আল্লাহর উপর আস্থার বানি বিলুপ্ত করবে? এই কি মহান নবী (সাঃ)র উম্মত হওয়ার লক্ষণ? আল্লাহর উপর আস্থার বানিটি সরিয়ে তারা কি প্রমাণ করলো? তারা যে ইসলাম থেকে কতদূরে সেটিই কি প্রমাণিত হলো না? তাছাড়া সর্বাবস্থায় মহান আল্লাহর উপর আস্থা ও নির্ভরশীলতা কি এতই সহজ? নাস্তিক এবং আল্লাহর হুকুমের বিরুদ্ধে যারা বিদ্রোহী তাদের জীবনে কি সেরূপ আস্থা কি সৃষ্টি হয়? আস্থা তো তখনই আসে যখন আল্লাহর উপর ঈমান গভীরতর হয়। ঈমান ছাড়া কি আল্লাহর উপর আস্থা সৃষ্টি হয়? তারা যে কাজটি করলো সে কাজ তো বেঈমানের। তাছাড়া আল্লাহর উপর আস্থার অর্থ কি? অর্থ কি শুধু তার করুণার উপর আস্থা? বরং সেটি হলো তাঁর দেয়া শরিয়তি বিধান ও তাঁর দেখানো সিরাতুল মোস্তাকীমের উপর নির্ভরশীলতা। মহান আল্লাহর উপর মু’মিনের প্রবল আস্থাটি শুধু তার মনের ভূবনে সীমিত থাকে না,নিছক তার আমল,দোয়া ও ইবাদতেই প্রকাশ পায় না। বরং প্রকাশ পায় তার রাজনীতি,সংস্কৃতি,অর্থনীতি ও আচরণের মধ্যেও।সে আস্থা নিয়েইঈমানদার ব্যক্তি মাত্রই আল্লাহর দ্বীনের বিজয় চায়,রাষ্ট্রের বুকে শরিয়তি বিধানের প্রতিষ্ঠা চায় এবং এজন্যই সে ইসলামি বিপ্লব চায়। সে লক্ষ্যে সে যেমন জিহাদ করে,সে জিহাদে তেমনি জানমালের কোরবানীও পেশ করে। অথচ কাফের ও মুনাফিকের বড় বেঈমানিটা হলো আল্লাহর শরিয়তি বিধানের বিরুদ্ধে। তারা সে বিধানকে আস্তাকুঁরে ফেলে প্রতিষ্ঠিত করে কাফেরদের দেয়া আইন ও বিচার ব্যবস্থা। মতিয়া চৌধুরি ছাত্রজীবনে রূশপন্থি সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার রাজনীতি করছেন। আর এখন লড়ছেন ইসলামের বিজয় রুখতে। লড়ছেন শরিয়ত প্রতিষ্ঠা রুখতে। একাজ তো শয়তানের উম্মতের,ফলে তিনি নবীজী(সাঃ)র উম্মত হওয়ার দাবী করেন কোন যুক্তিতে?

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা এবং আওয়ামী লীগের আরেক নেতা এইচ টি ইমাম কিছুদিন আগে বলেছেন, “আওয়ামী লীগই দেশের একমাত্র ইসলামি দল”। তিনি আরো বলেছেন,দেশে ইসলামি পরিবার থাকলে একমাত্র বঙ্গবন্ধুর পরিবারই আছে। রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আওয়ামী ওলামা লীগ আয়োজিত “ইসলামের দৃষ্টিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এইচ টি ইমাম আরো বলেন,“দেশে ইসলাম টিকিয়ে রেখেছে আওয়ামী লীগ।এই ইসলামের প্রবর্তক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।”-(আমারদেশ ও নয়াদিগন্ত,এপ্রিল ৩,২০১০)। আজ আওয়ামী লীগ শিবির থেকে ইসলামের নামে রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবী উঠেছে। প্রশ্ন হলো,একমাত্র ইসলামি দল যদি আওয়ামী লীগ হয় তবে তো জামায়াতে ইসলামী বা অন্য কোন দল তো কোন ইসলামি দলই নয়! সেটি হলে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার দাবী কেন? নিষিদ্ধ করা উচিৎ তো তবে আওয়ামী লীগকে।শেখ হাসিনার আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম ঠাট্টা করেছেন মহান আল্লাহকে নিয়ে। তিনি বলেছেন,"লাখ লাখ কোটি কোটি বছর পর আল্লাহ যদি আমাদের বিচার করতে পারেন তবে আমরা এখন এসব যুদ্ধাপরাধীর বিচার করতে পারব না কেন?" নয়াদিগন্ত,আমারদেশ,মার্চ ২১,২০১০)। তিনি বলতে চেয়েছেন,আল্লাহর অধিকার থাকলে সে অধিকারও তাদেরও কাছে। কত বড় স্পর্ধার কথা!কাফের দেশেও কি আল্লাহর বিরুদ্ধে এতবড় বেয়াদবীপূর্ণ কথা বলা হয়? এথেকে প্রমাণ মেলে, আওয়ামী লীগ আল্লাহর ও তার রাসূলের সবচেয়ে জঘন্য শত্রুদের রাজনীতির ময়দানে নামিয়েছে।শয়তান জানে তার পক্ষে বড় খেলোয়াড় কোনটি। সেটি আওয়ামী লীগও জানে। ফলে অতি পরিকল্পিত ভাবেই তাদেরকে মাঠে নামিয়েছে।এক্ষেত্রে তারা আল্লাহর বিরুদ্ধে সহযোদ্ধা রূপে পেয়েছে নাস্তিক ব্লগারদের। ফলে মহান আল্লাহতায়ালা ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনাকারি নাস্তিক ব্লগার মরলে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মৃত ব্যক্তিকে দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের শহীদ বলা হবে সেটিই কি স্বাভাবিক নয়?

মুজিবের অপরাধ ও মুজিব-ভক্তদের মুর্খতা:
মহান আল্লাহতায়ালা ও তাঁর বিধানের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের যে বিদ্রোহ ও অপরাধ সেটি একদিনে জন্ম নেয়নি। ইসলামের বিরুদ্ধে রক্ত চক্ষু বর্ষিত হয়েছিল খোদ শেখ মুজিবের পক্ষ থেকে। এবং সেটি বাংলাদেশ সৃষ্টির পর

...
লংমার্চ থেকে শিক্ষা নিয়ে মুরতাদদের শাস্তিসহ হেফাজতে ইসলামের
 সব দাবী মেনে নেয়ার আহবান মাজলিসুল উলামা ইউএসএ

নিউ ইয়র্ক: শত বাঁধা উপেক্ষা করে হেফাজতে ইসলাম ঘোষিত ৬ এপ্রিল লংমার্চ ও ৮ এপ্রিল হরতালকে সফল করার জন্য বাংলাদেশের ইসলাম প্রিয় জনতাকে অভিনন্দন জানিয়েছে মাজলিসুল ওলামা ইউএসএ।  লংমার্চ ও হরতালে হেফাজতে ইসলামের নেতা কর্মীদের উপর হামলা ও হত্যার নিন্দা জানিয়েছে সংগঠনটি। এছাড়াও হেফাজতে ইসলামের গ্রেফতারকৃত নেতা কর্মীর নিঃশর্ত মুক্তির দাবী করেছে আমেরিকায় বাংলাদেশী ইমাম, উলামা ও মুফতিগণের সংগঠন মাজলিসুল উলামা।

সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে মাজলিসুল ওলামা ইউএসএ’র সভাপতি মাওলানা রফিক আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান এসব কথা বলেন।

তারা বলেন, ইসলাম প্রিয় জনতার চাপে সরকার লংমার্চে অনুমতি দিলেও যানবাহন বন্ধ এবং নেতা কর্মীদের উপর হামলা ও গ্রেফতার করে সরকার মুনাফেকের পরিচয় দিয়েছে। অন্যদিকে লংমার্চকে বানচাল করার জন্য সরকার সমর্থক গুটিকয়েক নাস্তিকদের দিয়ে সরকার হরতাল ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশের তৌহিদী জনতা লংমার্চকে সফল করে মুরতাদদের বিরুদ্ধে ইতিহাস রচনা করেছে।

তারা বলেন, লংমার্চ থেকে শিক্ষা নিয়ে সরকার মুরতাদদের সর্বোচ্চ শাস্তি এবং হেফাজতে ইসলামের সব দাবী মেনে নিয়ে ইসলামী প্রিয় জনতাকে শান্ত করবে বলে আশা করি।  

তারা আরো বলেন, আল্লাহর প্রিয় হাবিব রাসূল (সাঃ) কে অবমাননাকারী মুরতাদদের বিচার ও হেফাজতের ইসলাম ঘোষিত ১৩ দফা দাবীর প্রতি প্রথম থেকে সমর্থন জানিয়ে নিউ ইয়র্কে কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছি। আগামীতেও নাস্তিকদের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলকে আমরা সব ধরণের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।



সংবাদ প্রেরক

মুফতি লুৎফুর রহমান ক্বাসিমী

প্রচারক সম্পাদক

মাজলিসুল উলামা ইউএসএ

Sunday, April 7, 2013

সভাপতি দেলোয়ারসহ ৮ শিবির নেতার মুক্তির দাবী করেছে নিউ ইয়র্কের সাবেক ছাত্র নেতারা





                             সভাপতি দেলোয়ারসহ ৮ শিবির নেতার মুক্তির

দাবী করেছে নিউ ইয়র্কের সাবেক ছাত্র নেতারা 



নিউ ইয়র্ক: বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. দেলাওয়ার হোসেনকে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতনের প্রতিবাদ জানিয়ে তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবী করেছেন নিউ ইয়র্কে বসবাসকারী সাবেক ছাত্র নেতারা। এছাড়াও সরকরের জুলুম নির্যাতন শিকার ছাত্র শিবিরের গ্রেফতারকৃত ৭ নেতার মুক্তির দাবী করেছে তারা। ছাত্র শিবির নেতাদের মুক্তি না দিলে সরকারকে কঠিন পরিনিতি ভোগ করতে হবে বলে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন নিউ ইয়র্কের সাবেক এ ছাত্র নেতারা। সোমবার এক বিবৃতিতে প্রবাসী সাবেক ছাত্র নেতারা এ দাবী জানান।


বিবৃতিতে নিউ ইয়র্কের সাবেক ছাত্র নেতারা বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকার ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতিসহ ৮ ছাত্র নেতার নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার করে রিমান্ডের নামে অমানুষিক নির্যাতন চালাচ্ছে। শিবির নেতাদের নির্যাতনের পরিণাম শুভ হবে না। মেধা ছাত্রদের প্রাণপ্রিয় সংগঠনের নেতাদের উপর জুলুম নির্যাতন এই সরকারের জন্য বুমেরাং হবে।

