Thursday, March 21, 2013

আমেরিকার প্রেসিডেন্টের কাছে স্বারকিলিপি




সংশ্লিষ্ট সংবাদ :  http://coalitionbdus.blogspot.com/2013/03/blog-post_9412.html

গণহত্যার অভিযোগে শেখ হাসিনার বিচার দাবীতে
 আমেরিকার প্রেসিডেন্টের কাছে স্বারকিলিপি
Date : 17 March 2013

His Excellency Barack Obama
President
The United States Of America
1600 Pennsylvania Ave NW, Washington, DC 20500

Re:      Memorandum to end the genocide against Bangladeshi citizens and to end the show-trial of opposition leaders in Bangladesh     

Dear

A.     An ominous episode of genocidal intent: Bangladeshi police and other elite forces are suppressing the opposition with lethal force and rampantly shooting on the unarmed civilians killing hundreds

It is with deep sadness and dismay the entire world is witnessing the atrocities being perpetrated by the current regime of Bangladesh on unarmed civilians. The regime setup the so-called “International Crime Tribunal” which is not following minimum standard of international law but summarily executing the opposition leaders and acting as another branch of regime oppressive arm. This Kangaroo Court gave their third verdict of execution of popular Islamic scholar Mowlana Delwar Hossain Saydee on Feb 28, 2013. This verdict angered millions of Bangladeshis home and abroad. Millions of people instantly reacted with protest march and civil disobedience against this judicial killing of their beloved leader. The response by the Police and Rapid Action Battalion was brutal, their shooting rampage against these unarmed civilians caused hundreds of death and thousands of injury by bullet wounds.

On the subsequent days, the opposition political parties Bangladesh Nationalist Party, Bangladesh Jamaat-e-Islami and other political organization called for the general strike which is the constitutional right but the vicious and brutal repression by the police forces caused a score of death and destruction. Regime security forces and their mercenaries attacked the BNP central office and vandalize the compound, beaten up the central leaders and activist. This type of cold blooded torture and murder of the opposition political activists by the regime has no room in the civilized world. International community will construe these brutal actions as “Genocide” and will seek for actions to stop this genocide with UN intervention. However, we request through you that Bangladesh Government stop these atrocities immediately so no more innocent life is lost and good governance and harmonious political atmosphere prevails in Bangladesh.


B.     The so-called war crimes tribunal is completely inconsistent with international standard of justice and rules and procedures for international crime tribunals      

The international community now has rich jurisprudence from the following tribunals: Nuremburg, Tokyo, UN Tribunal for Yugoslavia and Rwanda, Sierra Leon and Cambodia tribunals. These Tribunals have already established jurisprudence with respect to evidence and proceedings in war crime tribunals. The jurisprudence of these tribunals is a source of international law which Bangladesh is bound to comply with.

Moreover, Bangladesh Government has a treaty obligation to maintain international standards in criminal trials. Bangladesh has signed and now a party to the UN International Covenant on Civil and Political Rights of 1966 (ICCPR, a treaty obligation Bangladesh undertook since 2000). Also, Bangladesh has signed the UN Convention against Torture and Other Cruel, Inhuman or Degrading Treatment or Punishment of 1984 (a treaty obligation Bangladesh undertook since 1998). Thus any police investigation and criminal trials must comply with this treaty obligation. Most importantly, in March 2010 Bangladesh ratified the Rome Statute of the International Criminal Court (ICC).  Thus any war crime tribunal in Bangladesh must comply with the international obligations.

But the international community has concluded that the rules and proceedings of the war crime tribunal in Bangladesh are completely inconsistent with international standard. The International Bar Association, International Center for the Transitional Justice, The Human Rights Watch, Amnesty International and the U.S. Ambassador-at-Large for War Crimes, Mr. Stephen Rapp, all have found serious flaws in the international war crime tribunals of Bangladesh. Although the International Bar Association has made17 recommendations for bringing the war crimes tribunal into line with international standards, the current Government has completely ignored all the recommendations. Similarly, Bangladesh Government has ignored recommendations of other human rights bodies to correct the flaws in the war crime tribunals of Bangladesh.
                      
