Sunday, April 14, 2013

নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে বিক্ষোভে





নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে বিক্ষোভ বিস্তারিত




নিউ ইয়র্ক: বাংলাদেশে ন্যায় বিচার ও শান্তির দাবীতে নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনের টাইমস স্কয়ারে আমেরিকার মুসলিম সংগঠনগুলোর এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ১৩ এপ্রিল শনিবার আমেরিকানস ইউনাটেড ফর হিউম্যান রাইটস এ বিক্ষোভ সমাশের আয়োজন করে। সমাবেশ শেষে টাইমস স্কয়ারে বিক্ষোভকারীরা এক র‌্যালী বের করে। 



বিক্ষোভে বাংলাদেশে চরম মানবাধিকর লংঘন, ট্রাইবুনালের মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধের বিচারের নামে দেশটির শীর্ষস্থানীয় ইসলামী নেতৃবৃন্দসহ বিরোধী দলীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে মৃত্যুদন্ড দেয়ার প্রক্রিয়া এবং গণহত্যার প্রতিবাদ জানানো হয়। এছাড়াও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের মুক্তির দাবী করা হয়। এসময় আমেরিকান মুসলিম নেতারা বার্মার আরাকান প্রদেশে মুসলিম নিধন বন্ধের আহবান জানান। অনুষ্ঠিত সমাবেশে বাংলাদেশী আমেরিকানদের সামাজিক, ধর্মীয় ও কমিউনটি সংগঠন ছাড়াও মূলধারার বিভিন্ন সংগঠনসহ ১২ টি আমেরিকান মুসলিম সংগঠনের ৮/১০ হাজার নেতা কর্মী অংশ নেয়। 
কেয়ার এর এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর নিহাদ আওয়াদ বলেন, আমি আওয়ামী লীগ, বিএনপি কিংবা জামায়াত করিনা। একজন আমেরিকান মুসলমান হিসেবে বাংলাদেশের মুসলমানদের পক্ষে কথা বলছি। দেশটি মুসলমানরা নির্যাতিত হচ্ছে। সংখ্যাগরিষ্ট মুসলিম দেশ হওয়ার পরও ইসলাম ও রাসূল (সাঃ) এর কুৎসা রটনা করা হয়। রাসূল (সাঃ) কে কটাক্ষকারীদের বিচার দাবী নিয়ে দেশটির মুসলমানরা আন্দোলন করে যাচ্ছে। আন্দোলকারী মুসলমানদের উপর সরকারী বাহিনী নির্বিচারে গুলি চালিয়ে  হত্যা করা হচ্ছে। গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের উপর নির্যাতন করা হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, ৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সংঘটিত মানবতা বিরোধী অপরাধের গঠিত ট্রাইবুনাল কার্যক্রম ইতোমধ্যেই বিতর্কিত হয়ে পড়েছে। ট্রাইবুনালের একটি রায় নিয়ে দেশী সহিংসতায় গণহত্যার ঘটনা উদ্বেগজনক। ৪২ বছর আগের ঘটনার বিচার করতে গিয়ে সংঘাতময় পরিস্থিতি কোন ভাবেই কাম্য হতে পারেনা। আমরা বাংলাদেশে শান্তি ও মুসলমানদের প্রতি ন্যায় বিচার চাই। 
তিনি বলেন, ট্রাইবুনালের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে মনে হচ্ছে ইসলামী সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে হত্যার করার জন্য ৪২ বছর পূর্বের একটি ইস্যুকে সামনে আনা হয়েছে। 





ইসলামিক সার্কেল অফ নর্থ আমেরিকা-ইকনার আমীর নাঈম এম বেগ বলেন, বিশ্ববিখ্যাত আলেম মাওলানা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদী বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদন্ডের রায় ঘোষণা শুরু করার পর সারা দেশে প্রতিবাদের যে ঝড় উঠেছে তা দমন করতে গিয়ে গত ফেব্রুয়ারী ও মার্চ মাসে সরকার গণহত্যা চালিয়েছে।
তিনি বলেন, সরকারের বিভিন্ন বাহিনী ও দলীয় ক্যাডারদের নির্বিচার গুলিবর্ষণে ২ শতাধিক নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, কয়েক হাজার লোক আহত হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে এবং অসংখ্য মানুষকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে বিনাবিচারে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে। 
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর পরিকল্পিতভাবে নির্যাতন করে বিভিন্ন ইসলামী সংগঠনের উপর দোষ চাপানো হচ্ছে। বক্তারা স্বাধীন বিচার কমিশন গঠণ করে এসব হত্যার তদন্ত করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবী জানান। 
মুসলিম উম্মাহ অফ নর্থ আমেরিকা-মুনার ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট আবু আহমেদ নূরুজ্জামান বলেন, বর্তমান সরকার বিরোধী শক্তির ১ লাখের অধিক নেতা কর্মীকে মামলা দিয়ে কারাগারে প্রেরণ করেছে। এছাড়াও প্রতিনিয়ত বিরোধী শক্তির নেতা কর্মীদের গুম ও খুন করা হচ্ছে। এক কথায় দেশটিতে চরম মানবাধিকার লংঘন হচ্ছে। তাই একজন আমেরিকান মুসলমানরা মানবাধিকার রক্ষার জন্য বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাড়িয়েছে। 