প্রসংঙ্গত অন্যান্য ছাত্র শিবির নেতারা হলেন- কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আতিকুর রহমান, প্রচার সম্পাদক আবু সালেহ মোঃ ইয়াহইয়া, ছাত্র আন্দোলন সম্পাদক শামসুল আলম গোলাপ, প্রকাশনা সম্পাদক মিজানুর রহমান, ছাত্র কল্যাণ দেলোয়ার হোসেন, সমাজ সেবা সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান আশু ও ঢাকা মহানগরী পশ্চিমের সভাপতি সাজ্জাদ হোসাইন।

তারা আরো বলেন, এই সরকার আইনের কোন তোয়াক্কা করছে না। ছাত্রশিবির নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে আইন না মেনেই অনেককে ২৪ ঘন্টার মধ্যে আদালতে হাজির করানো হচ্ছে না। গ্রেফতারের পর ৪/৫ নির্যাতন করে হাত পা ভেঙ্গে আদালতের হাজির করা হয়। শিবির সভাপতিকে নির্যাতনের ঘটনাও গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে। এই ধরণের নির্যাতন সুস্পষ্ট মানবাধিকার লংঘন। এখনো সময় থাকতে শিবির সভাপতিসহ ৮ ছাত্র নেতাকে নিঃশর্ত মুক্তি দিন। অন্যথায় নির্যাতন ও গণহত্যার অভিযোগে সরকারের বিরুদ্ধে আমরা জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনে নালিশ করতে বাধ্য হবো।


বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীর নিউ ইয়র্কে বসবাসাকারী ছাত্র নেতারা হলেন, আব্দুল্লাহ আল আরিফ, নঈম উদ্দিন, হারুন অর রশিদ, জসিম উদ্দিন, আলমগীর হোসাইন, মোহাম্মদ মোমিন, মাসুম আলী, মোহাম্মদ জিন্নাহ, তারেক হোসেন, সাখাওয়াত হোসেন, আকরাম উদ্দিন, আবু সায়েম, মাহবুবুর রহমান, রশিদ উদ্দিন, আলম চৌধূরী ও আরাফাত রহমান, রাসেদুজ্জামান রাসেদ, মঞ্জুরুল হক, আবু সায়েম, আব্দুল্লাহ আল মামুন ও মনির উদ্দিন প্রমুখ।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

Wednesday, April 3, 2013

মুরতাদ শাহরিয়ার কবিরকে গ্রেফতার দাবী



লংমার্চে মাজলিসুল ওলামার ইউএসএ'র সমর্থন
মুরতাদ শাহরিয়ার কবিরকে গ্রেফতার দাবী
নিউ ইয়র্ক: হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-এর আমীর আল্লামা আহমদ শফী  ঘোষিত ৬ এপ্রিল ঢাকা অভিমুখী ঐতিহাসিক লংমার্চের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে মাজলিসুল ওলামা ইঊএসএ। একইসঙ্গে অর্থনৈতিকসহ সব ধরণের সহযোগীতার ঘোষণা দেয় সংগঠনটি। লংমার্চকে সফল করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহবান জানিয়েছে মাজলিসুল ওলামা ইঊএসএ। বুধবার মাজলিসুল ওলামা ইউএসএ'র সভাপতি মাওলানা রফিক আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আবু সুফিয়ান যৌথ বিবৃতিতে লংমার্চে সমর্থন ব্যক্ত করে এ আহবান জানান। বিবৃতিতে লংমার্চ বানচালে ষড়যন্ত্রকারী মুরতাদদের গডফাদার শাহরিয়ার কবিরকের গ্রেফতারর দাবী জানান তারা।
বিবৃতিতে সংগঠনের নেতৃবৃন্দু বলেন, একদিকে লংমার্চের পূর্ব মুহুর্তে কতিপয় ব্লগার গ্রেফতার করে আইওয়াশ, অন্যদিকে সরকার সমর্থক নাস্তিক শাহরিয়ার কবিরের ঘাদানিকসহ সরকার পন্থী কয়েকটি সংগঠনটি দিয়ে হরতাল ঘোষণা করে লংমার্চকে বানচাল করার ষড়যন্ত্র চলছে। ৬ মার্চ লংমার্চ সফল করে বাংলাদেশী তাওহীদি জনতা আল্লাহর রাসূল (সাঃ) কে অবমাননাকারী মুরতাদদের সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিবে ইনশাল্লাহ। শাহরিয়ার কবিরকে মুরতাদদের গডফাদার উল্লেখ করে নেতৃবৃন্দু তাকে গ্রেফতারের দাবী জানান।
নেতৃবৃন্দু সরকারের প্রতি হুশিয়ারি করে বলেন, এখন সময় থাকতে ইসলাম প্রিয় জনতার লংমার্চে সহযোগিতা করুন, অন্যথায় মুরতাদদের সমর্থনকারী হিসেবে বাংলাদেশের জনগণ আপনারদেরকে সমোচিত জবাব দিবে।
হেফাজতে ইসলাম ঘোষিত ১৩ দফা দাবীর প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দু বলেন, নাস্তিক মুরতাদদের বিরুদ্ধে চলমান ইসলাম প্রিয় মানুষের আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য কতিয়পয় গণমাধ্যম মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব গণমাধ্যমকে ইসলাম ও রাসূল (সাঃ) সম্মানে আরো দায়িত্বশীল হওয়ার আহবান জানান তারা।  সংবাদ বিজ্ঞপ্তি


সংবাদ প্রেরক
ইমাম মুফতি লুতফুর রহমান ক্বাসিমী
প্রচার সম্পাদক, মাজলিসুল ওলামা ইউএসএ


ইয়াহিয়া খানের পথ সর্বনাশা পথ !



ইয়াহিয়া খানের পথ সর্বনাশা পথ !

সাঈদ তারেক


যাই মনে করুন চারদিকে যা দেখছি তাতে একাত্তুরের ইয়াহিয়া সরকারের সাথে বর্তমানের আওয়ামী সরকারের কাজে কর্মের খুব একটা অমিল খূঁজে পাচ্ছিনা। সেদিন আমরা ছিলাম তরুন প্রজন্ম। আমাদের একটি অংশ যুদ্ধে, বড় অংশটি সড়াসড়ি ফিল্ডে না থাকলেও নেপথ্যে থেকে যুদ্ধের সহায়তা করে চলেছে। দ্রত একটি অংশ সরকারি বাহিনীর প্রটেকশনে থেকে বিরিয়ানি মুরগী মোসাল্লাম সহযোগে ‘স্বাধীনতার’ (পাকিস্তানের) চেরাগ জ্বালিয়ে যাচ্ছে। 

সারা দেশের মানুষ কোন পে সেদিন ইয়াহিয়া বুঝতে পারে নাই, আজও মনে হচ্ছে না এরা বুঝতে পারছে। তখন পত্র পত্রিকা রেডিও খুললে (সে সময় টিভি শুধু মুষ্ঠিমেয় কয়েকজনের বাসায়) শুধু হুংকার, মার দেঙ্গে তোড় দেঙ্গে কুচাল দেঙ্গে মিটা দেঙ্গে। আজও চারিদিকে একই আওয়াজ। শুধু ভাষা বদলেছে, হত্যা করো জবাই করো, কঠোর হস্তে দমন করা হবে সহ্য করা হবেনা নির্মূল করা হবে ধ্বংশ করা হবে। এই তোড় দেঙ্গে মিটা দেঙ্গে করতে করতে সেদিন ইয়াহিয়া খান পাকিস্তানকেই মিটিয়ে দিয়ে গেছে আজ ‘ধ্বংশ করা হবে’ করতে করতে এরা দেশেরই বারোটা বাজাতে চলেছে।

দুনিয়ার তাবৎ স্বৈরাচারদের জন্য ইয়াহিয়া এতবড় একটা শি
ক্ষ রেখে গেলো তারপরও যদি কেউ ইতিহাসের সেই সর্বনাশা পথটিই আঁকড়ে ধরে তাকে কি বলা যেতে পারে! মানুষ তো অমর নয়, একদিন সবাইকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহন করতে হবে। তেমনি মতাও তো চিরস্খায়ী নয়, একদিন ছাড়তেই হবে, দু’দিন আগে বা পরে। 


এই 
ক্ষমতার  জন্য এত কিছু করতে হবে! আমাদের দেশে রাজনীতিকরা ক্ষমতায় আসে চুরি বাটপারি করে আখের গোছানোর জন্য। হয়েছে তো! এক টার্ম কি যথেষ্ট নয়! পরের টার্মের লাইসেন্সও পাওয়া যায় যদি আমলনামা ভাল থাকে। চারটা বছর ধরে শুধু ধর মার কাট না করে একটু সভ্যভাবে চললে হতো না! আমাদের কাছে তো যাহা বাহান্ন তাহা তেপ্পান্ন, যাহা আওয়ামী লীগ তাহা বিএনপি। 


পাঁচ বছর এরা পাঁচ বছর ওরা এই চিরস্থায়ী বন্দোবস্তটা তো আমরা মেনেই নিয়েছি। বিশ বছর চললো এভাবে এই বেলা এসে মানিনা বললে অন্যে মানবে কেন!

গন্ডগোলটা বেঁধেছে এইখানে এসে। এবার এসে ঠিক করে ফেললো আর যাবো না। আদালতকে দিয়ে পঞ্চম সংশোধনী বাতিল আদালতের দোহাই দেয় তত্বাবধায়ক বাতিল মূল প্রতিপ বিএনপিকে কাবু রাখতে জামাত নিধন যজ্ঞ- টার্গেট ওইটাই, মাঠে প্রতিপ যাতে কেউ না থাকে। নির্বাচনের একটা মকশো করিয়ে বসে পড়া যায় পরের পাঁচ বছরের জন্য। গোমড় কথা এইটা, বাদ বাকি- জঞ্জাল সাফ চেতনা প্রজন্ম জাগরন সব বকোয়াচ, ভূয়া কথা। পাবলিককে চকমা দেয়া, একটা ঘোরের মধ্যে ফেলে রেখে মতলব হাসিল করা।

এত দিন ধরে নানা প্রচার প্রচারণায় মানুষ মোটামুটি কনভিন্সড জামাতে ইসলামিকে ধ্বংশ করা দিল্লীর টার্গেট। ভারতের প্রধানমন্ত্রীই এক সময় বলেছেন ‘জামাত ভারতবিরোধী’। এটা যেমন মনে করা হয় গুরুত্বপূর্ণ এবং নীতি নির্দ্ধারণী সিদ্ধান্তগুলো আসে দিল্লী থেকে তেমনি এটাও সবাই ধরে নিয়েছে জামাতকে ধ্বংশ করার ল্েয যে বর্বরোচিত দমন পীড়ন জামাত শিবির নিষিদ্ধ করার দাবীতে যে আন্দোলন তার পেছনে রয়েছে একটিই ল্য- ‘ভারতবিরোধী’ এই শক্তিটিকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া।

প্রথম কথা- হত্যা করে পিটিয়ে জেল ফাঁস দিয়ে বা কাগজে কলমে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে কি কোন রাজনৈতিক শক্তিকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া যায়? একাত্তুরে ইয়াহিয়া খান কি পেরেছিল! কোন গবেট হয়তো তেড়ে আসবেন ইয়াহিয়া খান যাদেরকে নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিল তারা ছিল মুক্তিযোদ্ধা। আজ সরকার যাদেরকে ধ্বংশ করতে চাইছে তারা কি মুক্তিযোদ্ধা?