Our demand
In view of the above issues, we are the concerned Bangladeshi American in the USA presenting the following five point demand:
First:               Stop the genocide and any other form of atrocities immediately and allow the opposition political parties to hold peaceful protest rally and other form of constitutionally mandated political rights.
Second:            Restore the rule of law and refrains from supporting and/or perpetrating of all kinds of undemocratic activities, and political repression
Third:              Release those who are detained unlawfully, and compensate the victims
Fourth:            Form an international tribunal under the auspices of the United Nations for the conduct of the AL proposed trial of war crimes and crimes against humanity as opposed to AL orchestrated trial for its own political vendetta that is set to defeat justice and human rights.
Fifth:               Ensure the multi-party democracy, and restore the caretaker government to ensure the free & fare Parliamentary election.

Thank you.
On behalf of
US-BNP ( Bangladesh Nationalist Party)
                                &
FDRB ( Forum for Democratic Right of Bangladesh)

Wednesday, March 20, 2013

গণহত্যার দায়ে শেখ হাসিনার বিচার দাবীতে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ওবামার কাছে স্মারকলিপি

গণহত্যার দায়ে শেখ হাসিনার বিচার দাবীতে
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ওবামার কাছে স্মারকলিপি 




ওয়াশিংটন : 
গণহত্যার দায়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও আন্তর্জাতিক আদালতে তার বিচারের দাবি করে ওয়াইট হাউজের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি।

সমাবেশ থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন দেয়ার দাবি জানিয়েছেন নেতাকর্মীরা।

এছাড়াও গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে সরকার প্রধান শেখ হাসিনার বিচারের দাবি করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বরাবরে স্টেট ডিপার্টমেন্টে স্বারকলিপি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি। 

রোববার ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউজের সামনে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির একাংশের নেতা শরাফত হোসেন বাবু ও বেলাল মাহমুদের নেতৃত্বে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। 

বিক্ষোভ সমাবেশে থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের কেন্দ্রীয় নেতা নজরুল ইসলাম খান, আবদুস সালামসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের পুলিশ দিয়ে গুলি করে আহত করার প্রতিবাদ এবং কেন্দ্রীয় অফিসের তালা ভেঙে গ্রেপ্তারকৃত আমান উল্লাহ আমান, মো. শাহজাহান, রিজভী আহমেদ, জয়নুল আবদিন ফারুক ও মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলসহ শতাধিক নেতাকর্মীর নিঃশর্ত মুক্তির দাবি করা হয়।

এ সময় বিএনপির সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারেরও দাবি জানানো হয়।





বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সরাফত হোসেন বাবু আর পরিচালনা করেন বেলাল মাহমুদ।

অনুষ্ঠানে মাওলানা ওয়ালী উল্লাহ, মো. আতিকুর রহমান গণহত্যায় শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মুনাজাত পরিচালনা করেন। বিএনপি প্রয়াত মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের জন্যও দোয়া চেয়ে মুনাজাত করা হয়।

গণহত্যা বন্ধের সিএনএন অফিসের সামনে বিক্ষোভ








গণহত্যা বন্ধের সিএনএন অফিসের সামনে বিক্ষোভ



নিউ ইয়র্ক : চলমান গণহত্যা ও সরকার বিরোধী নেতা কর্মীদের উপর নির্যাতন বন্ধের দাবীতে আটলান্টায়  বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে হিউমান রাইটস ডেভেলপমেন্ট ফর বাংলাদেশ জর্জিয়া ইউএসএ । এতে সংহতি প্রকাশ করে বিক্ষোভ সমাবেশে জর্জিয়া বিএনপির নেতা কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। 
১৭ মার্চ রোববার বেলা আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম সিএনএন অফিসের সামনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।



