Saturday, April 13, 2013

বাংলাদেশে শান্তি ও ন্যায় বিচার দাবীতে নিউ ইয়র্কের টাইম স্কয়ারে ছবিতে বিক্ষোভ


বাংলাদেশে শান্তি ও ন্যায় বিচার
 দাবীতে নিউ ইয়র্কের টাইম 
স্কয়ারে ছবিতে বিক্ষোভ




                   বাংলাদেশে শান্তি ও ন্যায় বিচার দাবীতে নিউ ইয়র্কের টাইম স্কয়ারে আমেরিকার বিভিন্ন 
                   মুসলিম সংগঠনের আয়োজিত বিক্ষোভে উপস্থিত জনতার খন্ড খন্ড অংশ।






























বাংলাদেশে শান্তি ও ন্যায় বিচার দাবীতে নিউ ইয়র্কের টাইম স্কয়ারে 
আমেরিকার বিভিন্ন মুসলিম সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দিচ্ছেন 






                        




























বাংলাদেশে ন্যায় বিচার ও শান্তির দাবীতে নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে বিশাল বিক্ষোভ








বাংলাদেশে ন্যায় বিচার ও শান্তির দাবীতে 
নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে বিশাল বিক্ষোভ

বাংদেশে মানবাধিকারের চরম লংঘন, ক্যাঙ্গারু কোর্টে দেশটির শীর্ষস্থানীয় ইসলামী নেতৃবৃন্দসহ বিরোধী দলীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে মানবাধিকার তথা যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করে তাদেরকে মৃত্যুদন্ড দেয়ার প্রক্রিয়া এবং সরকারী বাহিনী পরিচালিত সাম্প্রতিক গণহত্যার প্রতিবাদে গতকাল ১৩ এপ্রিল শনিবার দুপুরে নিউইয়র্কে এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ম্যানহাটানে টাইমস স্কোয়ারে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বাংলাদেশী আমেরিকানদের সামাজিক, ধর্মীয় ও কমিউনটি সংগঠন ছাড়াও মূলধারার বিভিন্ন সংগঠনের দশ সহ¯্রাধিক নেতা-কর্মী ও সমর্থক অংশগ্রহণ করেন।



আমেরিকানস ইউনাইটেড ফর হিউম্যান রাইটস এর ব্যানারে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে তথাকথিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বাতিল করে ইতোমধ্যে যেসব নেতার বিরুদ্ধে মৃত্যুদন্ডাদেশ দেয়া হয়েছে তাদের দন্ড প্রত্যাহার ও ট্রাইব্যুনাল বাতিল করে বর্তমান সংকট নিরসনের মাধ্যমে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে একটি ট্রুথ এন্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন গঠণ করে সমঝোতায় উন্নীত হওয়ার আহবান জানান। তারা আরো বলেন, ৪২ বছর আগে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সংঘটিত অপরাধের দায়ভার পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের এবং সেসময় যারা দেশটির পরিচালনায় নিয়োজিত ছিলেন সেসব বেসামরিক লোকদের। স্বাধীনতার পর পর বাংলাদেশ সরকার চিহ্নিত ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীকে ভারতের মধ্যস্থতায় ১৯৭৪ সালে মুক্তি দিয়েছে। দীর্ঘ চার দশক পর সরকার তার প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক শক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যার তীর ছুঁড়ে তাদেরকে ঘায়েল করতেই প্রহসনে বিচারের ব্যবস্থা করেছে। 