না আমি এদেরকে আমাদের সেন্সের মুক্তিযোদ্ধা বলছি না। হয়তো তারা তাদের রাজনীতির দৃস্টিকোন থেকে কোন যোদ্ধা হবেন। বা এটাও বলছি না বর্তমান সরকারপ্রধান ইয়াহিয়া খানের বাংলাদেশী সংষ্করণ। অথবা ইয়াহিয়া খানের প্রেতাত্মা তার ওপর এসে ভড় করেছে! কথা হচ্ছে জামাত শিবির একটা রাজনৈতিক শক্তি, আমি পছন্দ করি না করি তারা একটি রাজনৈতিক মতবাদের প্রচারক। এই মতবাদ বা এর প্রচারকদেরকে নির্মূল বা ধ্বংশ করার পথ পদ্ধতি কি জোরজবরদস্তি হত্যা জবাই ফাঁসি? ইয়াহিয়া খান তার প্রতিপকে হত্যা জবাই ফাঁসির মাধ্যমে নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিল, আমরা নিশ্চিহ্ন হই নাই, ইয়াহিয়াই ধ্বংশ হয়ে গেছে।

দ্বিতীয় কথা- এই হত্যা করো জবাই করো রবে নিরন্তর মাতম, পিটুনী গুলী হত্যাকান্ড আসলে জামাত শিবিরকে লাভবান করে দিচ্ছে। আমরা বাঙ্গালীরা খুবই সেন্সেটিভ বিশেস করে অত্যাচারিত পীড়িতদের প্রতি সব সময় আমাদের একটা সহানুভূতি কাজ করে। সরকারের নির্মম দমন পীড়নের শিকার জামাত শিবিরও তেমনি আজ সাধারন মানুষের সহানুভূতি লাভ করে চলেছে।

যখনই বোঝা গেছে ভারতের স্বার্থে জামাত শিবিরকে নিশ্চিহ্ন করা হচ্ছে মানুষ জামাত শিবিরের প্রতি অধিক মাত্রায় সহানুভূতিশীল হয়ে পড়ছে। কেউ কেউ এমনও মনে করছে সরকার ভারতের ধামাধরা, আমাদের ওপর ভারতের দাদাগিরী লুন্ঠন শোষনের প্রতিবাদ করার কেউ নাই। এ অবস্থায় ভারত যখন জামাত শিবিরকে ধ্বংশ করতে চাইছে তার অর্থ এরাই হচ্ছে আসল ভারতবিরোধী শক্তি। এটা ভুললে চলবে না বাংলাদেশের আশি শতাংশ মানুষ মনেপ্রাণে ভারতের দাদাগিরী লুন্ঠন শোষনের বিরোধী।

খুবই দু:খের সাথে বলতে হচ্ছে বাংলাদেশে আজ কোন সৎ সাংবাদিকতা নাই। প্রিন্ট বা ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় সাংবাদিক পরিচয়ে লেখালেখি করছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ক্যডাররা। মিডিয়াগুলো যার যার দলের লিফলেট বা মুখপত্র। সেদিন দেখলাম একটি মতলববাজ পত্রিকায় প্রশ্ন করা হয়েছে, গ্রামাঞ্চলে সাধারন মানুষকে উষ্কে দিচ্ছে কারা? ইঙ্গিতটা জামাত শিবিরের দিকে। পড়ে মনে মনে হাসলাম। মাস দুই ধরে দেখা যাচ্ছে এখানে ওখানে গ্রামের সাধারন মানুষ দলে দলে রাস্তায় নেমে আসছে পুলিশের গুলীর সামনে বুক পেতে দিচ্ছে, থানায় হামলা করছে সরকারি সম্পত্তির ধ্বংশসাধন করছে এমনকি পুলিশ হত্যার মত রিষ্কি কাজ করছে। জামাত শিবিরকে মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দেখে আসছে। এরা ছিল নিয়মতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল।

এরা এক সময় এত মিটিং মিছিল করেছে কখনও পুলিশের প্রতি একটা ঢিল ছুড়তে দেখা যায় নাই। আওয়ামী লীগ বিএনপি রাস্তায় গাড়ী ভাঙতো আগুন দিতো, জামাতের মিছিল যখন পাশ দিয়ে যেতো মানুষ নির্ভয় থাকতে এরা কোন ভাংচুর করবে না। এই জামাতকে সন্ত্রাসী বানিয়েছে সরকার। এরা মিছিল করতে পারেনা মিটিং করতে পারেনা অফিসে থাকতে পারেনা বাসায় ঘুমাতে পারেনা। একটা পোষ্টার লাগাতে পারেনা লিফলেট বিলাতে পারেনা। বের হলেই পিটুনী গ্রেপ্তার মামলা জেল। মানুষ বেপরোয়া হয় কখন? আমাদের সমাজে একটা কথা প্রচলিত আছে, আমি তো মরছিই তোরে মাইরাই মরুম। একতরফা মার খেতে খেতে কেউ যদি ঘুড়ে দাঁড়ায় তাকে কি বলা যাবে? এক শ্রেণীর মিডিয়া পে-রোলের সুশীল বা মানবাধিকারের মিজান ডাক্তারের মত লোকেরা বলবেন জামাত শিবির হলে তান্ডব মষ্কা বা জাগরনওয়ালা হলে তা বিপ্লব বা প্রতিরোধ।

তারপরও-, জামাত শিবির যতই ঘুরে দাঁড়াক তারা কি এতই শক্তিশালী এতই সংগঠিত যে তাদের ‘উষ্কানীতে’ মূহুর্তের মধ্যে হাজার হাজার গ্রামবাসী লাঠি সোটা যার যা আছে নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়বে! এখন অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে আসামী ধরতে গেলেও জনগন পুলিশের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে! সরকারি প্রেসনোটের ভাষায় এই জনগন হচ্ছে ‘মুষ্ঠিমেয় দূ®কৃতকারি’ বা হাল ভাষায় ‘জামায়াতি তান্ডব’। কিন্তু গত মাসে গন জাগরন সামাল দিতে যে এক শ’ সত্তুরজন মানুষকে গুলী করে হত্যা করতে হলো বিয়াল্লিশটা জেলা থেকে প্রশাসন আপৎকালীন সাহায্য চেয়ে রাজধানীতে ধর্ণা দিলো, সেই পিলে ধরে টান দেয়ার পরিস্থিতিও কি শুধু জামাত শিবিরের লোকেরা সৃস্টি করেছিল?

না, ওদেরকে আমি এতটা শক্তিশালী মনে করিনা। মানুষ যদি সঙ্গে না থাকতো পাবলিক যদি স্বত:ষ্ফূর্তভাবে নেমে না আসতো জামাত শিবির কেন কোন রাজনৈতিক শক্তির প
 ওই পরিস্থিতি তৈরী করা সম্ভব হতোনা। যতই শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করা হোক- এটাই সত্য এটাই বাস্তব মানুষ আজ বিগড়ে গেছে অধৈর্য্য হয়ে পড়েছে। নেমে পড়ার একটা উপল্য চায়, নেতৃত্ব চায়। এটা বুঝে গেছে জামাত শিবির, নইলে শিবিরের মত একটি ছাত্র সংগঠন দেশব্যাপাী হরতাল ডাকার সাহস পায়! এটা বুঝে গেছেন বেগম জিয়া। ফেব্র“য়ারির একটা ঝলকেই টের পেয়ে গেছেন তাওয়া গড়ম হয়ে গেছে। তিন বছর আগে যখন একতরফভাবে সংবিধান থেকে ‘আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাষ’ তুলে দেয়া হলো তখন কোন হুজুরগোষ্ঠী টু শব্দটি করেন নাই। আজ নাস্তিক ব্লগারদের উছিলায় রাস্তায় নেমে আসছেন। তারাও টের পেয়ে গেছেন, এখনই সময়।


দু:খের মধ্যেও হাসি আসে। গোড়া থেকেই আওয়ামী লীগ ধরে বসে আছে সরকারের সকল কর্মকর্তা কর্মচারি পুলিশ বিডিআর আনসার র‌্যাব পাইক পেয়াদা সবাই তাদের মত আওয়ামী লীগের লোক। এক নেতা এক দেশের মত সবাই নেত্রীর বশংবদ চাকর বাকর। যখন যা হুকুম করা হবে অবনত মস্তকে পালিত হয়ে যাবে। মূর্খামী আর কাকে বলে! এরা সরকারের চাকুরে, সব সরকারের আমলেই এরা আছে।  সরকারি চাকরি করলেও এদের ভিন্ন ভিন্ন্ রাজনৈতিক মতাদর্শ আছে। এদের মধ্যে আওয়ামী লীগ আছে বিএনপি আছে জামাত আছে এরশাদ পাট্টিও আছে। এতদিন দাপটে চুপ আছে। সময়ে প নেবেনা বা যার যার রুপে আবির্ভূত হবেনা তার কোন গ্যারান্টি আছে! ’৯৬-এ সরকারি চাকুরে মখা আলমগীর কি সচিবালয় থেকে বের হয়ে এসে আওয়ামী লীগের মঞ্চে ওঠেন নাই! কথায় কথায় স্যার স্যার করে, যেতে আসতে স্যাল্যুট দেয়, বন্দুক দিয়ে পাহাড়া দেয়, আহা কি আরাম! মনে হয় এরা তো সবাই আমারই লোক।

আমার ধারনা সরকারের পায়ের তলায় মাটি আর কতটুকু অবশিষ্ট আছে মোটামুটি সবাই আন্দাজ করে ফেলেছেন। এখন দিন যত যাবে সরকারের মধ্যে অস্থিরতা বাড়বে সন্দেহ অবিশ্বাষ বাড়বে। অনেকের ঘুম হারাম হয়ে যাবে ঘুমের মধ্যে দু:স্বপ্ন দেখে লাফ দিয়ে উঠবেন। দিন দুই আগে বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মন্ত্রনালয় ব্যবস্থা নিয়েছে। কেন! সন্দেহ- এরা জামাত শিবিরের লোক বা তাদের সমর্থক। অথচ এই লোকগুলো কিন্তু এক সময় বিশেষ আস্থাভাজন হিসাবেই ওইসব পদে নিয়োগ পেয়েছিল। ঘাদানী নেতা শাহরিয়ার কবির জামাত শিবির আতংকে এতটাই পেরেশান যে দিব্যদৃষ্টিতে দেখতে পাচ্ছেন ট্রাইব্যুনালেও জামাত শিবির ঢুকে গেছে!