বিক্ষোভ সমাবেশে মানবাধিকার নেতা হাবিবুল ইসলাম লিটন বলেন, বাংলাদেশ সরকার মানুষের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। দেশের কোন মানুষের নিরাপত্তা নেই। প্রতিনিয়ত আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী সাধারণ মানুষের উপর নির্যাতন করছে। 
২৮ ফেব্রুয়ারীর হত্যাকান্ডকে স্বাধীনতা পরের গণহত্যা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ৭১’র মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচারে গঠিত বিতর্কিত ট্রাইবুনালের মাধ্যমে দেশকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিয়েছে। অপরদিকে বাংলাদেশের জনগুরুপ্তপূর্ণ দাবী তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল করে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করে দিয়েছে। 
বাংলাদেশে রাজনীনৈতিক পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে অন্যান্য বক্তারা বলেন, বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ নিয়ে বিশ্ববাসী উদ্বিগন্ন। এ সংঘাতময় পরিস্থিতি থেকে দেশকে রক্ষার জন্য সরকারকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার আহবান জানান তারা। 



সমাবেশ শেষে মানবাধিকার লংঘনের ডুকুমেন্ট সিএনএন এর কর্ম কর্তাদের হাতে তুলে দেয়া হয়। বাংলাদেশের বর্তমান মানবাধিকার পরিস্থিতির বাস্তব উপর সংবাদ প্রচার করে বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরার অনুরোধ জানান নেতৃবৃন্দু।  
অন্যান্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য দেন, মোহাম্মদ মামুন শরীফ ও মুহাম্মদ ফাহিমুজ্জামান শাকিল প্রমুখ। 
 

Monday, March 18, 2013

মিডিয়া চলছে বুশ ডকট্রিনে

মিডিয়া চলছে বুশ ডকট্রিনে

সাজেদুল হক:

ইতিহাসের দিকে দৃষ্টি ফেরানো যাক। এটা নিশ্চিত করেই বলা যায় বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মের পেছনে সংবাদ মাধ্যম বড় ভূমিকা পালন করেছে। স্বাধীন বাংলাদেশে সংবাদ মাধ্যম সবচেয়ে বড় ধাক্কা খায় যখন চারটি বাদে সব সংবাদপত্র বন্ধ করে দেয়া হয়। তবে লড়াই করেই সত্য প্রকাশের অধিকার ফিরে পায় সংবাদ মাধ্যম। যদিও বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্নে এরশাদ জমানায় গ্রামের নিরক্ষর মানুষও আস্থা রেখেছিল বিবিসি, ভয়েস অব আমেরিকার প্রতি। সে সময় ‘দুর্নীতি পরায়ণদের উল্লাসনৃত্য’ প্রকাশ করে কোপানলে পড়েছিলো সাপ্তাহিক খবরের কাগজ। সমালোচনা সহ্য করেননি স্বৈরশাসক এরশাদ। বন্ধ করে দেয়া হয় খবরের কাগজ। উল্লাসনৃত্যের লেখককেও নানা হয়রাণীর মুখোমুখেী হতে হয়। তবে বন্ধ করে দেয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ আদালতে যায় খবরের কাগজ। আইনী লড়াইয়ে জয় লাভ করে ফিরে আসে পত্রিকাটি। যার ফলস্বরূপ বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমেদের তত্ত্বাবধায়ক আমলে সংবাদপত্র স্বাধীনতার প্রশ্নে এগিয়ে যায় বহুদূর।