তিনি আরো বলেন, ৪২ বছর আগে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সংঘটিত অপরাধের দায়ভার পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের এবং সেসময় যারা দেশটির পরিচালনায় নিয়োজিত ছিলেন সেসব বেসামরিক লোকদের। স্বাধীনতার পর পর বাংলাদেশ সরকার চিহ্নিত ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীকে ভারতের মধ্যস্থতায় ১৯৭৪ সালে মুক্তি দিয়েছে। দীর্ঘ চার দশক পর সরকার তার প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক শক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যার তীর ছুঁড়ে তাদেরকে ঘায়েল করতেই প্রহসনে বিচারের ব্যবস্থা করেছে। অবিলম্বে তথাকথিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বাতিল করে ইতোমধ্যে যেসব নেতার বিরুদ্ধে মৃত্যুদন্ডাদেশ দেয়া হয়েছে তাদের দন্ড প্রত্যাহার ও ট্রাইব্যুনাল বাতিল করে বর্তমান সংকট নিরসনের মাধ্যমে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে একটি ট্রুথ এন্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন গঠণ করে সমঝোতায় উন্নীত হওয়ার আহবান জানান।



আমেরিকানস ইউনাইটেড ফর হিউম্যান রাইটস এর সভাপতি মোবাশ্বির রহমান বলেন, বাংলাদেশ সরকারকে আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে জাতিসংঘের তত্বাবধানে বসনিয়া, রুয়ান্ডা, সিয়েরা লিওনের যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের অনুরূপ নতুন ট্রাইব্যুনাল গঠণ করে প্রকৃত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিচার করার উদ্যোগ নেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করতে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রতি আহবান জানান। 
তিনি বলেন, বর্তমান ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম বিচার প্রক্রিয়া বহির্ভূত ও বিদেশে অবস্থানরত একজন অজ্ঞাত পরিচয় আইনজীবীর সাথে স্কাইপে ও ই-মেইলের মাধ্যমে বিচার সম্পর্কিত আলোচনা এবং নির্দেশনা নিয়ে ট্রাইব্যুনালকে বিতর্কিত ও অগ্রহণযোগ্য প্রমাণ করেছেন। এধরনের কেলেঙ্কারির পর এই আদালতের অস্তিত্ব বজায় রেখে নির্দোষ লোকদের হত্যা করার ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাওয়া কোন মতেই মেনে নেয়া যায় না। 
সমাবেশে থেকে বক্তারা মায়ানমার সরকারের ছত্রছায়ায় রোহিঙ্গা মুসলিমদের উপর গত কয়েক দশক যাবত নিপীড়ন চালানো এবং মুসলিম জনগোষ্ঠীর নাগরিক অধিকার অব্যাহতভাবে অস্বীকার করে যাওয়া এবং তাদের ধর্মীয় স্থাপনা একের পর এক ধ্বংস করার চেষ্টার প্রতিবাদ করে তাদেরকে মায়ানমারের নাগরিকত্ব প্রদানের আহবান জানান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করে মাওলানা জুলকিফুল চৌধুরী। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ আবু সামীহাহ সিরাজুল ইসলাম ও নতুন প্রজন্মের আকিব আজাদের পরিচালনায় স্বাগত বক্তব্য আমেরিকানস ইউনাইটেড ফর হিউম্যান রাইটস এর সভাপতি মোবাশ্বির রহমান। 



সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন, কেয়ার নিউ ইয়র্কের সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াদ রামাদান, মজলিস আস শুরার আমীর ইমাম আলহাজ্ব তালিব আবদুর রশীদ, মুনার ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন, ইন্টারনেট ইসলামিক ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ জহিরউদ্দিন, হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট ফর বাংলাদেশ-এইচআরডিবির প্রেসিডেন্ট মাহতাব উদ্দিন আহমেদ, ওম্যান রাইটস এন্ড ডেভেলপমেন্ট ফর বাংলাদেশ এর চেয়ারপার্সন শাহানা মাসুম, পার্ক আমেরিকান সোসাইটির প্রেসিডেন্ট শামস উজ জামান, মজলিস আস শুরার জাষ্টিস ডিপার্টমেন্টের চেয়ারপার্সন ইমাম আইয়ুব আবদুল বাকী, মজলিস আস শুরার সাবেক আমীর ইমাম আল আমীর আবদুল লতিফ, বাইস এর শুরা সদস্য ডা: মোহাম্মদ জুন্নুন চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ডা: মুজিবুর রহমান মজুমদার, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি গিয়াস আহমেদ, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান জিল্লু, বিএনপি নেতা ডা: গুলজার আহমেদ, মানবাধিকার কর্মী বিউটি আকন্দ, মসজিদ বায়তুশ শরফের ইমাম জাকারিয়া মাহমুদ, হিলসাইড ইসলামিক সেন্টারের প্রেসিডেন্ট আবদুল আজিজ ভূঁইয়া, দারুল কোরআন ওয়া সুন্নাহ’র ইমাম মুফতি রুহুল আমিন প্রমুখ। সমাবেশে বাংলাদেশ ও মায়ানমারের উপর লিখিত সুপারিশ পাঠ করেন নতুন প্রজন্মের শারমিন ও ইশরাত রুমা।  