শেষ সময়ে এসে এই-ই হয়। ইয়াহিয়া খান শেষমেস এসে দিশা না পেয়ে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করেছিল। ভারতের আউটলুক পত্রিকা লিখেছে শেখ হাসিনা নাকি বাংলাদেশে ইসলামপন্থীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করেছেন। এই শেষ সময়ে এই কাজটা না  করলে চলতো না! তত্বাবধায়ক নিয়ে বিএনপি, যুদ্ধাপরাধি নিয়ে জামাত শিবির, ইসলাম নিয়ে হুজুররা- সেই সাথে যদি খোদ সরকারের মধ্যেই বেড়ে চলে অসন্তোষ, কানাহোলায় ধরতে খুব কি বেশী সময় লাগবে?


তবে একটা সিলেকশনে আমি চমকিত হয়েছি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদে জনাব মখা আলমগীর। ভেবেছি এই সময়ে এসে এই ভদ্রলোককে এই জায়গাটায় আনার কি উদ্দেশ্য। না, মখা সাহেব কাজের লোক না তা আমি বলছি না। খুবই উপযুক্ত লোক। কাদের সিদ্দিকী সাহেব বারবার বলছেন উনি রাজাকার ছিলেন। আসলে রাজাকার না, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে টাঙ্গাইলে এসডিও ছিলেন। সে সময় কর্মরত সকল কর্মকর্তাকে সরকারের স্বার্থ দেখভাল করতে হয়েছে। ’৭১-এ পাক সরকারের স্বার্থ ছিল মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতায়। সরকারি কর্মকর্তা হিসাবে জনাব মখাকেও হয়তো মুক্তিযুদ্ধের বা বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধীতা করতে হয়েছে। সিদ্দিকী সাহেব সেই অর্থে তাকে রাজাকার বলেন। আসলে জনাব মখা পায়ে ঘাসবিচালি বাঁধা লুঙ্গি কাছামারা বা হাফ প্যান্টপড়–য়া রাজাকার সিপাই ছিলেন না।

আমি ভাবছি মখা সাহেবরা ‘৭১-এ ইয়াহিয়া খান বা তার পাকিস্তানকে রা করতে পারেন নাই, এই ২০১৩তে এসে কি শেখ হাসিনা বা তার সরকারকে রা করতে পারবেন! ষ্টাইল দেখছি তো সেই একাত্তুরেরটাই।

তারপরও বলবো, হুঁশে আসুন। ইয়াহিয়া খানের পথ সর্বনাশা পথ। এখনও সময় আছে কথা বলুন সমঝোতায় আসুন।

১ এপ্রিল, ২০১৩

Tuesday, April 2, 2013

৬ মার্চের লংমার্চে নিউ ইয়র্কের ১৫০ আলেমের সমর্থন




৬ এপ্রিলের লংমার্চে নিউইয়র্কের ১৫০ আলেমের সমর্থন
মুরতাদদের শাস্তি ও ধর্মদ্রোহীদের রুখতে
 কঠিন আইন প্রণয়ন দাবি

নিউ ইয়র্ক : হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি পীরে কামেল আল্লামা শাহ আহমদ শফী ঘোষিত ৬ এপ্রিলের লংমার্চে  সমর্থন জানিয়েছেন নিউ ইয়র্কের ১৫০ জন ইমাম, ওলামা ও মুফতি। এছাড়াও তারা হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। মুরতাদদের শাস্তি ও ধর্মদ্রোহীদের রুখতে কঠোর আইন প্রনয়ণ দাবী জানিয়েছে আলেমরা। এক যৌথ বিবৃতিতে নিউ ইয়র্কের আলেমরা বলেছেন, আল্লাহ ও তার রাসূল (সাঃ) এর অবমাননাকারী মুরতাদদের গ্রেফতার করে শাস্তি দিতে হবে। একইসঙ্গে কঠোর আইন প্রনয়ণ করে ধর্ম ও ইসলামের বিরুদ্ধে সকল প্রদক্ষেপ স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে। 
তারা বলেন, সরকার মুখে ইসলামের কথা বললেও কাজ কর্মে ইসলামের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সরকার আইন শৃংখলা রক্ষা বাহিনী দিয়ে নাস্তিক মুরতাদদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। অন্যদিকে ইসলাম প্রিয় মানুষকে হত্যা করছে সরকারী বাহিনী। 
তারা বলেন, বাংলাদেশে কোন মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা নেই। দাড়ি, টুপি বা ধর্মীয় পোষাক নিয়ে নিরাপদে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বতর্মান সময়ে ধর্ম প্রমাণ মুসলমানরা মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়তেও ভয় পাচ্ছেন। 
তারা বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাঃ) কে অবমাননাকারী মুল হোতাদের বাদ দিয়ে সরকার গুটিকয়েক ব্লগারকে সামনের দরজা দিয়ে ধরে পেছনের দরজা দিয়ে বের করে দিয়ে সরকার আইওয়াশ করার চেষ্টা করছে। মুল হোতাদের কয়েকজন টিভি টক শো করে বেড়ালেও সরকার তাদের গ্রেফতার করছেনা। 
তারা আরো বলেন, ইসলাম ও রাসূল (সাঃ) কে অবমাননার সঙ্গে জড়িত ব্লগাদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ- নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো সামহোয়ারইন ও আমার ব্লগসহ সব ব্লগ বন্ধ এবং ব্লগ পরিচালকদের গ্রেফতার করতে হবে।  
তারা বলেন, ইসলাম প্রিয় মানুষের কন্ঠসর দৈনিক আমার দেশসহ যেসব পত্রিকা নাস্তিক ব্লগারদের কুকীর্তি ফাঁস করেছে নানা অজুহাতে সেগুলো বন্ধের ষড়যন্ত্র করছে। ইসলাম প্রিয় মানুষের কোন পত্রিকা বন্ধ হলে নিউ ইয়র্ক থেকে কঠিন আন্দোলন গড়ে তুলা হবে।
তারা আরো বলেন, দেশের সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলিম আল্লামা আহমদ শফী সম্পর্কে বাজে মন্তব্য ও হেফাজতে ইসলামের আন্দোলন সম্পর্কে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। সরকারের উচিত, তাদের প্রশ্রয় না দিয়ে কঠোর হস্তে দমন করা। অন্যথায় সরকারকে কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে। 
আলেমরা বলেন, শাহবাগী নাস্তিকরা ধর্ম ও নবীর সা অবমাননা করে আলিম-ওলামা ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের সংঘাত সৃষ্টির মাধ্যমে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করে সরকারকেও বেকায়দায় ফেলার চক্রান্ত করছে। তাই অবিলম্বে নাস্তিক মুরতাদদের দমন করা জরুরি। 
ইসলাম ও রাসূল (সাঃ) সম্পর্কে গণমাধ্যমকে আরো দায়িত্বশীল হওয়ার আহবান জানিয়ে তারা বলেন, মুরতাদদের বিরুদ্ধে চলমান ইসলাম প্রিয় মানুষের আন্দোলনকে ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করার জন্য বিভিন্ন মিডিয়া রাজনৈতিক কালার দেয়ার চেষ্টা করছেন। একইসঙ্গে সরকারের কয়েকজন মন্ত্রীও হেফাজতে ইসলামের চলমান আন্দোলন ও আলেমদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করে চলেছেন। ইসলাম প্রিয় মানুষের আন্দোলনের বিরুদ্ধে এসব প্রচারণা বন্ধে সরকার ও গণমাধ্যমের প্রতি আহবান জানান তারা। 
মুরতাদদের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনে গুলি করে হত্যার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মখা আলমগীরকে গণহত্যার নির্দেশদাতা উল্লেখ করে তারা বলেন, খুনী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অপসারণ করে দেশের মানুষকে নির্যাতনের হাত থেকে বাচাঁন। এছাড়াও পাঠ্য পুস্তকে ইসলাম ও কুরানকে বিকৃতির জন্য শিক্ষামন্ত্রীর অপসারণ দাবী করেন আলেমরা।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীরা হলেন, বায়তুল জান্না মসজিদের ইমাম প্রফেসর মাওলানা মুহিববুর রহমান, সানিসাইড মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুল কাদের, বেলাল মসজিদের ইমাম মুফতি আব্দুল মালেক, বায়তুল হামিদ ইনেস্টিটিউশনের সভাপতি মুফতি জামাল উদ্দিন, আবু হুরায়রা মসজিদের ইমাম মাওলানা ফায়েক উদ্দিন, আসসফা ইসলামিক সেন্টারের সাধারণ সম্পাদক মুফতি লুৎফুর রহমান ক্বাসিমী, বায়তুস শারাফ মসজিদের ইমাম জাকারিয়া মাহমুদ, আসসাফা ইসলামিক সেন্টারের ইমাম মাওলানা রফিক আহমেদ, মদীনা মসজিদের ইমাম মাওলানা আবু সুফিয়ান, দারুল কোরান ওয়া’সুন্নাহ প্রিন্সিপাল মুফতি রুহুল আমিন, আল আমান হাফিজুল্লাহ, বায়তুল আমান মসজিদের ইমাম মাওলানা আজিরুদ্দিন, হাজী ক্যাম্প মসজিদের ইমাম মাওলানা রফিকুল ইসলাম, জ্যাকসন হাইটস ইসলামিক সেন্টারের ইমাম মুফতি ইসমাঈল, বায়তুল মোকাররম মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুল্লাহ কামাল, জ্যমাকা হাফিজিয়া মাদরাসার  হাফেজ মুজাহিদুল ইসলাম,  মাওলানা ইব্রাহিম খলিল, মাওলানা আব্দুর রহমান, হাফিজ আব্দুল্লাহ আল কাফি, হাফেজ শফিকুল ইসলাম, মাওলানা আবু সায়ীদ, মাওলানা ওবায়দুল হক, হাফিজ বুরহান উদ্দিন, শাকিল রহমান, জুলফিকুল চৌধুরী, হাফিজ আব্দুল মতিন, মাওলানা মাহমুদুল ইসলাম, মাওলানা আসাদ, হাফেজ মাহবুব, মাওলানা আহমদুল্লাহ কামাল, হাফিজ আব্দুল মান্নান, ক্বারী খলিলুর রহমান, হাফিজ মাহবুবুর রহমান, মাওলানা ইলিয়াস, মাওলানা আব্দুল কাদের, মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক, মাওলানা মতিউর রহমান, মুফতি নোমান, মাওলানা রুহুল্লাহ,মাওলানা জুনায়েদ হোসাইন, মাওলানা রশিদ আহমেদ, মাওলানা ইহতেশামুল হক, মাওলানা আবু তৈয়ব, মাওলানা আশরাফ উল্লাহ প্রমুখ।  

Monday, April 1, 2013

রক্তে লাল বাংলাদেশঃ জনগণ কি আঙ্গুল চুষবে?