সংবাদ মাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণের ধারা উঠিয়ে দেন এই প্রধান বিচারপতি। এরপর গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে সংখ্যার দিক থেকে বিস্ফোরণ ঘটে মিডিয়ার। প্রতিদিনই বাড়তে থাকে সংবাদপত্রের সংখ্যা। সর্বশেষ দুই আমলে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের উদ্বোধন হতে থাকে ক’দিন পরপরই। দুই ডজনেরও বেশি টিভি চ্যানেল এখন সক্রিয় বাংলাদেশে। কিন্তু একটি পুরনো প্রশ্ন নতুন করে উচ্চারিত হচ্ছে প্রায় সর্বত্র। যা কিছু মুদ্রিত অথবা প্রচারিত হচ্ছে তার সবই কি সত্য? মিডিয়ার বিশ্লেষণে যোগাযোগ তত্ত্ববিদ মার্শাল ম্যাকলুহানের একটি তত্ত্ব আলোচিত হয়ে আসছে সারা দুনিয়ায়। তিনি বলেছিলেন, মিডিয়াম ইজ দ্যা ম্যাসেজ (বাহনই বার্তা)। ম্যাকলুহান বুঝাতে চেয়েছিলেন, প্রকাশিত সংবাদে কি বলা হয়েছে তার চেয়ে বহু গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে কোন সংবাদপত্রে সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে। সংবাদপত্রের নাম দেখেই লোকে বুঝে যায় ওই সংবাদপত্রে কি লেখা হয়েছে। এত বছর পর বাংলাদেশে ম্যাকলুহানের তত্ত্ব শতভাগ সত্যতা নিয়ে হাজির হয়েছে। 

গত ৫ই ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া শাহবাগ আন্দোলনের পটভূমিতে বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যম স্পষ্টত দুই ভাগে বিভক্ত। বেশিরভাগ মিডিয়া শাহবাগ আন্দোলনকে মহিমান্বিত করছে নানা বিশেষণে। দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ হিসেবে এ আন্দোলনকে অভিহিত করেছেন তারা। বলছেন, মুক্তিযুদ্ধের ৪২ বছর পর শাহবাগে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাই ফিরে এসেছে। অনেক সময় শত লোকের উপস্থিতিকেও লাখো মানুষের সমাবেশ বলে প্রচার করা হচ্ছে। দিনের পর দিন সংবাদপত্রে প্রধান শিরোনাম হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে শাহবাগের খবর। দিনরাত আন্দোলন সরাসরি সমপ্রচার করেছে ইলেকট্রনিক মিডিয়া। অনেক মিডিয়া হাউজ থেকে এ আন্দোলনে খাদ্য আর অর্থ সরবহরাহের খবরও এসেছে। অন্যদিকে, কিছু মিডিয়া শুরু থেকেই শাহবাগ আন্দোলনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। শাহবাগ আন্দোলনকে ফ্যাসিবাদীদের আন্দোলন হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তারা। এ যেন বুশ ডকট্রিনে চলছে বাংলাদেশ। হয় তুমি আমার পক্ষে না হয় বিপক্ষে। এর মাঝামাঝি আর কোন জায়গা নেই। 

জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার রায়ের পর দেশব্যাপী সহিংসতার সংবাদ প্রকাশেও সংবাদ মাধ্যমের সত্য লুকানোর প্রবণতা স্পষ্ট হয়েছে। কেউ বলেছেন জামায়াত-শিবিরের তাণ্ডবের কথা আবার কেউ বলেছেন শুধু পুলিশের নির্মমতার কথা। শত মানুষের হত্যাকাণ্ডের খবর সে অর্থে সংবাদমাধ্যমে তেমন কোন ঝড়ই তোলেনি। অনেকে এ হত্যাকাণ্ডের সাফাই গাওয়ারও চেষ্টা করেছেন। শাহবাগ আন্দোলন ঘিরে সৃষ্ট এই বিভক্তিতে সবচেয়ে ক্ষতি হয়েছে সংবাদ মাধ্যমের নিজেরই। সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত এবং প্রচারিত সংবাদের বিশ্বাসযোগ্যতা এরই মধ্যে প্রশ্নের মুখে পড়েছে। সংবাদ মাধ্যমের খবরকে বিশ্বাস করছেন না মানুষ। বাহন দেখেই মানুষ বার্তা বুঝে নিচ্ছে। আর সত্যকে রীতিমত পাঠানো হয়েছে নির্বাসনে। ভিন্নমতের সংবাদপত্রে আগুন দেয়া হচ্ছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, সব পক্ষ থেকেই এ ঘটনা ঘটছে। এ যখন অবস্থা তখন রীতিমত কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যম। বুশ ডকট্রিনের বাইরে গিয়ে নিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহণ না করলে সংবাদ মাধ্যমের বিশ্বাস যোগ্যতার সঙ্কট আরও বাড়বে। 

রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই এখন ধ্বংসপ্রায়। ফোর্থ স্টেট তথা সংবাদ মাধ্যম অতীতে জাতির ক্রান্তিলগ্নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বাংলাদেশে অনেকে বিকল্প পার্লামেন্ট হিসেবেও অভিহিত করেছেন একে। কিন্তু সেই সংবাদ মাধ্যম নিজেই এখন পথ হারিয়েছে। সংবাদ মাধ্যম বিশ্বাসযোগ্যতা হারালে মানুষ বিশ্বাস করবে গুজবে। যা পুরো জাতির জন্যই বিপর্যয় ডেকে আনবে। এর কিছু আলামত এরই মধ্যে স্পষ্ট হয়েছে। জার্মান দার্শনিক নিটশে বলেছিলেন- মানুষ ভুল করে কোন কিছু করে, ভুল করে যে করেছিল পরে তাও ভুলে যায়। সংবাদ মাধ্যম যেন নিজের ভুল বুঝতে পারে সে প্রার্থনাই করি। ফিরে আসুক সত্য সংবাদ মাধ্যম।
http://www.mzamin.com/details.php?nid=NDcwODg%3D&ty=MA%3D%3D&s=MTg%3D&c=MQ%3D%3D

এক তরুণের পায়ে গুলি : পুলিশের নিষ্ঠুরতার শেষ কোথায়?




এক তরুণের পায়ে গুলি : পুলিশের
 নিষ্ঠুরতার শেষ কোথায়?


ডেস্ক নিউজ : 

গুলি চালিয়ে সমাবেশ পণ্ড ও দলীয় কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে গণগ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের দুই দিনব্যাপী হরতালের প্রথম দিনে সোমবার ঢাকার মিরপুরে এক যুবক পুলিশের নিষ্ঠুরতার শিকার হয়েছেন।

মাহবুব কবির নামের ওই যুবককে রিক্সায় চড়ে যাতায়াত করার সময় ধরে পায়ে বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করে পুলিশ। এতে তার পায়ের হাড় গুড়ো হয়ে যায়। এরপর তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় চিকিত্সার জন্য পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ। চিকিত্সাধীন অবস্থায় মাহবুব পুলিশের হাতে আটক আছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল ৭টার দিকে মিরপুরের ১০ নম্বর গোল চক্কর এলাকায় হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করে জামায়াত-শিবির কর্মীরা। মিছিল শেষে জামায়াত-শিবির কর্মীরা চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরে পুলিশ এসে পথচারীদের ওপর চড়াও হয়।

এ সময় গোল চক্করের পাশ দিয়ে রিক্সায় চড়ে যাতায়াতের সময় পুলিশ মাহবুব কবিরকে টেনে হেঁচড়ে রিক্সা থেকে নামায়। পুলিশ টানা-হেঁচড়া করে মাহবুবকে একটি সাদা মাইক্রো বাসে ওঠানোর চেষ্টা করে। 

এর এক পর্যায়ে মাটিতে পড়ে যান মাহবুব। তখন এক জন পুলিশ সদস্য তার পায়ে বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করে। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে একটি সাদা মাইক্রো বাসে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ।

সাত সকালে এই ঘটনা দেখে ও মাহবুবের আর্ত চিত্কার শুনে স্তম্ভিত হয়ে যায় প্রত্যক্ষদর্শীরা।