আমেরিকার ঐতিহাসিক টাইমস স্কয়ারে বেলা ১২ টা থেকে ৩ টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে আমেরিকান মুসলমানরা অংশ নেন। বিক্ষোভে অংশ নেয়ার জন্য সকাল থেকে নিউ ইয়র্কের বিভিন্ন স্থান থেকে বাস, সাবওয়ে ও প্রাইভেট গাড়ীতে নারী, পুরুষ ও তরুণ তরুণীরা টাইম স্কয়ারে জমায়েত হয়। সবার হাতে ছিলো বিভিন্ন ধরণের শ্লোগান লেখা প্লেকার্ড। এগুলোর মধ্যে উল্লেখ্য হলো- সেইভ বাংলাদেশ, গণহত্যা বন্ধ কর, নারী নির্যাতন বন্ধ কর, দেলাওয়ার হোসেন সাঈদী, মাওলানা নিজামী, গোলাম আজম, আলী আহসান মুজাহিদ ও মীর কাসেম আলীকে মুক্তি দাও দিতে হবে। এছাড়াও সাংবাদিক মাহমুদুর রহমানের মুক্তি দাবী করে শ্লোগান ও প্লেকার্ড প্রদর্শন করা হয়। বিক্ষোভের ফাঁকে ফাঁকে জামায়াত নেতাদের মুক্তি এবং শেখ হাসিনার পদত্যাগ দাবী করে শ্লোগান দেয়া হয়। 
ব্যস্তততম নগরীতে এতো বড় বিক্ষোভ দেখে আমেরিকানরা থমকে দাড়িয়ে ছিলো। অনেকেই বিক্ষোভের কারণ জিজ্ঞাসা করতে থাকে। বিক্ষোভের সংবাদ গুরুত্ব দিয়ে আমেরিকার বেশ কয়েকটি মিডিয়াতে স্থান পায়। আয়োজকরা এ বিক্ষোভকে বাংলাদেশের ইস্যূতে আমেরিকায় সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ বলে দাবী করেছেন।  


http://coalitionbdus.blogspot.com/2013/04/blog-post_202.html
ছবি নিউজে যে সব ছবি বাদ পড়েছে: 













                     


সর্ব প্রথম নিউজ http://coalitionbdus.blogspot.com/2013/04/blog-post_1226.html













Saturday, April 13, 2013

বাংলাদেশে শান্তি ও ন্যায় বিচার দাবীতে নিউ ইয়র্কের টাইম স্কয়ারে ছবিতে বিক্ষোভ


বাংলাদেশে শান্তি ও ন্যায় বিচার
 দাবীতে নিউ ইয়র্কের টাইম 
স্কয়ারে ছবিতে বিক্ষোভ




                   বাংলাদেশে শান্তি ও ন্যায় বিচার দাবীতে নিউ ইয়র্কের টাইম স্কয়ারে আমেরিকার বিভিন্ন 
                   মুসলিম সংগঠনের আয়োজিত বিক্ষোভে উপস্থিত জনতার খন্ড খন্ড অংশ।






























বাংলাদেশে শান্তি ও ন্যায় বিচার দাবীতে নিউ ইয়র্কের টাইম স্কয়ারে 
আমেরিকার বিভিন্ন মুসলিম সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দিচ্ছেন 






                        




























বাংলাদেশে ন্যায় বিচার ও শান্তির দাবীতে নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে বিশাল বিক্ষোভ








বাংলাদেশে ন্যায় বিচার ও শান্তির দাবীতে 
নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে বিশাল বিক্ষোভ

বাংদেশে মানবাধিকারের চরম লংঘন, ক্যাঙ্গারু কোর্টে দেশটির শীর্ষস্থানীয় ইসলামী নেতৃবৃন্দসহ বিরোধী দলীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে মানবাধিকার তথা যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করে তাদেরকে মৃত্যুদন্ড দেয়ার প্রক্রিয়া এবং সরকারী বাহিনী পরিচালিত সাম্প্রতিক গণহত্যার প্রতিবাদে গতকাল ১৩ এপ্রিল শনিবার দুপুরে নিউইয়র্কে এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ম্যানহাটানে টাইমস স্কোয়ারে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বাংলাদেশী আমেরিকানদের সামাজিক, ধর্মীয় ও কমিউনটি সংগঠন ছাড়াও মূলধারার বিভিন্ন সংগঠনের দশ সহ¯্রাধিক নেতা-কর্মী ও সমর্থক অংশগ্রহণ করেন।