রক্তে লাল বাংলাদেশঃ জনগণ কি আঙ্গুল চুষবে?


লেখক : ফিরোজ মাহবুব কামাল



লাশ আর লাশ

বাংলাদেশে এখন শুধু লাশ আর লাশ। পুলিশের গুলিতে বিগত ফেব্রেয়ারি ও মার্চ -এ দুটি মাসেই নিহত হয়েছে ২০০ জনের বেশী নিরপরাধ নিরীহ মানুষ। হত্যা করা হয়েছে মায়ের কোলের শিশু ও গৃহিনী নারীকেও। অতীতে কখনোই আন্দোলন দমাতে এভাবে শিশু ও নারীদের হত্যা করা হয়নি। গত ২৯/৩/১৩ তারিখে কোন হরতাল ছাড়াই এক দিনেনিহত হয়েছে ৭ জন। তাদের মধ্যে ৩ জন নিহত হয়েছে চাপাঁইনবাবগঞ্জ,২ জন সিরাজগঞ্জে এবং ২ জন খুলনায়। গত ২৮শে ফেব্রেয়ারির এক দিনে হত্যা করা হয়েছে ৭০ জনকে।পাকিস্তান আমলের সমগ্র ২৩ বছরে সব মিলে পুলিশের গুলিতে রাজপথে এত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। স্বৈরাচারি এরশাদের আমলে একদিনে ২জন নিহত হয়েছিল। আর তাতেই“চারিদিকে দেখি লাশের মিছিল” নামে গণসঙ্গিত লেখা হয়েছিল। লেখা হয়েছিল “ঝরাও রক্ত,ছড়াও রক্ত,যত খুশী তুমি পার;রাজপথে আজ জনতা জেগেছে,যত খুশী তুমি মার।” আওয়ামী লীগ কর্মী ও বামপন্থিরা সেদিন সে গান আর হারিমোনিয়াম নিয়ে রাজপথে নেমেছিল। অথচ আজ এত খুন,কিন্তু সে খুনের বিরুদ্ধে বামপন্থিরা শুধু নীরবই নয়,খুন নিয়ে তারা বরং উৎসব করছে। তারা চায়,আরো খুন আরো লাশ। লাশের রক্তমাংস নিয়ে তারা সকাল বিকাল নাশতা করতে চায়।



১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রেয়ারিতে ঢাকায় নিহত হয়েছিল ৪ জন। আর তাতে আব্দুল গাফফার চৌধুরি গান লিখেছিলেন“আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রেয়ারি,আমি কি ভূলিতে পারি?” আজও সে গানটি ফেব্রেয়ারি মাস এলেই গাওয়া শুরু হয়। আব্দুল গাফফার চৌধুরি আজও বেঁচে আছেন। কিন্তু তিনি আজ নীরব কেন? আজ ৪ জন নয়,২০০ জনের বেশী শহীদের রক্তে লালে লাল হয়ে গেছে সমগ্র বাংলাদেশ। বাংলাদেশের মানুষ কি এত শহীদের রক্ত ভূলতে পারে? কিন্তু আব্দুল গাফফার চৌধুরি আজ ২০০ জন শহীদের রক্তকে শুধু ভূলেই যাননি,বরং তিনি কলম ধরেছেন খুনিদের পক্ষে। এই হলো আব্দুল গাফফার চৌধুরিদের বিবেক! তবে একুশে ফেব্রেয়ারির গানও তিনি বিবেক নিয়ে লেখেননি। লিখেছেন আওয়ামী রাজনীতি নিয়ে। লক্ষ্য ছিল ৪ নিহতের লাশ নিয়ে তৎকালীন মুসলিম লীগের সরকারকে নাকানি চুবানি দেয়া। নিহতদের রক্ত নিয়ে তিনি সেদিন যেমন রাজনীতি করেছেন,আজও করছেন। এজন্যই তার কলমে তাই এত খুন এত রক্তপাতের বিরুদ্ধে নিন্দাবাদ উঠে না।



খুনিদের সর্দার রূপে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী



হত্যার চেয়ে বর্বর অপরাধ এ ভূপৃষ্টে আর কি হতে পারে? সরকারের বড় দায়িত্ব হলো মানুষের জানমালের নিরপত্তা দেয়া।কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার নিরাপত্তা দেয়ার পরিবর্তে বেছে নিয়েছে নিরস্ত্র মানুষ-হত্যা।সে জন্যই পুলিশকে দিয়েছে প্রতিবাদী মানুষকে দেখা মাত্র গুলির নির্দেশ। সভ্য দেশে এরূপ গুলি চালনোর ক্ষমতা পুলিশের সেপাই দূরে থাক অফিসারদেরও থাকে না। এমন কি বাংলাদেশেও বহু খুনের জঘন্য অপরাধীকে জেলা জজ ফাঁসীতে ঝুলাতে পারে না। সে জন্য হাই কোর্ট থেকে তারা রায়ের পক্ষে অনুমোদন নিতে হয়। অথচ বাংলাদেশের পুলিশ পাখি শিকারের ন্যায় মানুষ শিকার করছে। গত ২৯/০৩/১৩ তারিখে সাংবাদিকগণ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মহিউদ্দীন খান আলমগীরকে জিজ্ঞেস করেন,পুলিশ কেন নির্বিচারে এত মানুষকে হত্যা করছে? হত্যাপাগল পুলিশের পক্ষ নিয়ে তিনি পাল্টা জিজ্ঞেস করেছেন,পুলিশ কি তবে আঙ্গুল চুষবে? অর্থাৎ তিনি বুঝাতে চেয়েছেন,অসংখ্য মানুষ হত্যা করে পুলিশ ঠিক কাজই করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী এখানে আবির্ভুত হয়েছেন জঙ্গলের বাদশাহ বা খুনিদের সর্দার রূপে,কোন সভ্যদেশের দায়িত্বশীল মন্ত্রী রূপে নয়।কথা হলো,কোন সভ্য দেশে এভাবে বিনাবিচারে মানুষ খুন কি সরকারের নীতি হতে পারে?





অথচ পুলিশের উপর জনতার পক্ষ থেকে কেউ গুলি ছুড়েছে সে প্রমাণ আজ অবধি নাই।বড় জোর কেউ পাথর মেরেছে। সে পাথর থেকে বাঁচার জন্য তাদের মাথায় হেলমেট ছিল।বুকে বর্ম ছিল। জনগণকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ক্যাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করতে পারতো। সভ্যদেশে বড়জোর পানির কামান ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এভাবে জনতার উপর গুলি বর্ষণের কথা কি ভাবা যায়? নির্বিচারে মানুষ হত্যাকে সরকার যে কতটা সহজ ভাবে নিয়েছে এ হলো তার নমুনা। মানুষ হত্যা করে খুনি সন্ত্রাসীরা। পুলিশের দায়িত্ব হলো জনগণকে তাদের হাত থেকে নিরাপত্তা দেয়া। অথচ আজ পুলিশ নিজেই পরিণত হয়েছে ভয়ানক খুনিতে।আর সে খুনি বাহিনীর সর্দারে পরিণত হয়েছে দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী এবং সে সাথে প্রধানমন্ত্রী। স্বরাষ্ট মন্ত্রীর ভাষায় পুলিশ আজ আর নীরবে আঙ্গুল চুষছে না বরং অগণিত মানুষকে পথেঘাটে লাশ করছে। অথচ যখন পুলিশের সামনে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের ক্যাডারগণ প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে ঘুরে,বিশ্বজিৎ দাশের ন্যায় নিরীহ মানুষকে কুপিয়ে কুপিয়ে লাশ করে তখন কিন্তু পুলিশ ঠিকই নীরবে দাড়িয়ে আঙ্গুলই চুষে। এবং তখনও আঙ্গুল চুষে যখন সরকারি দলের দুর্বৃত্তগণ শেয়ার মার্কেট,ব্যাংক,সরকারি রাজস্বভান্ডার থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা ডাকাতি করে।এবং যেসব ডাকাত মন্ত্রীদের দূর্নীতির কারণে পদ্মাসেতু প্রকল্প বানচাল হয়ে গেল পুলিশ কিন্তু তাদের গায়ে একটি আঁচড়ও দেয়নি। অথচ তাদের সকল মুরোদ ও সকল বীরত্ব নিরস্ত্র ও নিরীহ জনগণের বিরুদ্ধে।