জানা গেছে, মাহবুব কবির ইসলামী ছাত্র শিবিরের সদস্য। তবে বর্তমানে তিনি সক্রিয় রাজনীতি করেন না। তিনি দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রেস বিভাগের মার্কেটিং কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন। সকালে তিনি পেশাগত কাজের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন।
সূত্র : http://www.rtnn.net//newsdetail/detail/1/3/60661#.UUd3CxzvuSo

হার্ডলাইনে বিএনপি, হাসিনা ব্যর্থ হলে সেনা অভ্যুত্থান


দেশজৃড়ে ‘সাঈদী মুক্তমঞ্চ’ গঠনের পরিকল্পনা : হার্ডলাইনে

 বিএনপি,  হাসিনা ব্যর্থ হলে সেনা অভ্যুত্থান



মিজানুর রহমান : কী হতে যাচ্ছে বাংলাদেশে? অনেক রাজনীতিবিদই 
জানেন না আসলে কী হতে যাচ্ছে। চার দিকে আতঙ্ক, উৎকণ্ঠা। সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয়ভীতি। হাঠৎ করেই যেন সব কিছু ওলট পালট হয়ে গেল। যুদ্ধাপরাধী বা মানবতাবিরোধী অপরাধে গ্রেফতারকৃত জামায়াতে ইসলামির নেতাদের বিচার নিয়ে আগে থেকেই জামায়াত রাজপথে ছিলো। তারা সরকারের বিতর্কিত ট্রাইব্যুনালের সমালোচনা করে আসছিলেন এবং রাজপথে মোটামুটি এককভাবেই আন্দোলন- সংগ্রাম করে আসছিলো। জামায়াতের অস্তিত্ব রক্ষার এই আন্দোলনে তাদের শরিক বিএনপিও তাদের সাথে ছিলো না। জামায়াত একলা চলা নীতি নিয়েই চলছিলো। মানবতা বিরোধী ট্রাইব্যুনাল থেকে এ পর্যন্ত তিনটি রায় ঘোষণা করা হয়েছে। প্রথম রায়ে মাওলানা আবুল কালাম আজাদকে (বাচ্চু রাজাকার) তার অনুপস্থিতিতে ফাঁসির দন্ড দেয়া হয়। দ্বিতীয় রায়ে জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন। এই রায়টিই হিয়ে দাঁড়ায় বর্তমান রাজনীতির টানির্ং পয়েন্ট। একটি সূত্রে জানা যায়, বর্তমান সরকার সৌদী আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের সাথে একটি গোপন সমঝোতা করেছিলো। সেই সমঝোতার ফল জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন। প্রথমে মহাজোট সরকারে থাকা বাম মন্ত্রী এবং এমপিরাই এটি ফাঁস করে দেন। অন্যদিকে ছাত্রলীগের একটি অংশ কিন এবং বাম দলগুলোর তরুণ ব্লগী নেতাদের উস্কে দেন। যে কারণে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় সৃষ্টি করা হয় গণজাগরণ মঞ্চ। সেই গণজাগরণ মঞ্চ থেকেই কাদের মোল্লা ও গ্রেফতারকৃত অন্যান্যদেরও ফাঁসি দাবি করা হয়। সেই দাবির সমর্থনে তারা এখনো পর্যন্ত শাহবাগে অবস্থান করছে। শাহবাগের অবস্থান সরকারের বিপক্ষে নয়, সরকারের পক্ষেই।

শেখ হাসিনা সরকার নতুন রেকর্ড করলেন সরকারের পক্ষে অবস্থান সৃষ্টি করে। অন্যান্য দেশে দেখা যায় সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের অবস্থান নিতে। বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী যাতে সরকার বিরোধী অবস্থান কর্মসূচি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের ন্যায় না ঘোষণা করে, তারই একটি প্রচ্ছন্ন হুমকি। বিরোধী দল সরকারবিরোধী কর্মসূচি ঘোষণার আগেই সরকার নিজে থেকেই একটি মঞ্চ তৈরি করে দেয়। অন্যদিকে সৌদী আরবসহ অন্যান্য দেশের বুঝাপড়ায় জামায়াতে ইসলামির সাথে যে সমঝোতা হয়েছে সেই সমঝোতায় সৌদী আরবকে দেখানো যে বাংলাদেশের মানুষ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পক্ষে। আমরা চেষ্টা করেও তাদের রক্ষা করতে পারলাম না।