আমেরিকানস ইউনাইটেড ফর হিউম্যান রাইটস এর ব্যানারে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে তথাকথিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বাতিল করে ইতোমধ্যে যেসব নেতার বিরুদ্ধে মৃত্যুদন্ডাদেশ দেয়া হয়েছে তাদের দন্ড প্রত্যাহার ও ট্রাইব্যুনাল বাতিল করে বর্তমান সংকট নিরসনের মাধ্যমে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে একটি ট্রুথ এন্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন গঠণ করে সমঝোতায় উন্নীত হওয়ার আহবান জানান। তারা আরো বলেন, ৪২ বছর আগে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সংঘটিত অপরাধের দায়ভার পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের এবং সেসময় যারা দেশটির পরিচালনায় নিয়োজিত ছিলেন সেসব বেসামরিক লোকদের। স্বাধীনতার পর পর বাংলাদেশ সরকার চিহ্নিত ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীকে ভারতের মধ্যস্থতায় ১৯৭৪ সালে মুক্তি দিয়েছে। দীর্ঘ চার দশক পর সরকার তার প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক শক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যার তীর ছুঁড়ে তাদেরকে ঘায়েল করতেই প্রহসনে বিচারের ব্যবস্থা করেছে। 



তারা বলেন, দেশটির সর্বজন শ্রদ্ধেয় ইসলামী নেতাদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদন্ডের রায় ঘোষণা শুরু করার পর সারা দেশে প্রতিবাদের যে ঝড় উঠেছে তা দমন করতে গিয়ে গত ফেব্রুয়ারী ও মার্চ মাসে সরকারের বিভিন্ন বাহিনী ও দলীয় ক্যাডারদের নির্বিচার গুলিবর্ষণে ২ শতাধিক নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, কয়েক হাজার লোক আহত হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে এবং অসংখ্য মানুষকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে বিনাবিচারে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে এবং তাদেরকে রিমান্ডে নিয়ে অত্যাচার চালিয়ে জোর করে মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায় করা হচ্ছে। তারা সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন করে বিভিন্ন ইসলামী সংগঠনের উপর দোষ চাপানো হচ্ছে। বক্তারা স্বাধীন বিচার কমিশন গঠণ করে এসব হত্যার তদন্ত করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবী জানান।
তারা বাংলাদেশ সরকারকে আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে জাতিসংঘের তত্বাবধানে বসনিয়া, রুয়ান্ডা, সিয়েরা লিওনের যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের অনুরূপ নতুন ট্রাইব্যুনাল গঠণ করে প্রকৃত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিচার করার উদ্যোগ নেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করতে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রতি আহবান জানান। তারা আরো বলেন, বর্তমান ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম বিচার প্রক্রিয়া বহির্ভূত ও বিদেশে অবস্থানরত একজন অজ্ঞাত পরিচয় আইনজীবীর সাথে স্কাইপে ও ই-মেইলের মাধ্যমে বিচার সম্পর্কিত আলোচনা এবং নির্দেশনা নিয়ে ট্রাইব্যুনালকে বিতর্কিত ও অগ্রহণযোগ্য প্রমাণ করেছেন। এধরনের কেলেঙ্কারির পর এই আদালতের অস্তিত্ব বজায় রেখে নির্দোষ লোকদের হত্যা করার ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাওয়া কোন মতেই মেনে নেয়া যায় না। তারা বলেন, বাংরাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ও স্বজন হারিয়েছেন তাদের অবশ্যই ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। কিন্তু একটি সভ্য সমাজে নিরীহ মানুষকে ভূঁয়া সাক্ষী ও দলিলের মাধ্যমে শাস্তি দেয়ার এই প্রক্রিয়া ইতিহাসে ন্যাক্কারজনক অধ্যায় সৃষ্টি করবে এবং সমাজকে বিভক্ত করে ফেলবে, ইতোমধ্যে বাংলাদেশে তা প্রকট হয়ে উঠেছে। বিশ্ব যখন শান্তির অন্বেষায় বিভিন্ন ইতিবাচক উদ্যোগ নিচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশ অশান্তির বিষবৃক্ষ রোপন করতে পারে না। বিশ্ব বিবেক এতে নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করবে না।
এছাড়া তারা মায়ানমার সরকারের ছত্রছায়ায় রোহিঙ্গা মুসলিমদের উপর গত কয়েক দশক যাবত নিপীড়ন চালানো এবং মুসলিম জনগোষ্ঠীর নাগরিক অধিকার অব্যাহতভাবে অস্বীকার করে যাওয়া এবং তাদের ধর্মীয় স্থাপনা একের পর এক ধ্বংস করার চেষ্টার প্রতিবাদ করে তাদেরকে মায়ানমারের নাগরিকত্ব প্রদানের আহবান জানান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করে মাওলানা জুলকিফুল চৌধুরী। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ আবু সামীহাহ সিরাজুল ইসলাম ও নতুন প্রজন্মের আকিব আজাদের পরিচালনায় স্বাগত বক্তব্য আমেরিকানস ইউনাইটেড ফর হিউম্যান রাইটস এর সভাপতি মোবাশ্বির রহমান। বক্তব্য রাখেন কেয়ার নিউইয়র্কের সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াদ রামাদান, ইসলামিক সার্কেল অফ নর্থ আমেরিকা-ইকনার আমীর নাঈম এম বেগ, মজলিস আস শুরার আমীর ইমাম আলহাজ্ব তালিব আবদুর রশীদ, কেয়ার এর এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর নিহাদ আওয়াদ, মুসলিম উম্মাহ অফ নর্থ আমেরিকা-মুনার ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট আবু আহমেদ নূরুজ্জামান, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ডা: মুজিবুর রহমান মজুমদার, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি গিয়াস আহমেদ, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান জিল্লু, বিএনপি নেতা ডা: গুলজার আহমেদ, মুনার ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন, ইন্টারনেট ইসলামিক ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ জহিরউদ্দিন, হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট ফর বাংলাদেশ-এইচআরডিবির প্রেসিডেন্ট মাহতাব উদ্দিন আহমেদ, ওম্যান রাইটস এন্ড ডেভেলপমেন্ট ফর বাংলাদেশ এর চেয়ারপার্সন শাহানা মাসুম, পার্ক আমেরিকান সোসাইটির প্রেসিডেন্ট শামস উজ জামান, মজলিস আস শুরার জাষ্টিস ডিপার্টমেন্টের চেয়ারপার্সন ইমাম আইয়ুব আবদুল বাকী, মজলিস আস শুরার সাবেক আমীর ইমাম আল আমীর আবদুল লতিফ, বাইস এর শুরা সদস্য ডা: মোহাম্মদ জুন্নুন চৌধুরী, মানবাধিকার কর্মী বিউটি আকন্দ, মসজিদ বায়তুশ শরফের ইমাম জাকারিয়া মাহমুদ, হিলসাইড ইসলামিক সেন্টারের প্রেসিডেন্ট আবদুল আজিজ ভূঁইয়া, দারুল কোরআন ওয়া সুন্নাহ’র ইমাম মুফতি রুহুল আমিন প্রমুখ। সমাবেশে বাংলাদেশ ও মায়ানমারের উপর লিখিত সুপারিশ পাঠ করেন নতুন প্রজন্মের শারমিন ও ইশরাত রুমা।   