গণশত্রু রূপে সরকার ও পুলিশ

সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের অধিকার জনগণের মৌলিক অধিকার। সে অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের। সে দায়িত্ব পালনে সরকারের চাকর রূপে নয়,জনগণের প্রহরী রূপে কাজ করে পুলিশ। এবং পুলিশের কাজ শুধু চোর-ডাকাত-খুনিদের থেকেই জনগণকে পাহারা দেয়া নয়,বরং দুর্বৃত্ত মন্ত্রী ও প্রশাসনের হাত থেকে পাহারা দেয়াও।তাই যে কোন সভ্যদেশে পুলিশ শুধু চোরডাকাতদেরই নয়, দুর্বৃত্ত মন্ত্রী ও প্রশাসনের কর্মকতাদেরও হাজতে তোলে। কিন্তু বাংলাদেশে সেটি হচ্ছে না। এখানে পুলিশ পরিণত হয়েছে নিছক সরকারের পাহারাদার চাকরে। পুলিশ আবির্ভূত হয়েছে হিংস্র গণশত্রুর বেশে। তাই সরকারের বিরোধীদের পক্ষ থেকে যখনই রাজপথে কোন মিছিল বা জনসভা হয় তখন পুলিশের কাজ হয় সে মিছিলে ত্বরিৎ জমা হয়ে সমবেত জনগণকে লাঠি পেটা করা,তাদের উপর ক্যাঁদানে গ্যাস ছুড়া ও গুলিবর্ষণ করা। সে সাথে দিবারাত্র পাহারা দেয় শুধু মন্ত্রীদেরই নয়,সরকারের সমর্থকদের প্রতিটি মিছিল ও সমাবেশকে। সেটিই দেখা গেল শাহবাগের সমাবেশে। সরকার পুলিশকে দিয়ে শুধু সমাবেশের পাহারাদারির ব্যবস্থাই করেনি,স্কুলে স্কুলে নির্দেশ দিয়ে ছাত্র-ছাত্রী সাপ্লাইয়ের ব্যবস্থা যেমন করেছে তেমনি নিয়মিত খাদ্যপানীয় সরবরাহ করেছে। অথচ পত্রিকায় ও টিভিতে বার বার খবর দেয়া হচ্ছে,এবং ছবিও ছাপা হচ্ছে,পুলিশ জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের গ্রেফতার করছে বিভিন্ন মিটিং থেকে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হচ্ছে, নেতাকর্মীরা সেখানে গোপন মিটিংয়ে জমা হয়েছিল। কিন্তু প্রশ্ন হলো,প্রকাশ্যে বা গোপনে জমা হওয়া কি মৌলিক নাগরিক অধিকার নয়? এমন মিটিং করা কি দেশের আইন বা সাংবিধান বিরোধী? এমন বহু গোপন ও প্রকাশ্য মিটিং তো সরকারি দল আওয়ামী লীগও করছে। জামায়াত ও শিবির কর্মীদের মিটিং যদি দন্ডনীয় হয়,তবে তো দন্ডনীয় হবে আওয়ামী লীগের মিটিংও। কিন্তু পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে না কেন? অথচ জামায়াত ও শিবির কর্মীদের গ্রেফতার করে পুলিশ ও সরকার এখানে সংবিধান বিরোধী ও প্রচলিত আইনবিরোধী কাজ করছে। দেশের আদালতের দায়িত্ব ছিল এমন অপরাধে সরকারের দায়িত্বশীলদের হাজতে তোলা ও শাস্তি দেয়া। কিন্তু আদালত সে কাজ করেনি। বরং এখানে আদালতও পরিণত হয়েছে সরকারের আজ্ঞাবহ সেবাদাসে।



কোন ডাকাত সর্দারই একাকী ডাকাতি করতে পারে না। যে কোন ডাকাতি হামলার জন্য তাকেও ডাকাত দল গড়তে হয়। তেমনি কোন দুর্বৃত্ত স্বৈরাচারিও কোন দেশে একাকী তার দুর্বৃত্ত স্বৈরাচারি শাসন চালাতে পারে না। সেকাজের জন্য শুধু রাজনৈতীক দল হলেই চলে না। বরং রাজনৈতীক ক্যাডারদের পাশাপাশি আজ্ঞাবহ একপাল দুর্বৃত্ত পুলিশ,দুর্বৃত্ত প্রশাসক বাহিনী ও দুর্বৃত্ত বিচারকও পালতে হয়। ফিরাউন,হালাকু,চেঙ্গিস ও হিটলারের আমলে যে শুধু দেশের রাজপ্রাসাদ দৃর্বৃত্ত কবলিত হয়েছিল তা নয়,দুর্বৃত্তদের দিয়ে পূর্ণ করা হয়েছিল দেশের প্রশাসন,পুলিশ ও আদালতেও। ডাকাত সর্দার যেমন এক পাল ডাকাত নিয়ে পথে নামে,এরাও তেমনি এক পাল পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিয়ে চলাফেরা করে। রাষ্ট্রের সবগুলো প্রতিষ্ঠানে আজ্ঞাবহ এরূপ দুর্বৃত্তদের বসানোর কারণেই স্বৈরাচারি শাসককে কোন কুকর্মই নিজ হাতে করতে হয় না। সে কাজ তার আজ্ঞাবহ দুর্বৃত্তগণই অতি সুচারু ভাবে সমাধান করে। ফলে আগে রাজনৈতীক বিরোধীদের হত্যায় আওয়ামী লীগকর্মীদের যেভাবে লগিবৈঠা,চাপাতি ও কুড়াল নিয়ে রাজপথে নামতে হতো,এখন সে কাজের দায়িত্ব নিয়েছে দেশের প্রশাসন,পুলিশ ও আদালত। ফলে বিগত চার বছরের শাসনে যতজন বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মী আওয়ামী লীগের কর্মীদের হাতে মারা গেছে তার চেয়ে বহুগুণ মারা গেছে পুলিশের হাতে। নিরপরাধ মানুষকে রিম্যান্ডে নিয়ে পা থেকে মাথা অবধি নির্যাতন করা এখন একটি শিল্পে পরিণত হয়েছে। সাধারণ ডাকাতগণ তাদের লুন্ঠন কর্মে পুলিশী প্রটেকশন পায়না। জনগণের হাতে তাই বহু ডাকাতকে মারা পড়তে হয়। কিন্তু পুলিশী প্রটেকশন পাচ্ছে আওয়ামী ডাকাতগণ। তারা তাই নিশ্চিন্তে হাত দিয়েছে দেশের সমুদয় সম্পদ লুন্ঠনে। ফলে দেশের রাজস্ব-ভান্ডার,ব্যাংক,শিল্পপ্রতিষ্ঠান কোন কিছুই আজ নিরাপত্তা পাচ্ছে না।



দেশ অধিকৃত অপরাধিদের হাতে

দেশ আজ পুরাপুরি আওয়ামী দুর্বৃত্তদের হাতে অধিকৃত। দুর্বৃত্তরা কখনোই জনগণের সম্মতি নিয়ে পকেটে হাত দেয় না। তাদের মতামতের তোয়াক্কাও করে না। বরং তারা সেটি করে গায়ের জোরে। ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্যবাদী শক্তির হাতে বাংলাদেশ যখন অধিকৃত হয়েছিল তখন সে অধিকৃতি বাঁচিয়ে রাখার জন্য জন-সমর্থণ বা জনগণের রায়কে তারা গুরুত্ব দেয়নি। বরং সে অধিকৃতি বাঁচাতে যেমন আজ্ঞাবহ পুলিশ ও সামরিক বাহিনী গড়ে তুলেছিল,তেমনি তাঁবেদার প্রশাসন ও আদালতও গড়ে তুলেছিল। যুগে যুগে গণ-শত্রুগণ এভাবে তাদের সাহয়্য নিয়েই শত শত বছর শাসন করেছে। নিরাপরাধ মানুষকে তারা যেমন ফাঁসিতে ঝুলিয়েছে,তেমনি হাজার হাজার মানুষকে কারাবন্দীও করেছে। আওয়ামী লীগ জানে,তাদের জন-সমর্থন তলায় ঠেকেছে।সুষ্ঠ নির্বাচন হলে তাদের ভরাডুবি হবে।সে খবরটি তাদের অভিভাবক ভারতও জানে। তাই জেনে বুঝেই তারা সাম্রজ্যবাদীদের অনুসৃত সনাতন কৌশলটি বেছে নিয়েছে। বেছে নিয়েছে গণ-নির্যাতনের পথ। সে লক্ষ্যেই দেশের পুলিশ বাহিনী,প্রশাসন ও আদালতে বেছে বেছে তাদের প্রতি অনুগতদের নিয়োগ দিয়েছে। হাইকোর্টের বিচারপতি রূপে সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী সামসুদ্দিন মানিকসহ অনেকের নিয়োগ কি সেটিই প্রমাণ করে না? আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ন্যায় একটি আদালত গড়ে তুলেছে এমন বিচারকদের দিয়ে। সে সাথে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কাজও নিজ হাতে নিয়েছে।বাংলাদেশের মত দেশে সরকারি প্রশাসন হাতে থাকলে কাউকে কি নির্বাচনে পরাজিত করা সম্ভব? ক্ষমতায় থাকাকালে দুর্বৃত্ত এরশাদকেও তাই কেউ নির্বাচনে হারাতে পারিনি।আওয়ামী লীগ সেটি জানে।তাই তারা তত্তাবধাক সরকারের পদ্ধতিটি বাতিল করে দিয়েছে আজ্ঞাবহ বিচারকদের দিয়ে।



স্বৈরাচারি শাসন কখনোই ভোট নিয়ে বাঁচে না। বাঁচে বাহুবল ও নির্যাতনী শক্তির জোরে। আওয়ামী সরকারের এজেন্ডা তাই জনসেবা বা জনসমর্থন নয়,বরং লুন্ঠন। আর লুন্ঠনের জন্য অনিবার্য হয়ে পড়ে নাগরিক নির্যাতন। সেটি যেমন গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়ে,তেমনি জানমালের নিরাপত্তা কেড়ে নিয়ে। বনেজঙ্গলে তবু পশু হামলা থেকে বাঁচা যায়,কিন্ত বাংলাদেশের পুলিশ,ডিবি ও র‌্যাব থেকে বাঁচা কঠিন। এসব সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলি যে কত নৃশংস অপরাধিদের হাতে অধিকৃত হয়ে পড়েছে তার একটি বেদনাদায়ক বিবরণ ছেপেছে দৈনিক “আমার দেশ” তার ৩১শে মার্চ তারিখের সংখ্যায়। সাধারণ মানুষ আজকাল রাজপথ থেকে খুনি,সন্ত্রাসী বা ডাকাতদের হাতে ছিনতাই বা উধাও হচ্ছে না। ছিনতাই হচ্ছে,ছিনতাইয়ের পর নির্যাতিত হচ্ছে এবং নির্যাতনের পর লাশ হয়ে ফিরছে পুলিশ,ডিবি এবং র‌্যাবের হাতে। সম্প্রতি বিনাকারণে গ্রেফতার হওয়ার পর রিমান্ডে অকথ্য নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক মাওলানা শেখ নূরে আলম হামিদী। ডিবি পুলিশের নির্যাতনে মাথা থেকে পা পর্যন্ত তার শরীরের কোনো অংশই রক্ষা পায়নি। কারাগারে অসুস্থ হলেও তিনি চিকিৎসা পাননি। দেশের হাসপাতালও যে কতটা দুর্বৃত্তকবলিত সে প্রমাণও তিনি পেয়েছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎকরা তাকে প্রেসক্রিপশন দিলেও ওষুধ দেয়া হয়নি।সাধারণ মানুষের উপর নির্যাতনে পুলিশ যে কতটা আওয়ামী দুর্বৃত্তদের সহযোগী ও পার্টনার সে প্রমাণও তিনি পেয়েছেন। ২২শে ফেব্রুয়ারি কাঁটাবন মসজিদ থেকে আটকের পর হামিদীসহ তার সঙ্গে থাকা আরও চারজনকে শাহবাগিদের কাছে নির্যাতনের জন্য ছেড়ে দিয়ছিল পুলিশ। ২৫ দিন কারাভোগের পর ব্রিটিশ সরকারসহ বিভিন্ন মহলের হস্তক্ষেপে জেল থেকে মুক্ত হলেও পুরোপুরি সুস্থ হতে পারেননি তিনি।এখনও তিনি সিলেটের একটি হাসপাতালে চিকিৎধীন আছেন।