 শেখ হাসিনার কৌশলী চালে বিএনপি এবং সৌদী আরব ধরাশায়ী। শাহবাগ আন্দোলনে অবস্থানকারীদের দাবি অনুযায়ী মানবতাবিরোধী ট্রাইব্যুনাল মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণা করে। একটি সূত্র জানায়, এই রায়ের পেছনেও সরকারের ষড়যন্ত্র জড়িত ছিলো। সরকার জানে যুদ্ধাপরাধী মামলায় যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের মধ্যে মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীই একমাত্র লোক যার দেশব্যাপী জনপ্রিয়তা রয়েছে। সকল দলের রাজনৈতিক কর্মী- সমর্থক এবং সাধারণ মানুষ তার ওয়াজ শুনেন। জামায়াতের নেতা হিসাবে মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদী যত না জনপ্রিয় একজন তফসিরুল মোফাচ্ছেরীন হিসাবে অনেক বেশি। শেখ হাসিনার ক্ষমতায় থাকার নীল নক্সা হিসাবে মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলায় রায় ঘোষণা করা হয়েছে ফাঁসি। মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার সর্বোচ্চ রায় ঘোষণা করা হলে সারাদেশব্যাপী যে তার প্রভাব পড়বে সরকার তা আগে থেকেই অনুমান করতে পেরেছিলো এবং সেই অনুযায়ীই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। শাহবাগের মঞ্চ করা হয়েছে, চেষ্টা করা হয়েছে পাড়ায় পাড়ায় জাগরণ মঞ্চ করতে। শাহবাগের জাগরণ এখনো জাগ্রত থাকলেও পাড়ায় পাড়ায় মঞ্চ করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। শেখ হাসিনার লক্ষ্য হচ্ছে এই আন্দোলনকে আগামী নির্বাচন পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাওয়া। গণজাগরণ মঞ্চকে বা মঞ্চের চেতনাকে যদি শেখ হাসিনা তার নীল নক্সা অনুযায়ী আগামী নির্বাচন পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারেন তাহলে আগামী ১০ বছর তিনি ক্ষমতায় থাকবেন।

 শেখ হাসিনা আগেই ঘোষণা করেছিলেন ভিশন ২০/২১, অর্থাৎ শেখ হাসিনার ক্ষমতার মেয়াদ ৫+৫+৫=১৫।
ইতিমধ্যে তিনি এই মেয়াদ প্রায় পূর্ণ করে এসেছেন। এ বছরের শেষে অথবা আগামী বছরের শুরুতেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন। জাগরণের চেতনাকে ধরে রেখেই ষড়যন্ত্রের নির্বাচন করতে চান শেখ হাসিনা। সেই মাস্টার প্লান অনুযায়ীই সরকার এগুচ্ছে। পঞ্চদশ সংশোধনী অনুযায়ী আগামী সংসদ নির্বাচন হবার কথা নভেম্বরের অথবা ডিসেম্বরে এবং যারা ক্ষমতায় রয়েছেন তারা ক্ষমতায় থেকেই নির্বাচন করবেন। সুতরাং তারা প্রশাসনকে ব্যবহার করতে পারবেন। 