তারা বলেন, দেশটির সর্বজন শ্রদ্ধেয় ইসলামী নেতাদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদন্ডের রায় ঘোষণা শুরু করার পর সারা দেশে প্রতিবাদের যে ঝড় উঠেছে তা দমন করতে গিয়ে গত ফেব্রুয়ারী ও মার্চ মাসে সরকারের বিভিন্ন বাহিনী ও দলীয় ক্যাডারদের নির্বিচার গুলিবর্ষণে ২ শতাধিক নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, কয়েক হাজার লোক আহত হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে এবং অসংখ্য মানুষকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে বিনাবিচারে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে এবং তাদেরকে রিমান্ডে নিয়ে অত্যাচার চালিয়ে জোর করে মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায় করা হচ্ছে। তারা সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন করে বিভিন্ন ইসলামী সংগঠনের উপর দোষ চাপানো হচ্ছে। বক্তারা স্বাধীন বিচার কমিশন গঠণ করে এসব হত্যার তদন্ত করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবী জানান।
তারা বাংলাদেশ সরকারকে আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে জাতিসংঘের তত্বাবধানে বসনিয়া, রুয়ান্ডা, সিয়েরা লিওনের যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের অনুরূপ নতুন ট্রাইব্যুনাল গঠণ করে প্রকৃত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিচার করার উদ্যোগ নেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করতে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রতি আহবান জানান। তারা আরো বলেন, বর্তমান ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম বিচার প্রক্রিয়া বহির্ভূত ও বিদেশে অবস্থানরত একজন অজ্ঞাত পরিচয় আইনজীবীর সাথে স্কাইপে ও ই-মেইলের মাধ্যমে বিচার সম্পর্কিত আলোচনা এবং নির্দেশনা নিয়ে ট্রাইব্যুনালকে বিতর্কিত ও অগ্রহণযোগ্য প্রমাণ করেছেন। এধরনের কেলেঙ্কারির পর এই আদালতের অস্তিত্ব বজায় রেখে নির্দোষ লোকদের হত্যা করার ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাওয়া কোন মতেই মেনে নেয়া যায় না। তারা বলেন, বাংরাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ও স্বজন হারিয়েছেন তাদের অবশ্যই ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। কিন্তু একটি সভ্য সমাজে নিরীহ মানুষকে ভূঁয়া সাক্ষী ও দলিলের মাধ্যমে শাস্তি দেয়ার এই প্রক্রিয়া ইতিহাসে ন্যাক্কারজনক অধ্যায় সৃষ্টি করবে এবং সমাজকে বিভক্ত করে ফেলবে, ইতোমধ্যে বাংলাদেশে তা প্রকট হয়ে উঠেছে। বিশ্ব যখন শান্তির অন্বেষায় বিভিন্ন ইতিবাচক উদ্যোগ নিচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশ অশান্তির বিষবৃক্ষ রোপন করতে পারে না। বিশ্ব বিবেক এতে নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করবে না।
এছাড়া তারা মায়ানমার সরকারের ছত্রছায়ায় রোহিঙ্গা মুসলিমদের উপর গত কয়েক দশক যাবত নিপীড়ন চালানো এবং মুসলিম জনগোষ্ঠীর নাগরিক অধিকার অব্যাহতভাবে অস্বীকার করে যাওয়া এবং তাদের ধর্মীয় স্থাপনা একের পর এক ধ্বংস করার চেষ্টার প্রতিবাদ করে তাদেরকে মায়ানমারের নাগরিকত্ব প্রদানের আহবান জানান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করে মাওলানা জুলকিফুল চৌধুরী। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ আবু সামীহাহ সিরাজুল ইসলাম ও নতুন প্রজন্মের আকিব আজাদের পরিচালনায় স্বাগত বক্তব্য আমেরিকানস ইউনাইটেড ফর হিউম্যান রাইটস এর সভাপতি মোবাশ্বির রহমান। বক্তব্য রাখেন কেয়ার নিউইয়র্কের সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াদ রামাদান, ইসলামিক সার্কেল অফ নর্থ আমেরিকা-ইকনার আমীর নাঈম এম বেগ, মজলিস আস শুরার আমীর ইমাম আলহাজ্ব তালিব আবদুর রশীদ, কেয়ার এর এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর নিহাদ আওয়াদ, মুসলিম উম্মাহ অফ নর্থ আমেরিকা-মুনার ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট আবু আহমেদ নূরুজ্জামান, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ডা: মুজিবুর রহমান মজুমদার, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি গিয়াস আহমেদ, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান জিল্লু, বিএনপি নেতা ডা: গুলজার আহমেদ, মুনার ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন, ইন্টারনেট ইসলামিক ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ জহিরউদ্দিন, হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট ফর বাংলাদেশ-এইচআরডিবির প্রেসিডেন্ট মাহতাব উদ্দিন আহমেদ, ওম্যান রাইটস এন্ড ডেভেলপমেন্ট ফর বাংলাদেশ এর চেয়ারপার্সন শাহানা মাসুম, পার্ক আমেরিকান সোসাইটির প্রেসিডেন্ট শামস উজ জামান, মজলিস আস শুরার জাষ্টিস ডিপার্টমেন্টের চেয়ারপার্সন ইমাম আইয়ুব আবদুল বাকী, মজলিস আস শুরার সাবেক আমীর ইমাম আল আমীর আবদুল লতিফ, বাইস এর শুরা সদস্য ডা: মোহাম্মদ জুন্নুন চৌধুরী, মানবাধিকার কর্মী বিউটি আকন্দ, মসজিদ বায়তুশ শরফের ইমাম জাকারিয়া মাহমুদ, হিলসাইড ইসলামিক সেন্টারের প্রেসিডেন্ট আবদুল আজিজ ভূঁইয়া, দারুল কোরআন ওয়া সুন্নাহ’র ইমাম মুফতি রুহুল আমিন প্রমুখ। সমাবেশে বাংলাদেশ ও মায়ানমারের উপর লিখিত সুপারিশ পাঠ করেন নতুন প্রজন্মের শারমিন ও ইশরাত রুমা।   


দেশের শান্তি ও মাহমুদুর রহমানের মুক্তি কামনায় আমেরিকার ৩০ টি মসজিদে বিশেষ দোয়া

দেশের শান্তি ও মাহমুদুর রহমানের মুক্তি কামনায়
আমেরিকার ৩০ টি মসজিদে বিশেষ দোয়া

নিউ ইয়র্ক: বাংলাদেশের শান্তি কামনা ও আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের মুক্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ টি মসজিদে দোয়া করেছে উলামা মাশায়েখরা। 
১২ এপ্রিল শক্রবার বাদ জুমা মাজলিসুল উলামা ইউএসএ উদ্যোগে এ বিশেষ দোয়া পালন করা হয়। 
মাজলিসুল উলামা ইউএসএ’র প্রচার সম্পাদক মুফতি লুৎফুর রহমান ক্বাসিমী বলেন, আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির শান্তি ও সংকটময় পরিস্থিতি থেকে উত্তোরণ এবং আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের মুক্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ টির মতো মসজিদে দোয়া করা হয়েছে। 
উল্লেখযোগ্য মসজিদগুলো হলো- ম্যানহাটন মদিনা মসজিদ, আস্সাফা জামে মসজিদ, বায়তুস শরাফ জামে মসজিদ, ব্রন্স বায়তুল আমান জামে মসজিদ, ইসলামিক মিশন অফ আমেরিকা (আবু দাউদ মসজিদ), ব্রুকলীনের বায়তুল মামুর, চার্চ ম্যাকডোনাল্ড এলাকায় অবস্থিত বাইতুল জান্নাহ জামে মসজিদ, দারুন জান্নাহ জামে মসজিদ, ব্রুকলীন ইসলামিক সেন্টার (বিআইসি), নুরুল ইসলাম জামে মসজিদ, জামাইকা হাজী ক্যাম্প মসজিদ, মাসজিদে বেলাল, ফাতেমা মসজিদ, সানি সাইড মসজিদ, মসজিদে আল বাকী, হিউজটন আবু বকর মসজিদ, হিউজটন আলবিন জামে মসজিদ, হিউজটন পেয়ারল্যান্ড মসজিদ, বেটাউন মসজিদ, হিউজটন নর্থশোর মসজিদ।  
মাজলিসুল উলামা ইউএসএ’র সভাপতি মাওলানা রফিক আহমেদ বলেন, মাহমুদুর রহমান তার পত্রিকার মাধ্যমে ধর্মদ্রোহীদের মুখোশ প্রকাশ করে দিয়েছেন। একইসঙ্গে আমার দেশ পত্রিকা মজলুম মানুষের কন্ঠসর হিসেবে সরকারের অত্যাচার নির্যাতন, অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রকাশ করেছে। তিনি বলেন, সরকার রাসূল (সাঃ) কে কটাক্ষকারী নাস্তিকদের গ্রেফতার না করে দুঃখজনকভাবে নবী প্রেমিক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে। এতে আবারো প্রমাণ হয়েছে সরকার কতিপয় নাস্তিককে ইসলাম ধর্ম ও রাসূল (সাঃ) এর বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছে। আমেরিকার ইমাম, উলামা ও মুফতিগণের পক্ষ থেকে মাজলিসুল উলামা নাস্তিকদের শাস্তি ও মাহমুদুর রহমানের অবিলম্বে মুক্তি দাবী করছে।