মাওলানা হামিদীর সাথে যে বর্বরতাটি ঘটেছে,আওয়ামী লীগের প্রকৃত চরিত্র বুঝার জন্য সেটুকুই যথেষ্ট। এজন্য ইতিহাসের বই পাঠের প্রয়োজন নেই। তাছাড়া ইতিহাসের বইয়েও তো বিকৃত করা হয়েছে। দৈনিক “আমার দেশ” যে বিবরণটি ছেপেছে এখানে সেটিই তুলে ধরা হলো। মাওলানা হামিদীর বাড়ি বৃহত্তর সিলেটে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলের হামিদনগরের বরুণায়। তার বাবা বরুণার পীরসাহেব মাওলানা শায়খ খলীলুর রহমান হামিদী। তিনি অরাজনৈতিক ধর্মীয় সংগঠন আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলামের আমির এবং বরুণা মাদরাসার প্রিন্সিপাল ও শায়খুল হাদিস। মাওলানা হামিদী ইসলামিক স্টাডিজে মাস্টার্স ডিগ্রি শেষ করে বরুণা মাদরাসায় শিক্ষকতা করেছেন এবং ১৯৯৯ সালে লন্ডন যান। সেখানে আনঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম সেন্টারের অধীনে মসজিদ,মাদরাসা,বয়স্ক শিক্ষা,স্যানিটেশন,অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস,মেডিকেল সেন্টার,মাদকাসক্ত পুনর্বাসনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সেবামূলক কর্যক্রম পরিচালনা করেন। হেফাজতে ইসলাম ইউকের পক্ষ থেকে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার অনুদান গরিব-অসহায়দের মাঝে বিতরণ করা হয়—বাংলাদেশের যে কোনো দুর্যোগ মুহূর্তে জনগণের পাশে দাঁড়ায়। ঘূর্ণিঝড়, সিডর, বন্যা ও শীতকালে অসহায়দের পাশে থাকে হেফাজতে ইসলাম।
মাওলানা হামিদী বরুণায় ১৫ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে জানুয়ারি মাসে লন্ডন থেকে দেশে আসেন। প্রতি বছরই বরুণায় এ সম্মেলন হয়ে থাকে। লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হয় এ মাহফিলে। এ সম্মেলনে বিদেশ থেকে যারা এসেছিলেন, তাদের বিমানে তুলে দিতেই ঢাকায় আসেন তিনি,আর এসেই গ্রেফতার হন। মাওলানা হামিদী এসব ঘটনা আমার দেশ-এর কাছে তুলে ধরে বলেন, “মাহফিলে যুক্তরাজ্য,যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা,ভারত,অস্ট্রেলিয়াসহ অনেক দেশ থেকে মেহমান এসেছিলেন। তাদের পৌঁছে দিতে ঢাকায় আসি। ২১ ফেব্রুয়ারি তাদের ফ্লাইট ছিল। আমি, আমার ভাগ্নে হাফিজ আহমদ বিন কাসেম,আহমদ জুবায়ের জুয়েল, হুসাইন আহমদ খানসহ চারজন ঢাকায় আসি তাদের পৌঁছে দিতে। উত্তরায় একটি হোটেলে রাতে ছিলাম। ২২ ফেব্রুয়ারি নিউমার্কেটে যাই কেনাকাটার জন্য। পথে আমরা কাঁটাবন মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করতে যাই। নামাজ শুরুর সামান্য আগে আমরা চারজন মসজিদে প্রবেশ করি। তিনি বলেন,নামাজ শেষ হতে না হতেই মসজিদের ভেতর টিয়ারশেল ও গুলিবর্ষণ শুরু করে পুলিশ। আমাদের চোখ জ্বলছিল। অজুখানায় গিয়ে চোখে পানি দিলাম। গ্যাসের এতই তেজ যে চোখে ঠিকভাবে দেখছিলাম না। নিচে নেমে আসার মুহূর্তে হঠাৎ একজন লোক আমার পাঞ্জাবি খামচে ধরে টান দিয়ে ছিঁড়ে ফেলে; ছিঁড়ে ফেলে পাগড়ি। এ সময় টুপি পড়ে গেল। তখন আমিও ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে ঘুষি মারলাম। তখনও আমি বুঝতে পারিনি যে,সে সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন সদস্য। এরপর পুলিশ আমাদের ওপর হামলা করলো। পিটিয়ে আহত করে আমাদের টেনে হিঁচড়ে বাইরে বের করে আনল। হ্যান্ডকাফ পরাল। হাঁটিয়ে শাহবাগের দিকে নিয়ে যেতে লাগল। আমি তাদের বারবার বললাম,আমি ব্রিটিশ নাগরিক। দেশে বেড়াতে এসেছি। কিন্তু তারা কোনো কথাই শুনল না। শাহবাগ মঞ্চের কাছে নিয়ে গেল। জামায়াত-শিবির আখ্যায়িত করে আমাদের সেখানকার লোকদের হাতে তুলে দিল গণধোলাইয়ের জন্য। শাহবাগিরা আমাদের দিকে তেড়ে এলো। আমাদের কিছু না করতে শাহবাগিদের আমি বারণ করলাম। তারা আমাদের আর মারতে সাহস পেল না। আমাদের গালাগাল এবং ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করল। আমাদের গাড়িটিও পুলিশ শাহবাগে নিয়ে এলো। পুলিশের সামনে মঞ্চের লোকরা সেটি ভেঙে ফেলল।”



মাওলানা শেখ নূরে আলম হামিদী আরো বলেন,“তারপর আমাদের শাহবাগ থানায় নিয়ে যাওয়া হলো। এশা পর্যন্ত সেখানে রাখল। আমার পায়ে যেখানে গুলি লেগেছিল, সেখান থেকে রক্ত ঝরছিল। আমি একপর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়লাম। আমাদের খাবার পানিও দেয়া হলো না। আসর, মাগরিব ও এশার নামাজের জন্য অজুর পানিও দেয়া হলো না। দিতে বললে পুলিশ জানাল,জামায়াত-শিবিরের লোকজনকে কিছু দেয়া হবে না। তিনি অভিযোগ করেন,শাহবাগ থানায় জমা নেয়া পাউন্ড ছাড়া লক্ষাধিক টাকা এখনও পাইনি। গাড়িটিও ফেরত দেয়া হয়নি। তিনি বলেন,সেদিন রাতে ডিবি অফিসে নিয়ে গেল। আমার ভাগ্নের চোখ বেঁধে প্রথমে তাকে একটি রুমে নিয়ে যাওয়া হলো। তার জন্ম পবিত্র মক্কায়।সে কোরআনে হাফেজ এবং একজন নামকরা কারি। পরে আমাকেও চোখ বেঁধে একটি রুমে নেয়া হলো। ডিবি পুলিশের কয়েকজন মিলে আমাকে লাঠি দিয়ে পেটালো। রাতে ডিবি গারদে রাখলো। সেখানে থাকা অবস্থায় আমি সকালের দিকে অজ্ঞান হয়ে পড়ি। আমাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলো। পরে শাহবাগ থানায় আনা হলো। কিন্তু প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ দিল না। জামায়াত-শিবির, ভাংচুর,ককটেল বিস্ফোরণ প্রভৃতি অভিযোগে মামলা দেয়া হলো। এরপর সেখান থেকে চালান দেয়া হলো আদালতে। দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করল আদালত। থানায় নিয়ে রিমান্ডের নামে নির্যাতন করল। পা থেকে মাথা পর্যন্ত শরীরের কোনো জায়গা বাকি রাখেনি পেটাতে। পেটানোর সময় থানার লোকরা বলত,গোপালগঞ্জের টাইগার।শেখ হাসিনার খুব কাছের লোক। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ডিবিতে নেয়ার পর আমার কাছে থাকা আনুমানিক ২৯ হাজার টাকা, ২টি মোবাইল, ক্রেডিট কার্ডসহ সবকিছু সেখানকার একজন এসআই জমা নেন। তিনি ক্রেডিট কার্ড থেকে কয়েকবার শপিং করেছেন, জানতে পেরেছি স্টেটমেন্ট সংগ্রহ করে। কিন্তু মুক্তি পাওয়ার পর টাকাসহ কোনো কিছুই আর ফেরত দেয়া হয়নি।”



অপরাধে ডুবন্ত দেশঃ পুলিশ কি সত্যই আঙ্গুল চুষছে না?

শেখ হাসিনার শাসানামলে দেশ যে কতটা চোর-ডাকাত কবলিত এবং দেশবাসীর সম্পদ যে কতটা অরক্ষিত তারও একটি রিপোর্ট ছেপেছে দৈনিক মানব জমিন তার ৩১শে মার্চ ২০১৩ তারিখ সংখ্যায়। তা থেকে উদ্ধতি দেয়া যাকঃ “হলমার্ক, ডেসটিনি, ইউনিপেটুইউ, বিসমিল্লাহ গ্রুপ, আইসিএল -মাত্র এ কয়টি প্রতিষ্ঠানই লুটে নিয়েছে ১৭ হাজার কোটি টাকা। পদ্মা সেতুর নকশা কেলেংকারি করে রাজস্বের ১১৬ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে হাসীনার অতি কাছের সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী আবুল হোসেন। পদ্মা সেতুর নকশা চুড়ান্ত অনুমোদন না করেই এ অর্থ হাতিয়ে নেয়া হয়। লুন্ঠিত অর্থ চলে গেছে ইউকে,ইউএসএ,কানাডার মত দেশে, দুদক সে প্রমানও পেয়েছে। হলমার্ক ও তার সাথে সংশ্লিষ্ট ৫টি প্রতিষ্ঠান লুটেছে ৩,৬০০ কোটি টাকা। হলমার্ক সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলা শাখাকে ভিত্তি করে ১৮টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা থেকে এলসি জালিয়াতি ও ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে ডাকাতি করেছে ২,৬৮৫ কোটি টাকা। ডেসটিনি লুটেছে ৩,৩০০ কোটি টাকা। মাল্টি লেভেল মার্কিটিং কোম্পানি লুটেছে ৩,৭০০ কোটি টাকা। অস্তিত্বহীন আবাসন প্রকল্পের কথা প্রচার করে গ্রাহকদের ১৫০০ কোটি হাতিয়ে লাপাত্তা হয়েছে ম্যাক্সিম গ্রুপের এমডি হাবিবুর রহমান। তার সে লুটের কাজে সহযোগিতা করেছে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড.আলাউদ্দীন এবং ফরিদপুর-১ এর এমপি আব্দুর রহমান। লুন্ঠিত এ ১৭ হাজার কোটি টাকার একটি কানা কড়িও সরকার উদ্ধার করতে পারিনি।” কথা হলো,এসব দুর্বৃত্ত ডাকাতগণ যখন দিনের পর দিন,বছরের পর বছর ধরে হাজার হাজার কোটি ডাকাতি করছিল তখন সরকারের পুলিশ, ডিবি, দুদক, প্রশাসনিক কর্মকতা ও মন্ত্রীগণ কি করছিল? তারা কি তখন বসে বসে আঙ্গুল চুষেনি? অথচ এখন তারাই বিরোধীদলের নেতাকর্মি ও সাধারণ মুছল্লিদের শান্তিপূর্ণ মিছিল ও সমাবেশ ভন্ডুল করতে সর্বশক্তি নিয়ে নেমেছে। এ থেকে কি প্রমানিত হয়? জনগণের রাজস্বের অর্থে প্রতিপালিত এসব প্রতিষ্ঠানের মূল কাজটি জনগণের জানমাল পাহারা দেয়া নয়,বরং সেটি হলো সরকারের গদি পাহারা দেয়া। আর একটি অজনপ্রিয় দুর্বৃত্ত সরকারের গদি পাহারা দেয়ার কাজ কি এতই সহজ? পুলিশের কাজ এখন শুধু শুধু হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রীদের পাহারা দেয়া নয়,বরং জেলা,থানা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে আওয়ামী ক্যাডারদের জানমাল ও বাড়ীঘর পাহারা দেয়াও। পুলিশ,ডিবি,দুদক ও প্রশাসনিক কর্মকতাদের সব সময় তো সে কাজেই শেষ হয়ে যায়। জনগণের জানমালের পাহারা দেয়ার ফুরসত কোথায়? সামর্থই বা কোথায়? সরকার তাই পুলিশের এজেন্ডা থেকেই সেটি বাদ দিয়ে দিয়েছে।তাই যতদিন এ সরকার ক্ষমতায় থাকবে ততদিন শুধু জনগণের জানমালই শুধু বিপদে পড়বে না,বিপদে পড়বে দেশও।অথচ এ গণশত্রুদের বেতন জোগাতে হবে জনগণকেই।