দেশের শান্তি ও মাহমুদুর রহমানের মুক্তি কামনায় আমেরিকার ৩০ টি মসজিদে বিশেষ দোয়া

দেশের শান্তি ও মাহমুদুর রহমানের মুক্তি কামনায়
আমেরিকার ৩০ টি মসজিদে বিশেষ দোয়া

নিউ ইয়র্ক: বাংলাদেশের শান্তি কামনা ও আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের মুক্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ টি মসজিদে দোয়া করেছে উলামা মাশায়েখরা। 
১২ এপ্রিল শক্রবার বাদ জুমা মাজলিসুল উলামা ইউএসএ উদ্যোগে এ বিশেষ দোয়া পালন করা হয়। 
মাজলিসুল উলামা ইউএসএ’র প্রচার সম্পাদক মুফতি লুৎফুর রহমান ক্বাসিমী বলেন, আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির শান্তি ও সংকটময় পরিস্থিতি থেকে উত্তোরণ এবং আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের মুক্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ টির মতো মসজিদে দোয়া করা হয়েছে। 
উল্লেখযোগ্য মসজিদগুলো হলো- ম্যানহাটন মদিনা মসজিদ, আস্সাফা জামে মসজিদ, বায়তুস শরাফ জামে মসজিদ, ব্রন্স বায়তুল আমান জামে মসজিদ, ইসলামিক মিশন অফ আমেরিকা (আবু দাউদ মসজিদ), ব্রুকলীনের বায়তুল মামুর, চার্চ ম্যাকডোনাল্ড এলাকায় অবস্থিত বাইতুল জান্নাহ জামে মসজিদ, দারুন জান্নাহ জামে মসজিদ, ব্রুকলীন ইসলামিক সেন্টার (বিআইসি), নুরুল ইসলাম জামে মসজিদ, জামাইকা হাজী ক্যাম্প মসজিদ, মাসজিদে বেলাল, ফাতেমা মসজিদ, সানি সাইড মসজিদ, মসজিদে আল বাকী, হিউজটন আবু বকর মসজিদ, হিউজটন আলবিন জামে মসজিদ, হিউজটন পেয়ারল্যান্ড মসজিদ, বেটাউন মসজিদ, হিউজটন নর্থশোর মসজিদ।  
মাজলিসুল উলামা ইউএসএ’র সভাপতি মাওলানা রফিক আহমেদ বলেন, মাহমুদুর রহমান তার পত্রিকার মাধ্যমে ধর্মদ্রোহীদের মুখোশ প্রকাশ করে দিয়েছেন। একইসঙ্গে আমার দেশ পত্রিকা মজলুম মানুষের কন্ঠসর হিসেবে সরকারের অত্যাচার নির্যাতন, অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রকাশ করেছে। তিনি বলেন, সরকার রাসূল (সাঃ) কে কটাক্ষকারী নাস্তিকদের গ্রেফতার না করে দুঃখজনকভাবে নবী প্রেমিক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে। এতে আবারো প্রমাণ হয়েছে সরকার কতিপয় নাস্তিককে ইসলাম ধর্ম ও রাসূল (সাঃ) এর বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছে। আমেরিকার ইমাম, উলামা ও মুফতিগণের পক্ষ থেকে মাজলিসুল উলামা নাস্তিকদের শাস্তি ও মাহমুদুর রহমানের অবিলম্বে মুক্তি দাবী করছে।