মাহমুদুর রহমানের মুক্তির দাবী করেছে আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাব





মাহমুদুর রহমানের মুক্তির দাবী করেছে 
আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাব

নিউ ইয়র্ক : আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহামুদুর রহমানকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে গত ১১ এপ্রিল নিউইয়র্কে আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাব প্রতিবাদ সভা করেছে। প্রতিবাদ সভায় প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল আহসানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন এখন সময় পত্রিকার সম্পাদক কাজী শামসুল হক, এনটিভি’র বিশেষ প্রতিনিধি ফরিদ আলম, দৈনিক ইত্তেফাক এর যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি এবং বাঙালী ’র বিশেষ প্রতিনিধি শহীদুল ইসলাম,আজকাল পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক মোহাম্মদ সাঈদ ও বিশেষ প্রতিনিধি সৈয়দ ওয়ালি-উল-আলম, এটিএন বাংলা’র বার্তা সম্পাদক ফকির সেলিম, এটিএন নিউজ’র রিজু মোহাম্মদ, বৈশাখী টিভির জাহিদ হোসেন ও এখন সময় পত্রিকার প্রতিনিধি আরাফাত রহমান। 
সভা পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক দর্পণ কবীর।
প্রতিবাদ সভা থেকে বক্তারা মাহমুদুর রহমানের নিঃশর্ত মুক্তি দাবী করেছে। একইসঙ্গে পত্রিকাটির ছাপাখানার খুলে দেয়ার জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা।
তারা বলেন, আমরা বাক স্বাধীনতার হস্তক্ষেপ কোন ভাবেই মেনে নিতে পারি না। মাহমুদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে সরকার শুভ বুদ্ধির পরিচয় দেয়নি। আশা করি সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে মাহমুদুর রহমানকে অবিলম্বে মুক্তি দিবে।

Friday, April 12, 2013

মাহমুদুর রহমানের মুক্তি এবং আমার দেশ প্রেসের তালা খুলে দেয়ার দাবী নিউইয়র্কের সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীরা


মাহমুদুর রহমানের মুক্তি এবং আমার দেশ প্রেসের তালা 
খুলে দেয়ার দাবী নিউইয়র্কের সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীরা



নিউইয়র্কে সর্বস্তরের প্রবাসীদের সভায় মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতারের প্রতিবাদ দৈনিক আমার দেশ’র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, নির্ভিক কলম সৈনিক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতারের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন নিউইয়র্ক প্রবাসী সর্বস্তরের বাংলাদেশী। নিউইয়র্কের সাংবাদিক, রাজনৈতিক, সাহিত্যিক, কবি ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ প্রতিবাদ সভায় অবিলম্বে মাহমুদুর রহমানের নি:শর্ত মুক্তি এবং আমার দেশ’র ছাপাখানার তালা খুলে দেয়ার দাবী জানান। 
‘প্রবাসী বাংলাদেশী সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবী সমাজ’ ব্যানারে ১১ এপ্রিল বৃহস্প্রতিবার জ্যাকসন ফুডকোর্ট রেষ্টুরেন্টে এই প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বক্তারা আমার দেশ পত্রিকা অফিস থেকে তাকে গ্রেফতারের ঘটনার তীব্র নিন্দাও জানান এবং সরকারের কর্মকান্ডেরও তীব্র সমালোচনা করে বলেন, সরকার মত প্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী নয়।
তারা বলেন, শেখ হাসিনা সরকার তার পিতার পথে হাটছে। বাকশালের মতো গণমাধ্যমের কন্ঠরোধ করতে সরকার মরিয়া হয়ে উঠেছে। 
বক্তারা আরো বলেন, জনগণের উপর সরকারের জুলুম, অত্যাচার, নির্যাতন, পুলিশী হামলা-মামলা, হত্যা, গুম খুনের ঘটনায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে, সরকারের পায়ের নীচে মাটি সরে গেছে। 
সমাবেশে বক্তারা আমার দেশ-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত দেশে প্রবাসে তীব্র আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন এবং প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের ষ্টেট ডিপার্টমেন্ট, হোয়াইট হাউজ ও জাতিসংঘ ভবনের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করে সংশ্লিষ্ট দফতরে স্মারকলিপি পেশ এবং ইউএস সিনেটর, কংগ্রেসম্যানসহ বিশ্ব নেতৃবৃন্দর সাথে সাক্ষাৎ করে মাহমুদুর রহমানকে মুক্ত করার আন্দোলনকে জোরদার করার উপর গুরুত্বারোপ করেন।


সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন প্রবীণ সাংবাদিক ও কলামিস্ট মনজুর আহমদ। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সাপ্তাহিক এখন সময় সম্পাদক কাজী শামসুল হক, বিশিষ্ট সাংবাদিক মঈনুদ্দীন নাসের, সাপ্তাহিক বাংলাদেশ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ এ খান, সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা সম্পাদক আবু তাহের, সাংবাদিক মাহমুদ খান তাসের, আইঅন বাংলাদেশ টিভির পরিচালক রিমন ইসলাম, নিউইয়র্ক ভিত্তিক বার্তা সংস্থা ইউনাইটেড নিউজ অব আমেরিকা (ইউএনএ) সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহমেদ, এনটিভি’র বিশেষ প্রতিনিধি ফরিদ আলম, বিশিষ্ট শিক্ষাবীদ অধ্যাপক ড. শওকত আলী, ড. এহতেশামুল হক, অধ্যক্ষ নূরুল আলম পলাশ, কবি-লেখক এবিএম সালেউদ্দিন, সাংবাদিক মনজুরুল হক, বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী মাস্টার, আজহারুল হক মিলন, জিল্লুর রহমান জিল্লু, গিয়াস আহমেদ, বেলাল মাহমুদ, হেলাল উদ্দিন, রাফেল তালুকদার, চট্টগ্রাম সমিতি ইউএসএ’র সভাপতি কাজী সাখাওয়াত হোসেন আজম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এমলাক হোসেন ফয়সাল, এডভোকেট এ কাইয়্যুম চৌধুরী, কমিউনিটি এক্টিভিস্ট সৈয়দ কামাল উদ্দিন, খন্দকার ফরহাদ, কিউ জামান, মোহাম্মদ সেলিম, কাজী আশরাফ হোসেন নয়ন, মোহাম্মদ আলী হোসেন, শাহ আলম দুলাল, বিলাল চৌধুরী, এএফ মিসবাহউজ্জামান, আব্দুল্লাহ আল আরিফ, মাহমুদা বেগম প্রমুখ। 
সাংবাদিক শেখ সিরাজুল ইসলামের পরিচালনায় এই সমাবেশে ইন্টারনেট পত্রিকা বাংলানিউজ২৪.কম-এর হেড অব দ্য নিউজ মাহমুদ মেনন ও বাংলা নিউজ-এর বিশেষ প্রতিনিধি শিহাবউদ্দিন কিসলু সহ কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের অর্ধ শতাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
https://www.youtube.com/watch?v=e6mZvKVbiJs&feature=youtu.be

Thursday, April 11, 2013

মাহমুদুর রহমানের মুক্তির দাবীতে নিউ ইয়র্কে প্রতিবাদ সভা, র‌্যালী ও মানববন্ধন


মাহমুদুর রহমানের মুক্তির দাবীতে নিউ ইয়র্কে
প্রতিবাদ সভা, র‌্যালী ও মানববন্ধন




নিউ ইয়র্ক: দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতারের নিন্দা জানিয়ে প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন করেছে রাইটার্স ফোরাম অফ নর্থ আমেরিকা। সভা থেকে অবিলম্বে মাহমুদুর রহমানের নিঃশর্ত মুক্তির দাবী করা হয়। 
১১ এপ্রিল বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কের ব্রুকলীনের ওজনপার্কের মতিন রেষ্টুরেন্টে এ সভার আয়োজন করা হয়। একই দাবীতে সভা শেষে লিবার্টি এভিনিউতে সংগঠনটি মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। 
প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের সাংবাদিকতার ইতিহাসে দৈনিক আমার দেশ ও মাহমুদুর রহমান অক্ষয় হয়ে থাকবেন। ইসলাম বিরোধী ষড়যন্ত্র, দূর্নীতি প্রতিরোধ, স্কাইপি কেলেংকারী ও সাম্রাজ্যবাদের থাবা মকাবেলায় মাহমুদুর রহমানের যোগ্য নেতৃত্বে আমার দেশ অসাধারণ ভূমিকা রেখে আসছে। অন্যদিকে তল্পিবাহক অসংখ্য গণমাধ্যম সাথে নিয়েও যখন সরকার একটি পত্রিকার সাথে পেরে উঠেনি, তখনই সরকার ফ্যাসিবাদী কায়দায় কলম সৈনিক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার করলো। 
বক্তারা বলেন, আমার দেশ পত্রিকা সরকারের নাস্তিক চেহারা জনগণের সামনে প্রকাশ করে দেয়ার কারণেও প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাংলাদেশ এখন চোর ডাকাতের দেশ উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, চুরি ডাকাতি করলে কোন সমস্যা নেই, বরং চোর ডাকাতকে চিনিয়ে দিলেই মাহমুদুর রহমানের মতো দেশ প্রেমিকদের গ্রেফতার হতে হয়। 
বক্তারা অবিলম্বে মাহমুদুর রহমানের নামে সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যহার করে নিঃশর্ত মুক্তি জানান। অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে লেখক সাংবাদিকদের নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষণা দেন তারা। 
প্রতিবাদ সভায় রাইটার্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক নঈম উদ্দিনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন ফোরাম সভাপতি আব্দুল্লাহ আল আরিফ, শিক্ষাবিদ আহমদ আবু উবায়দা, ইঞ্জিনিয়ার শাব্বীর আহমদ, মাহমুদুর রহমান, ক্রীড়া সংগঠক মনিরুল ইসলাম, এনামুল হক লিটন, খবীরুজ্জামান প্রমূখ। সভা পরিচালনা করেন বিশিষ্ট লেখক রশীদ আহমদ।

মাহমুদুর রহমানের মুক্তির দাবীতে র‌্যালী:  
দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতারে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়ে নিউ ইর্য়কের রাজপথে র‌্যালীর আয়োজন করেছেন সামাজিক সংগঠন বাংলাদেশী আমেরিকার প্রগ্রেসিভ ফোরাম (বাপফ)। র‌্যালীতে অংশগ্রহনকারী বিক্ষুব্ধ প্রবাসীরা শ্লোগানে শ্লোগানে তাঁর নি:শর্ত মুক্তির দাবী করেন। ১১ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় (বাংলাদেশ সময় শুত্রুবার সকালে)  নিউইয়র্কে অন্যতম বাংলাদেশী অধ্যুষিত ব্রুকলীনের চার্চ-ম্যাকডোনান্ডে সময়ের সাহসী কলম সৈনিক দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান নি:শর্ত মুক্তি, সারা দেশে প্রতিনিয়ত মানবাধিকার লঙ্গন, সরকার কর্তৃক বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মীদের দমন-পীড়ন বন্ধের দাবীতে প্রতিবাদ ও র‌্যালীর  আয়োজন করে সংগঠনটি। বিপুল সংখ্যক লোকের উপস্থিতিতে র‌্যালী ব্রুকলীনের সেকেন্ড এভিনিউ থেকে শুরু করে ম্যাকডোনাল্ড এভিনিউ, র্চাচ এভিনিউ , দাহিল রোড এ মৌন মিছিল শেষে সংক্ষপ্তি সমাবেশের মিলিত হন সন্ধীপ সোসাইটি মিলনায়তনে। সমাবেশ সভাপতিত্ব করেন ফোরামের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক নূরুল ইসলাম । 
বক্তব্য রাখেন, আমেরিকান ইউনাইটেড ফর হিউম্যান রাইট্স এর আহবায়ক মোবাশ্বির আহমেদ, বাপফের উপদেষ্টা অধ্যাপক কাজী মুহাম্মদ ইসমাঈল, সাধারণ সম্পাদক  মাহবুবুর রহমান, নিউইয়র্কে ক্যাবি সংগঠনের নেতা ডা. আজিজ উল্লাহ, ওলামা ফেডারেশনের নেতা মাওলানা ইব্রাহীম খলিল, মাওলানা সিহাবুদ্দিন, সাংবাদিক শহীদুল্লাহ কায়সার, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ। পরিচালনা করেন সংগঠনের প্রচার সম্পাদক সাইফুল্লাহ বেলাল। 
বক্তাগণ বলেন, সৎ ও নির্ভীক কলম সৈনিক মাহমুদুর রহমারকে গ্রেফতার করে প্রমাণ করলো এই সরকার ফ্যাসিবাদ সরকার। তারা বলেন, মাহমুদুর রহমান আমার দেশ পত্রিকার সাহসী সম্পাদকই নয়, তিনি একজন ঈমানদার, তৌহিদী জনতার কন্ঠসর ছিলেন। তাকে স্তব্ধ করার জন্য নাটক সাজায়ে গ্রেফতার করা হয়েছে। 
বক্তাগণ বলেন, সরকার নিজেদের দুর্বলতা আর র্ব্যথতাকে ঢাকতে আজ মিডিয়ার উপর তাদের নগ্ন হস্তক্ষেপ করছে। এই অবস্থা চলতে দেয়া যায় না । আওয়ামী নাস্তিকদের ষড়ষন্ত্র থেকে দেশকে বাঁচাতে দেশে প্রবাসে সকলে সচ্চার হওয়ার আহবান জানান সমাবেশে। 