জনগণ কি আঙ্গুল চুষবে?

দেশ আজ ধ্বংসের মুখে। তবে এ মুহুর্তে আওয়ামী লীগের নিপাতও অনিবার্য। ১৯৭৫ সালে স্বৈরাচারি মুজিব নিজে মরে গেলেও তার দল বেঁচে যায়। কিন্তু এবার শেখ হাসিনা বেঁচে গেলেও তার দল যে বাঁচছে না সেটি সুনিশ্চিত। এতবড় দুর্বৃত্তকবলিত একটি দলকে বাঁচিয়ে রাখার চেয়ে বড় দুর্বৃত্তি দেশে আর কি হতে পারে? কিছু বিষাক্ত গোখরা বা কিছু হিংস্র নেকড়েকে বাঁচানোর মধ্যে দেশের এত বড় অকল্যাণ নাই। তাতে দেশ ধ্বংস হয় না। কিন্তু আওয়ামী লীগের মত একটি দল বাঁচলে অসম্ভব করবে শুধু গণতন্ত্রকেই নয়,স্বাধীন দেশরূপে বাংলাদেশের বেঁচে থাকাটিও। তাছাড়া তাদের মূল এজেন্ডাটি শুধু গণতন্ত্র ও দেশধ্বংস নয়,বরং ইসলাম ও মুসলিম স্বার্থের উপর আঘাত হানাটিও। সুখের বিষয় যে,বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ সেটি বুঝতে শুরু করেছে,ফলে বিপুল সংখ্যায় তারা ময়দানে নেমে এসেছে। এতবড় গণবিস্ফোরণ আউয়ুব বা মুজিবের বিরুদ্ধে হয়নি,এরশাদের বিরুদ্ধেও হয়নি। আগের কোন গণ-আন্দোলনে হাজার হাজার মানুষ কাফনের কাপড় পড়ে ময়দানে নামেনি। হাজার হাজার নারীও ঝাঁটা নিয়েও রাস্তায় নামেনি।দেশের কোথাও পূর্বে এরূপ লক্ষ লক্ষ মুসল্লির সমাবেশও হয়নি। সরকারের বিরুদ্ধে মানুষ এতটাই ক্ষিপ্ত যে হরতালের ডাক দিলেই মানুষ স্বতস্ফুর্ত ভাবে সেটি পালন করে। এ আন্দোলন তাই শুধু ছাত্র আন্দোলন বা রাজনৈতীক আন্দোলন নয়।এ আন্দোলন ছাত্র-অছাত্র,রাজনৈতীক-অরাজনৈতীক,নারী-পুরুষ, শহুরে ও গ্রামীন তথা সকল মানুষের আন্দোলন। ফলে হাসিনার বুঝতে বাঁকি নাই,তার দুঃশাসনের শেষ দিনটি আজ ঘনিয়ে এসেছে। স্বৈরাচারি শাসকের নিজের কুরসি ছাড়া অন্য কিছুর উপর দরদ থাকে না। ফলে দেশ ধ্বংস হলেও তাতে তাদের আপত্তি থাকে না। পতনের মুখে সিরিয়ার বর্তমান স্বৈরাচারি শাসক বাশার আল আসাদ তাই নিজ দেশের জনগণের উপর লাগাতর বিমান হামলা করছে। প্রশ্ন হলো,এ অবস্থায় বাংলাদেশের জনগণ কি করবে? তারা কি বসে বসে আঙ্গুল চুষবে? সরকার তো সেটিই চায়।সরকার চায় দেশের ইসলামপন্থিগণ নিজেদের ভিন্ন ধর্মীয় ফেরকাগত বিশ্বাস নিয়ে বিভেদে লিপ্ত হোক এবং সে সুযোগে তারা আরো কিছুকাল শাসন ও শোষনের সুযোগ পাক। অতীতে ব্রিটিশ শাসকগণ তেমন একটি উদ্দেশ্য নিয়েই কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসার ন্যায় বহু মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত করেছিল। তেমনি একটি লক্ষ্য নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারও আলেমদের উপর অর্থবিনিয়োগ করছে। বহুদিনের ফেরকাগত বিরোধকে তীব্রতর করতে আলেমের লেবাসধারি কিছু পথভ্রষ্ট ব্যক্তিকে ময়দানেও নামিয়েছে।



ঘরে আগুন লাগলে বা দেশে যুদ্ধ শুরু হলে সে যুদ্ধে দেশকে বাঁচানোর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোন কাজ থাকে না। দেশ বাঁচলেই নানা দলের নানা রাজনীতি থাকে। তাছাড়া ইস্যু এখানে শুধু দেশের স্বাধীনতা ও রাজনীতি বাঁচানো নয়,বরং ইসলাম বাঁচানো। সরকার শুধু দেশেরই শত্রু নয়।তাদের দুষমনি স্রেফ জামায়াতে ইসলাম,ইসলামী ছাত্রশিবির,হিজবুত তাহরির বা বিএনপির বিরুদ্ধে নয়। তারা ইসলামেরও ঘোরতর শত্রু। সে শত্রুটা যে কতটা প্রকট সেটি প্রমান করেছে সংবিধান থেকে আল্লাহর উপর আস্থার কথাটি বিলুপ্ত করে। কোন কাগজে আল্লাহর নাম লেখা থাকলে কোন ঈমানদারকে আল্লাহর সে পবিত্র নাম মুছে দেয়ার সাহস রাখে? বরং সে কাগজকে সে সম্মান করে। অথচ আওয়ামী লীগ সংবিধান থেকে আল্লাহর উপর আস্থার বানিটি মুছে দিয়ে মহা বেঈমানি করেছে। আল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের অবস্থানটি তারা আরো সুস্পষ্ট করেছে যারা নাস্তিক,মহান আল্লাহতায়ালা ও তাঁর মহান রাসূলের বিরুদ্ধে যারা অকথ্য ভাষায় ইন্টারনেট-ব্লগে গালিগালাজ করেছে তাদের সাথে জোট বাঁধার মধ্য দিয়ে। তারা জোট বেঁধেছে ভারতের সাথেও। ফলে এ সরকারের উপর আল্লাহর অভিসম্পত ও আযাব অনিবার্য। তাই এমুহুর্তে চাই সকল ঈমানদারদের মাঝে একতা। দলগত,ফেরকাগত বা আদর্শগত বিরোধ নিয়ে বিভক্ত থাকলে তা কেবল আযাবই নামিয়ে আনবে। এমন বিভক্তির বিরুদ্ধে মহান আল্লাহতায়ালার হুশিয়ারিটি অতি কঠোর। পবিত্র কোরআনে তিনি বলেছেন,“তোমরা তাদের মত হয়ো না যারা আল্লাহর পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট ঘোষণা আসার পরও পরস্পরে বিভক্ত হলো ও মতবিরোধ সৃষ্টি করলো।এবং তাদের জন্য রয়েছে বিশাল আযাব।” –(সুরা আল ইমরান,আয়াত ১০৫)।

মুসলমানদের জন্য বিভক্তি তাই কোন গ্রহনযোগ্য পথ হতে পারে না। নিষিদ্ধ পথ হলো এটি। লড়াই ছাড়া যেমন মুক্তি নাই, একতা ছাড়াও তেমনি পথ নাই। পবিত্র কোরআনে তাই বলা হয়েছে,"তোমরা সকলে মিলে আল্লাহর রশি তথা কোরআনকে দৃঢ় ভাবে আঁকড়ে ধরো এবং পরস্পরে বিচ্ছিন্ন হয়ো না" –(সুরা আল ইমরান,আয়াত ১০৫)। 
একতার পথ বেয়েই আসে মহান আল্লাহর সাহায্য এবং বিজয়। তাছাড়া দেশের সকল শয়তানি শক্তি আজ একতাবদ্ধ। অথচ একতাবদ্ধ হওয়াটি তাদের কাছে ধর্ম নয়। এটি নিছক তাদের রাজনীতি। ইসলামে বিরুদ্ধে তাদের এ একতা পরকালে ভয়ানক আযাবই বাড়াবে। অথচ মুসলমানের কাছে একাতাবদ্ধ হওয়াটি নিছক রাজনীতি নয়,এটি তার ঈমানদারি। একতার মধ্য দিয়েই ঘটে আল্লাহর প্রতি আনুগত্য। এবং এ পথেই আসে আখেরাতের মহাকল্যাণ। তাই শুধু দেশ বাঁচাতে নয়,আখেরাত বাঁচাতেও এ মুহুর্তে একতাবদ্ধ হওয়া ছাড়া মু’মিনের সামনে ভিন্ন পথ আছে কি? ৩১/০৩/১৩