মাহমুদুর রহমানের মুক্তির দাবী করেছে আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাব





মাহমুদুর রহমানের মুক্তির দাবী করেছে 
আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাব

নিউ ইয়র্ক : আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহামুদুর রহমানকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে গত ১১ এপ্রিল নিউইয়র্কে আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাব প্রতিবাদ সভা করেছে। প্রতিবাদ সভায় প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল আহসানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন এখন সময় পত্রিকার সম্পাদক কাজী শামসুল হক, এনটিভি’র বিশেষ প্রতিনিধি ফরিদ আলম, দৈনিক ইত্তেফাক এর যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি এবং বাঙালী ’র বিশেষ প্রতিনিধি শহীদুল ইসলাম,আজকাল পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক মোহাম্মদ সাঈদ ও বিশেষ প্রতিনিধি সৈয়দ ওয়ালি-উল-আলম, এটিএন বাংলা’র বার্তা সম্পাদক ফকির সেলিম, এটিএন নিউজ’র রিজু মোহাম্মদ, বৈশাখী টিভির জাহিদ হোসেন ও এখন সময় পত্রিকার প্রতিনিধি আরাফাত রহমান। 
সভা পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক দর্পণ কবীর।
প্রতিবাদ সভা থেকে বক্তারা মাহমুদুর রহমানের নিঃশর্ত মুক্তি দাবী করেছে। একইসঙ্গে পত্রিকাটির ছাপাখানার খুলে দেয়ার জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা।
তারা বলেন, আমরা বাক স্বাধীনতার হস্তক্ষেপ কোন ভাবেই মেনে নিতে পারি না। মাহমুদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে সরকার শুভ বুদ্ধির পরিচয় দেয়নি। আশা করি সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে মাহমুদুর রহমানকে অবিলম্বে মুক্তি দিবে।

Friday, April 12, 2013

মাহমুদুর রহমানের মুক্তি এবং আমার দেশ প্রেসের তালা খুলে দেয়ার দাবী নিউইয়র্কের সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীরা


মাহমুদুর রহমানের মুক্তি এবং আমার দেশ প্রেসের তালা 
খুলে দেয়ার দাবী নিউইয়র্কের সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীরা



নিউইয়র্কে সর্বস্তরের প্রবাসীদের সভায় মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতারের প্রতিবাদ দৈনিক আমার দেশ’র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, নির্ভিক কলম সৈনিক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতারের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন নিউইয়র্ক প্রবাসী সর্বস্তরের বাংলাদেশী। নিউইয়র্কের সাংবাদিক, রাজনৈতিক, সাহিত্যিক, কবি ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ প্রতিবাদ সভায় অবিলম্বে মাহমুদুর রহমানের নি:শর্ত মুক্তি এবং আমার দেশ’র ছাপাখানার তালা খুলে দেয়ার দাবী জানান। 
‘প্রবাসী বাংলাদেশী সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবী সমাজ’ ব্যানারে ১১ এপ্রিল বৃহস্প্রতিবার জ্যাকসন ফুডকোর্ট রেষ্টুরেন্টে এই প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বক্তারা আমার দেশ পত্রিকা অফিস থেকে তাকে গ্রেফতারের ঘটনার তীব্র নিন্দাও জানান এবং সরকারের কর্মকান্ডেরও তীব্র সমালোচনা করে বলেন, সরকার মত প্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী নয়।
তারা বলেন, শেখ হাসিনা সরকার তার পিতার পথে হাটছে। বাকশালের মতো গণমাধ্যমের কন্ঠরোধ করতে সরকার মরিয়া হয়ে উঠেছে। 
বক্তারা আরো বলেন, জনগণের উপর সরকারের জুলুম, অত্যাচার, নির্যাতন, পুলিশী হামলা-মামলা, হত্যা, গুম খুনের ঘটনায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে, সরকারের পায়ের নীচে মাটি সরে গেছে। 
সমাবেশে বক্তারা আমার দেশ-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত দেশে প্রবাসে তীব্র আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন এবং প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের ষ্টেট ডিপার্টমেন্ট, হোয়াইট হাউজ ও জাতিসংঘ ভবনের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করে সংশ্লিষ্ট দফতরে স্মারকলিপি পেশ এবং ইউএস সিনেটর, কংগ্রেসম্যানসহ বিশ্ব নেতৃবৃন্দর সাথে সাক্ষাৎ করে মাহমুদুর রহমানকে মুক্ত করার আন্দোলনকে জোরদার করার উপর গুরুত্বারোপ করেন।


সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন প্রবীণ সাংবাদিক ও কলামিস্ট মনজুর আহমদ। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সাপ্তাহিক এখন সময় সম্পাদক কাজী শামসুল হক, বিশিষ্ট সাংবাদিক মঈনুদ্দীন নাসের, সাপ্তাহিক বাংলাদেশ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ এ খান, সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা সম্পাদক আবু তাহের, সাংবাদিক মাহমুদ খান তাসের, আইঅন বাংলাদেশ টিভির পরিচালক রিমন ইসলাম, নিউইয়র্ক ভিত্তিক বার্তা সংস্থা ইউনাইটেড নিউজ অব আমেরিকা (ইউএনএ) সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহমেদ, এনটিভি’র বিশেষ প্রতিনিধি ফরিদ আলম, বিশিষ্ট শিক্ষাবীদ অধ্যাপক ড. শওকত আলী, ড. এহতেশামুল হক, অধ্যক্ষ নূরুল আলম পলাশ, কবি-লেখক এবিএম সালেউদ্দিন, সাংবাদিক মনজুরুল হক, বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী মাস্টার, আজহারুল হক মিলন, জিল্লুর রহমান জিল্লু, গিয়াস আহমেদ, বেলাল মাহমুদ, হেলাল উদ্দিন, রাফেল তালুকদার, চট্টগ্রাম সমিতি ইউএসএ’র সভাপতি কাজী সাখাওয়াত হোসেন আজম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এমলাক হোসেন ফয়সাল, এডভোকেট এ কাইয়্যুম চৌধুরী, কমিউনিটি এক্টিভিস্ট সৈয়দ কামাল উদ্দিন, খন্দকার ফরহাদ, কিউ জামান, মোহাম্মদ সেলিম, কাজী আশরাফ হোসেন নয়ন, মোহাম্মদ আলী হোসেন, শাহ আলম দুলাল, বিলাল চৌধুরী, এএফ মিসবাহউজ্জামান, আব্দুল্লাহ আল আরিফ, মাহমুদা বেগম প্রমুখ। 
সাংবাদিক শেখ সিরাজুল ইসলামের পরিচালনায় এই সমাবেশে ইন্টারনেট পত্রিকা বাংলানিউজ২৪.কম-এর হেড অব দ্য নিউজ মাহমুদ মেনন ও বাংলা নিউজ-এর বিশেষ প্রতিনিধি শিহাবউদ্দিন কিসলু সহ কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের অর্ধ শতাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
https://www.youtube.com/watch?v=e6mZvKVbiJs&feature=youtu.be