মাহমুদুর রহমানাকে গ্রেফতারের প্রতিবাদ জানিয়েছে রাইটার্স ফোরাম অফ নর্থ আমেরিকা





মাহমুদুর রহমানাকে গ্রেফতারের প্রতিবাদ
জানিয়েছে রাইটার্স ফোরাম অফ নর্থ আমেরিকা

নিউ ইয়র্ক: দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে রাইটার্স ফোরাম অফ নর্থ আমেরিকা। একইসঙ্গে মাহমুদুর রহমানের নামে দায়ের করা সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার নিঃশর্ত দাবী করেছে সংগঠনটি। 

এক যৌথ বিবৃতিতে রাইটার্স ফোরামের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল আরিফ ও সাধারণ সম্পাদক নঈম উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের সাংবাদিকতার ইতিহাসে দৈনিক আমার দেশ ও মাহমুদুর রহমান অক্ষয় হয়ে থাকবেন। ইসলাম বিরোধী ষড়যন্ত্র, দূর্নীতি প্রতিরোধ, স্কাইপি কেলেংকারী ও সাম্রাজ্যবাদের থাবা মুকাবেলায় মাহমুদুর রহমানের যোগ্য নেতৃত্বে আমার দেশ অসাধারণ ভূমিকা রেখে আসছে। অন্যদিকে তল্পিবাহক অসংখ্য গণমাধ্যম সাথে নিয়েও যখন সরকার একটি পত্রিকার সাথে পেরে উঠেনি, তখনই সরকার ফ্যাসিবাদী কায়দায় কলম সৈনিক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার করলো। 
তারা বলেন, আমার দেশ পত্রিকা উইকিলিকসে শেখ মুজিবের শাসন আমল প্রকাশের ঘোষণা দেয়ার পর দিনই সরকার ভীত হয়ে মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে। এ ঘোষণার পর তাকে গ্রেফতার করে সরকার নিজেই প্রমাণ করেছে আয়ামী লীগ সবসময় বাক স্বাধীনতা ও অবাধ তথ্য প্রবাহের বিপক্ষ শক্তি। 
বিবৃতিতে নেতারা অবিলম্বে মাহমুদুর রহমানের নামে সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যহার করে নিঃশর্ত মুক্তি জানান। অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে লেখক সাংবাদিকদের নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষণা দেন তারা। 

                                          সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

Monday, April 8, 2013

নিজের গুলিতে লিঙ্গ হারানো যুবলীগ নেতার ভিডিও নিয়ে ফেসবুকে তোলপাড়

 
নিজের গুলিতে লিঙ্গ হারানো যুবলীগ 
নেতার ভিডিও নিয়ে ফেসবুকে তোলপাড়

৮ এপ্রিল হরতালে যুবলীগের এক নেতার নিজের গুলিতে লিঙ্গ হারিয়েছেন দাবী করে একটি ভিডিও পোস্ট ইসলামী আন্দোলন নামের একটি ফেসবুক গ্রুপ। অল্প সময়ে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ছে। হুমড়ি খেয়ে ফেসবুক ইউজাররা ভিডিওটি দেখছে। একে অন্যকে ট্যাগে এবং শেয়ার করছে। লিঙ্গ হারানো নেতার নাম সালাউদ্দিন বলে দাবী করা হয়েছে।


ইসলামী আন্দোলন তাদের পোস্টে লিখেছে: 
নিজের গুলিতে লিঙ্গ হারিয়েছে এক যুবলীগ ক্যাডার !
সকাল দশটা। স্থান চট্টগ্রাম লালখান বাজার মোড়। যুবলীগ ছাত্রলীগের সশস্ত্র ক্যাডাররা প্রস্তুতি নিচ্ছে হেফাজতের সমাবেশে হামলা দেয়ার জন্য। ৩ জন নিজেদের সাথে রাখা অস্ত্র বের করলো। কিন্তু বিপত্তি বাধে যুবলীগ ক্যাডার সালাউদ্দিনের। কোমড় থেকে অস্ত্র বের করার সময় সেখানেই বের হয়ে যায় একটি গুলি। এতে তার লিঙ্গটি বিচি সহ রাস্তায় পড়ে যায়। এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে বিচিহিন সদ্য নুঃপুংশুক এই যুবলীগ ক্যাডার। : 
ভিডিওটির ফেসবুক লিংক : https://www.facebook.com/photo.php?v=431401226953859

নষ্ট শহরে হেফাজতের গণবিস্ফোরণ


নষ্ট শহরে হেফাজতের গণবিস্ফোরণ


ফরহাদ মজহার


হেফাজতি ইসলামের ছয় এপ্রিলের সমাবেশ শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে টান টান উত্তেজনা এবং আতংকের সাময়িক অবসান ঘটেছে। সাময়িক এ কারণে যে সমাজের বিরোধ যে-রাজনৈতিক রূপ লাভ করেছে তাতে এই টান টান অবস্থার পরিসমাপ্তি সহজে ঘটবে না। বরং হেফাজতে ইসলামের মধ্য দিয়ে নতুন একটি রাজনৈতিক শক্তির আবির্ভাব আমরা দেখলাম। যাদের সম্পর্কে সমাজের ধারণা খুবই অল্প। বিদ্যমান দ্বন্দ্ব-সংঘাতের বাস্তবতা ও চরিত্রের কারণে তারা তাদের ধর্মীয় দাবিকে রাজনৈতিক দাবি হিশাবে হাজির করতে সক্ষম হয়েছে। শহুরে ভদ্রলোক ও বিদ্যমান ব্যবস্থার সুবিধাভোগী শ্রেণি তাদের পশ্চাতপদ ও গণবিরোধী চিন্তাচেতনার আবর্জনা এরপরও ঘাঁটতে থাকবে। দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকবে তারা। বুঝতে চেষ্টা করবে না কেন ঘটনাটি ঘটল। এর আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কারণ কী হতে পারে। গণতান্ত্রিক লড়াই সংগ্রামের বিপজ্জনক ঘাটতিগুলো কোথায়। না, সেই কঠিন পর্যালোচনার জায়গায় তারা যাবে না। তারা বলতে থাকবে এরা অসভ্য, অশিক্ষিত ও বর্বর। এরা যদি সমাজে প্রাধান্য বিস্তার করে তাহলে ‘সভ্যতা’ বলে কিছু থাকবে না। নোংরা বর্ণবাদ ও শ্রেণিঘৃণার তীব্রতা দেখব আমরা। ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ও ঘৃণার রাজনীতি সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর ইসলাম আতংকের সঙ্গে একাকার হয়ে যেতে থাকবে।

বাংলাদেশে যারা খেয়ে না খেয়ে ইসলাম বিরোধী রাজনীতির বিরোধিতা করেন তারা জোরে শোরে প্রচার করছেন হেফাজতে ইসলাম আসলে জামাতে ইসলামেরই নামান্তর। একাত্তরে জামাতে ইসলামির ভূমিকার কারণে ইসলাম সম্পর্কে জনগণের মধ্যে যে মন্দ ধারণা রয়েছে তারা তাকে ব্যবহার করে হেফাজতে ইসলামকেও কালিমালিপ্ত করতে চাইছেন। অথচ জামায়াত ও হেফাজতে ইসলামের সম্পর্ক সাপে নেউলে বললেও খুব অত্যুক্তি হয় না। এই ধরণের প্রচার বা প্রপাগাণ্ডা ইসলামের প্রতি শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণির একাংশের ঘৃণা ও বিদ্বেষ শুধু নয়, তুমুল অনাগ্রহও প্রমাণ করে। বাংলাদেশে ইসলামি রাজনীতির বিভিন্ন ধারাকে বুঝতেও সহায়ক হয় না।

বলাবাহুল্য, হেফাজতে ইসলামির কর্মসূচি, রাজনীতি কিম্বা তাদের কাজের কৌশল ইত্যাদি সবকিছুরই পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে। ধর্ম ও রাজনীতি উভয় দিক থেকে। হেফাজতে ইসলামের সমালোচনা বা পর্যালোচনা যে কেউই করতে পারেন। কিন্তু শুরুতেই যে দিকটা বোঝা গুরুত্বপূর্ণ সেটা হচ্ছে ছয় তারিখের কর্মসূচি বাংলাদেশের সমাজ ও রাজনীতির একটা গুণগত পরিবর্তন ঘটিয়েছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইসলাম আর গৌণ অবস্থানে নয়, বরং নির্ধারক অবস্থানে নিজেকে হাজির করবার ইঙ্গিত দিয়ে গেছে। এট ভাল কি মন্দ সেই বিচার এখানে এখন করব না। বরং এই সমাবেশের কয়েকটি শিক্ষণীয় দিক রয়েছেন সেই দিকগুলোই সংক্ষেপে আলোচনা করব।

আসুন নিজেরা মধ্যযুগীয় কুসংস্কার থেকে আগে মুক্ত হবার চেষ্টা করি। তার আগে অন্যকে মুক্তির বাণী শোনানোর অভ্যাস যতো তাড়াতাড়ি ত্যাগ করতে পারব ততোই আমরা রাজনৈতিক ভাবে হুঁশে আসব। অন্তত এক কদম এগিয়ে যাবো।

এটা তো পরিষ্কার যে এই নষ্ট শহরে যে সকল জালিম শ্রেণি এই দেশের জনগণকে শোষণ লুন্ঠন করে টিকে থাকে এবং যারা মনে করে এই দেশ শুধু তাদের, গণমানুষের পদভারে শহর প্রকম্পিত করে হেফাজতের জমায়েত বুঝিয়ে দিয়েছে তারা ছাড়াও বাংলাদেশে আরও কোটি কোটি মানুষ আছে। যে যুদ্ধ এই জালিম শ্রেণী শুরু করেছে তার সম্ভাব্য পরিণতি কী হতে পারে তার খানিক আভাস মাত্র তারা দিয়ে গেল। ক্ষমতাসীন ও তাদের পক্ষের শ্রেণি ও শক্তিগুলো সেই দিকেই দেশকে নেবে কিনা সেটা এখন তাদের ওপরই নির্ভর করছে।