Thursday, April 11, 2013

মাহমুদুর রহমানের মুক্তির দাবীতে নিউ ইয়র্কে প্রতিবাদ সভা, র‌্যালী ও মানববন্ধন


মাহমুদুর রহমানের মুক্তির দাবীতে নিউ ইয়র্কে
প্রতিবাদ সভা, র‌্যালী ও মানববন্ধন




নিউ ইয়র্ক: দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতারের নিন্দা জানিয়ে প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন করেছে রাইটার্স ফোরাম অফ নর্থ আমেরিকা। সভা থেকে অবিলম্বে মাহমুদুর রহমানের নিঃশর্ত মুক্তির দাবী করা হয়। 
১১ এপ্রিল বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কের ব্রুকলীনের ওজনপার্কের মতিন রেষ্টুরেন্টে এ সভার আয়োজন করা হয়। একই দাবীতে সভা শেষে লিবার্টি এভিনিউতে সংগঠনটি মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। 
প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের সাংবাদিকতার ইতিহাসে দৈনিক আমার দেশ ও মাহমুদুর রহমান অক্ষয় হয়ে থাকবেন। ইসলাম বিরোধী ষড়যন্ত্র, দূর্নীতি প্রতিরোধ, স্কাইপি কেলেংকারী ও সাম্রাজ্যবাদের থাবা মকাবেলায় মাহমুদুর রহমানের যোগ্য নেতৃত্বে আমার দেশ অসাধারণ ভূমিকা রেখে আসছে। অন্যদিকে তল্পিবাহক অসংখ্য গণমাধ্যম সাথে নিয়েও যখন সরকার একটি পত্রিকার সাথে পেরে উঠেনি, তখনই সরকার ফ্যাসিবাদী কায়দায় কলম সৈনিক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার করলো। 
বক্তারা বলেন, আমার দেশ পত্রিকা সরকারের নাস্তিক চেহারা জনগণের সামনে প্রকাশ করে দেয়ার কারণেও প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাংলাদেশ এখন চোর ডাকাতের দেশ উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, চুরি ডাকাতি করলে কোন সমস্যা নেই, বরং চোর ডাকাতকে চিনিয়ে দিলেই মাহমুদুর রহমানের মতো দেশ প্রেমিকদের গ্রেফতার হতে হয়। 
বক্তারা অবিলম্বে মাহমুদুর রহমানের নামে সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যহার করে নিঃশর্ত মুক্তি জানান। অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে লেখক সাংবাদিকদের নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষণা দেন তারা। 
প্রতিবাদ সভায় রাইটার্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক নঈম উদ্দিনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন ফোরাম সভাপতি আব্দুল্লাহ আল আরিফ, শিক্ষাবিদ আহমদ আবু উবায়দা, ইঞ্জিনিয়ার শাব্বীর আহমদ, মাহমুদুর রহমান, ক্রীড়া সংগঠক মনিরুল ইসলাম, এনামুল হক লিটন, খবীরুজ্জামান প্রমূখ। সভা পরিচালনা করেন বিশিষ্ট লেখক রশীদ আহমদ।

মাহমুদুর রহমানের মুক্তির দাবীতে র‌্যালী:  
দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতারে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়ে নিউ ইর্য়কের রাজপথে র‌্যালীর আয়োজন করেছেন সামাজিক সংগঠন বাংলাদেশী আমেরিকার প্রগ্রেসিভ ফোরাম (বাপফ)। র‌্যালীতে অংশগ্রহনকারী বিক্ষুব্ধ প্রবাসীরা শ্লোগানে শ্লোগানে তাঁর নি:শর্ত মুক্তির দাবী করেন। ১১ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় (বাংলাদেশ সময় শুত্রুবার সকালে)  নিউইয়র্কে অন্যতম বাংলাদেশী অধ্যুষিত ব্রুকলীনের চার্চ-ম্যাকডোনান্ডে সময়ের সাহসী কলম সৈনিক দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান নি:শর্ত মুক্তি, সারা দেশে প্রতিনিয়ত মানবাধিকার লঙ্গন, সরকার কর্তৃক বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মীদের দমন-পীড়ন বন্ধের দাবীতে প্রতিবাদ ও র‌্যালীর  আয়োজন করে সংগঠনটি। বিপুল সংখ্যক লোকের উপস্থিতিতে র‌্যালী ব্রুকলীনের সেকেন্ড এভিনিউ থেকে শুরু করে ম্যাকডোনাল্ড এভিনিউ, র্চাচ এভিনিউ , দাহিল রোড এ মৌন মিছিল শেষে সংক্ষপ্তি সমাবেশের মিলিত হন সন্ধীপ সোসাইটি মিলনায়তনে। সমাবেশ সভাপতিত্ব করেন ফোরামের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক নূরুল ইসলাম । 
বক্তব্য রাখেন, আমেরিকান ইউনাইটেড ফর হিউম্যান রাইট্স এর আহবায়ক মোবাশ্বির আহমেদ, বাপফের উপদেষ্টা অধ্যাপক কাজী মুহাম্মদ ইসমাঈল, সাধারণ সম্পাদক  মাহবুবুর রহমান, নিউইয়র্কে ক্যাবি সংগঠনের নেতা ডা. আজিজ উল্লাহ, ওলামা ফেডারেশনের নেতা মাওলানা ইব্রাহীম খলিল, মাওলানা সিহাবুদ্দিন, সাংবাদিক শহীদুল্লাহ কায়সার, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ। পরিচালনা করেন সংগঠনের প্রচার সম্পাদক সাইফুল্লাহ বেলাল। 
বক্তাগণ বলেন, সৎ ও নির্ভীক কলম সৈনিক মাহমুদুর রহমারকে গ্রেফতার করে প্রমাণ করলো এই সরকার ফ্যাসিবাদ সরকার। তারা বলেন, মাহমুদুর রহমান আমার দেশ পত্রিকার সাহসী সম্পাদকই নয়, তিনি একজন ঈমানদার, তৌহিদী জনতার কন্ঠসর ছিলেন। তাকে স্তব্ধ করার জন্য নাটক সাজায়ে গ্রেফতার করা হয়েছে। 
বক্তাগণ বলেন, সরকার নিজেদের দুর্বলতা আর র্ব্যথতাকে ঢাকতে আজ মিডিয়ার উপর তাদের নগ্ন হস্তক্ষেপ করছে। এই অবস্থা চলতে দেয়া যায় না । আওয়ামী নাস্তিকদের ষড়ষন্ত্র থেকে দেশকে বাঁচাতে দেশে প্রবাসে সকলে সচ্চার হওয়ার আহবান জানান সমাবেশে।