হেফাজতে ইসলাম শুধু ঢাকায় সমাবেশ করতে চায় নি, তারা তাদের কর্মসূচিকে বলেছে ‘লং মার্চ’। মাও জে দং-এর নেতৃত্বে চিনের নিপীড়িত লড়াকু শ্রমিক-কৃষকদের নিয়ে গঠিত গণসৈনিকদের যুদ্ধকৌশল হিশাবে এই দীর্ঘ পদযাত্রার সঙ্গে তাদের কর্মসূচির নামকরণে মিল রাখার মধ্য দিয়ে হেফাজতে ইসলাম বুঝিয়ে দিয়েছে পার্থক্য থাকলেও মজলুমের যে কোন লড়াইয়ের ধরণের মধ্যে মিল থাকা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তাছাড়া তাঁরা দাবি করেছেন, দীর্ঘ পদযাত্রার মধ্য দিয়ে জনগণকে সম্পৃক্ত করবার এই কৌশল কমিউনিস্টদের রণকৌশল বলা ঐতিহাসিক ভুল। কারণ ইসলামের ইতিহাসে এই ধরণের পদযাত্রার প্রচুর উদাহরণ রয়েছে।

এই সমাবেশ পণ্ড করবার জন্য সরকার সব রকমের চেষ্টা করেছে। শেষ চেষ্টা ছিল সেক্টরস কমাণ্ডার্স ফোরাম, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি এবং আরও সাতাশটি সংগঠ্নকে মাঠে নামানো। হেফাজতে ইসলামকে ‘প্রতিরোধ’ করবার জন্য হরতাল ও অবরোধের কর্মসূচিও দেওয়া হয়েছে। ট্রেন, বাস, ফেরি, নৌকা, লঞ্চসহ সব যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। তারপরও লক্ষ লক্ষ মানুষের বৃহত্তম যে সমাবেশ ঢাকায় হয়েছে তা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় ঘটনা হয়ে থাকবে। ঢাকায় যারা আসতে পারেন নি, তারা সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ করেছেন। যদি তাদের হিশাব নেওয়া হয় এবং যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে তাতে দেখা যায় বড়োজোর এক দশমাংশ মানুষ ঢাকায় পৌছাতে পেরেছেন। এর পরও যে লক্ষ লক্ষ মানুষ ঢাকায় এসেছে তা রীতিমতো বিস্ময়কর।

এটাও বিস্ময়কর যে সমাবেশ আগাগোড়াই ছিল শান্তিপূর্ণ। হেফাজতের নেতৃবৃন্দ পুলিশ ও প্রশাসনকে যে কথা দিয়েছেন, সেই ওয়াদা মাফিক সময় মতো তাঁদের সমাবেশ শেষ করেছেন। এতে স্পষ্ট বোঝা গেল কর্মীদের ওপর নেতৃবৃন্দের নিয়ন্ত্রন যথেষ্ট শক্তিশালী। শান্তিপূর্ণ লড়াইয়ের উদাহরণ তাঁরা তৈরী করলেন।

এবার এই সমাবেশের দুই একটি গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্যের ইঙ্গিত দিয়ে শেষ করব।

প্রথমত এ যাবতকাল বাংলাদেশের রাজনীতিতে ধর্ম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে থাকলেও এই প্রথম বার ইসলাম নিজের প্রাধান্য নিয়ে হাজির হোল। শেখ হাসিনা ইসলামি রাজনীতিকে নির্মূল করতে গিয়ে তাকে আরও প্রতিষ্ঠিত করে গেলেন। ভাষা ও সংস্কৃতিভিত্তিক জাতীয়তাবাদের যে আধিপত্য গত ৪২ বছর আমরা বাংলাদেশে দেখেছি, তার দুর্বলতা ও ক্ষয়ের দিকটাও এতে প্রকট হয়ে উঠল।

নিজের মত প্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ ভাবে সভা সমাবেশ করবার অধিকার বাংলাদেশের যে কোন নাগরিকের আছে। হেফাজতের ১৩ দফা আমরা সমর্থন করি বা না করি নাগরিক হিশাবে আমাদের স্বীকার করতে হবে যাদের আমরা সমাজের বাইরে রেখে দিয়েছি, কথা বলতে দেই নি, যাদের ব্যাপারে অযৌক্তিক আতংক আমাদের মধ্যে কাজ করে – এই সমাজ ও রাষ্ট্র তাদেরও। অন্যের অধিকার অস্বীকার করলে নিজের অধিকার রক্ষার নিশ্চয়তা আমরা হারাই। তাদের ‘অশিক্ষিত’, ‘বর্বর’, ‘অসভ্য’ বলার মধ্য দিয়ে নিজের অশিক্ষা, বর্বরতা ও অসভ্যতাই আমরা প্রকাশ করি। যে কারুরই আমরা বিরোধিতা করতে পারি, সমালোচনা করতে পারি, কিন্তু তার নাগরিক অধিকার যদি আমরা স্বীকার না করি তাহলে বাংলাদেশকে আরও অন্ধকার গহ্বরে আমরা ঠেলে দেব।

দ্বিতীয়ত ইসলাম প্রশ্ন আগামি দিনে বাংলাদেশের রাজনীতির নির্ধারক হয়ে উঠবে। রাজনীতি যেভাবে গঠিত হতে থাকবে তার মধ্যে ইসলাম প্রশ্নের মীমাংসা গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য হয়ে নানা ভাবে হাজির হতে থাকবে। সমাজতত্ত্বে, রাজনৈতিক বিশ্লেষণে, সাংস্কৃতিক বিনির্মাণে। কে কিভাবে করবেন তার ওপর তাঁদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে। ইসলাম প্রশ্নের সঠিক মোকাবিলা না হলে রাজনীতিতে নেতিবাচক প্রবণতা বাড়বে। অন্যদিকে এর সঠিক মীমাংসা বাংলাদেশের রাজনীতির বৈপ্লবিক রূপান্তর ঘটাতে পারে। অর্থাৎ বাংলাদেশের বৈপ্লবিক রূপান্তরের প্রশ্নও ইসলাম প্রশ্নের মীমাংসার সঙ্গে আরও সরাসরি যুক্ত হয়ে পড়ল। অর্থাৎ ইসলাম আদৌ জালিমের বিরুদ্ধে মজলুমের লড়াইয়ের সহায়ক হতে পারে কিনা, সেটা এখন রাজনীতির ব্যবহারিক প্রশ্নে পরিণত হবে। একে উপেক্ষা করবার সুযোগ কম। বাংলাদেশের জনগণের বিপ্লবী রণনীতি ও রণকৌশলের বয়ান অন্যদের কাছ থেকে মুখস্থ ধার করবার ও বাইরে থেকে আমদানি করবার সুযোগ কমে যাবে। গণবিচ্ছিন্ন থেকে কেতাবি দিবাকল্পনা পেটিবুর্জোয়া অতো তাড়াতাড়ি হয়তো ত্যাগ করবে না। কিন্তু যাঁরা জানেন কেতাব নয়, জনগণই বিপ্লব করে তারা বাংলাদেশের মজলুম বা নিপীড়িত জনগণকে আন্তরিক ভাবেই বোঝার চেষ্টা করবেন। বিশ্ব ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সৃষ্টিশীল ভাবে ভাবতে দেরি করবেন না। সুনির্দিষ্ট সামাজিক, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতা বিচার করে নিজেদেরই লড়াই সংগ্রামের অভিজ্ঞতার আলোকে ইসলাম প্রশ্নে্র মীমাংসা তারা করবেন। এই কাজ এড়িয়ে যাবার বিশেষ আর উপায় নাই।

তৃতীয়ত, এই সমাবেশের তাৎপর্য হেফাজতে ইসলামের দাবির মধ্যে নয়, বরং সমাবেশে লক্ষ লক্ষ মানুষের উপস্থিতি নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে তাদের সাংগঠনিক ক্ষমতা প্রদর্শন। হেফাজতে ইসলাম সমাবেশে তাদের ১৩ দফা দাবি পেশ করেছে। যেসব দাবিগুলোর প্রতি সমাজে আপত্তি উঠেছে এবং সেই দাবিকে প্রচার প্রপাগাণ্ডার কেন্দ্রে আনা হচ্ছে সেইসব নতুন কোন দাবি নয়। আমরা চাই বা না চাই, ভবিষ্যতে এই দাবির পক্ষেবিপক্ষে তর্কবিতর্ক ও জনমতই রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ নির্ণায়ক হয়ে উঠবে।

নিজের মত প্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ ভাবে সভা সমাবেশ করবার অধিকার বাংলাদেশের যে কোন নাগরিকের আছে। হেফাজতের ১৩ দফা আমরা সমর্থন করি বা না করি নাগরিক হিশাবে আমাদের স্বীকার করতে হবে যাদের আমরা সমাজের বাইরে রেখে দিয়েছি, কথা বলতে দেই নি, যাদের ব্যাপারে অযৌক্তিক আতংক আমাদের মধ্যে কাজ করে – এই সমাজ ও রাষ্ট্র তাদেরও। অন্যের অধিকার অস্বীকার করলে নিজের অধিকার রক্ষার নিশ্চয়তা আমরা হারাই। তাদের ‘অশিক্ষিত’, ‘বর্বর’, ‘অসভ্য’ বলার মধ্য দিয়ে নিজের অশিক্ষা, বর্বরতা ও অসভ্যতাই আমরা প্রকাশ করি। যে কারুরই আমরা বিরোধিতা করতে পারি, সমালোচনা করতে পারি, কিন্তু তার নাগরিক অধিকার যদি আমরা স্বীকার না করি তাহলে বাংলাদেশকে আরও অন্ধকার গহ্বরে আমরা ঠেলে দেব। হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা আমাদের মধ্যযুগে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে না, কারন ইতিহাস যা অতিক্রম করে আসে সেখানে প্রত্যাবর্তন করে না, যদিও বর্তমানে থেকে অতীতের ভার কাঁধে নিয়েই তাকে ভবিষ্যৎ গঠনের কাজ করে যেতে হয়। সেই দিক থেকে নাগরিক অধিকার অস্বীকার করবার রাজনীতি ও সংস্কৃতিটাই বরং মধ্যযুগীয়।

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের ক্ষেত্রে গরিব ও সমাজের প্রান্তিক মানুষগুলোর অংশগ্রহণের সুযোগ দূরে থাক, তাদের কথা বলার অধিকারও আমরা স্বীকার করি না। কারণ আমাদের আপত্তি তারা ধর্মের ভাষায় কথা বলে, পবিত্র কোরান শরিফকে আক্ষরিক ভাবে ব্যাখ্যা করে, কথায় কথায় হাদিসের উদাহরণ দেয়, পুঁজিতান্ত্রিক ভোগী সমাজে গা ঢেলে দেবার বিরোধিতা করে, নীতিনৈতিকতার ওপর অতিরিক্ত জোর দেয়, ইত্যাদি। এতে আমাদের মধ্যবিত্ত জীবন আতংকিত বোধ করে। আমরা চিৎকার শুরু করি তের দফা মানা যায় না। ফলে ধর্মতাত্ত্বিক বয়ানের মোড়কের মধ্যে এই মানুষগুলোর নৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক উদ্বিগ্নতা আমাদের কানে এসে পোঁছায় না। কারন এদের আমরা মানুষ বলেই গণ্য করি না। আমরা আগেই প্রচার শুরু করি বাংলাদেশ তালেবান হয়ে যাচ্ছে। হেফাজতে ইসলামের হাত থেকে পাশ্চাত্য শক্তি এখন আমাদের রক্ষা করুক। পাশ্চাত্য সভ্যতা ছাড়া অন্য কোন সভ্যতা আমরা কল্পনাও করতে অক্ষম। হেফাজতিদের হাত থেকে নিষ্কৃতি পাবার কাতর প্রার্থনায় আকাশ বাতাস ধ্বনিত হয়ে ওঠে। নিজেদের বদ্ধমূল কুসংস্কারের দুর্গন্ধ নিজেদের নাকে এসেও আর লাগে না। বহুদিন হয় আমাদের ঘ্রাণ শক্তিসহ ইন্দ্রিয়ের অন্যান্য বৃত্তিও আমরা নষ্ট করে ফেলেছি।

আসুন নিজেরা মধ্যযুগীয় কুসংস্কার থেকে আগে মুক্ত হবার চেষ্টা করি। তার আগে অন্যকে মুক্তির বাণী শোনানোর অভ্যাস যতো তাড়াতাড়ি ত্যাগ করতে পারব ততোই আমরা রাজনৈতিক ভাবে হুঁশে আসব। অন্তত এক কদম এগিয়ে যাবো।

৭ এপ্রিল ২০১৩। ২৪ চৈত্র ১৪১৯। শ্যামলী।