সূত্র জানায়, মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়ে দেশব্যাপী প্রতিক্রিয়া হবে এটা সরকার জানতো। কিন্তু এমন জঙ্গী রূপ নেবে তা ছিলো কল্পনারও অতীত। অন্যদিকে ব্লগাররা আল্লাহ, রসুল এবং ইসলাম ধর্ম নিয়ে যে সব জঘণ্য কটুক্তি করেছে তা নিয়েও সারা দেশের আলেম- ওলামারা মাঠে নেমেছেন। সাঈদীর রায়ে জামায়াত- শিবিরের অল আউট আন্দোলন, আলেম- ওলামাদের উপর সরকারের নির্দেশে পুলিশের গুলি, সরকারের আন্দোলনকারীদের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স, শেষ মুহূর্তে সিঙ্গাপুর থেকে চিকিৎসা শেষে নতুন আন্দোলনের ঘোষণা, সরকারকে বেশ বেকায়দায় ফেলে দেয়। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি হরতালের কর্মসূচি দিলেও সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, মতিঝিলে আছি, মতিঝিলেই পাবেন। তার অর্থ বিএনপিও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে কঠোর আন্দোলনের ডাক দিতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শাহবাগী আন্দোলনকে পুঁজি করেছেন। অন্যদিকে বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জামায়াত শিবির ও আলেম ওলামাদের আন্দোলনকে বিএনপির ঘরে আনার কৌশল নিয়েছেন। 

সাঈদীর রায়কে কেন্দ্র করে সারা দেশের মানুষ যে রাস্তায় নেমে যাবে, মহিলারা ঝাড়ু নিয়ে সরকার বিরোধী অবস্থান নেবে, থানায় হামলা করবে, পুলিশের উপর হামলে পড়বে, বিভিন্ন ব্যবসা- প্রতিষ্ঠানে হামলা চালাবে, রেল লাইন উপড়ে ফেলবে, আওয়ামী লীগের এমপি এবং নেতাদের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিবে তা সরকারের চিন্তা এবং চেতনায় ছিলো না। সরকার মনে করেছিলো শাহবাগের চেতনাতেই তারা পার পেয়ে যাবে। কিন্তু জামায়াত শিবির নিয়েছে অন্য কৌশল। শাহবাগী ঢাকাকে আপাতত আন্দোলনের লক্ষ্য না বানিয়ে সারা বাংলাদেশকে আচল করে দেয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে তারা। সেই অনুযায়ীই জেলা শহরগুলোতে আন্দোলন অগ্নিরূপ ধারণ করেছে। অরেকটা গৃহযুদ্ধের আলামত লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অন্যদিকে সরকার তার পরিকল্পনা অনুযায়ী এই আন্দোলনকে কঠোর হস্তে দমনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকার এ ব্যাপারে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে। সরকার বিরোধী মিছিল, মিটিং দেখলেই সরকার গুলির নির্দেশ দিয়েছে। বিজেপি নামিয়েছে, দেশের প্রায় ৩০টি জেলায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে, সরকার সহিংসতা বন্ধে দেশের বগুড়াসহ কয়েকটি জেলায় সেনা বাহিনী তলব করেছে। গত ৫ দিনে বাংলাদেশে পুলিশের গুলিতে প্রায় শতাধিক লোক মারা গিয়েছে, গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছে শত শত। হামলা- মামলা আগুন ও গুলিতে সহিংস জনপদে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। সরকার বিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসাবে প্রতি জেলায় মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী মুক্তি মঞ্চ গঠন করা। ইতিমধ্যেই কয়েকটি জেলায় তা করা হয়েছে এবং তারা ঘোষণা দিয়েছে মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বে না। আলেম- ওলামারা ঘোষণা দিয়েছেন শাহবাগের নাস্তিকদের গণজমায়েতে তারা আক্রমণ করবেন। আর সাঈদীর রায়কে পুঁজি করে জামায়াতের পরিকল্পনা হচ্ছে জেলায় জেলায় মঞ্চ বানিয়ে জাগরণ সৃষ্টি করে ঢাকায় গণজমায়েত। জামায়াতে ইসলামি বাংলাদেশের টার্গেট হচ্ছে শেখ হাসিনা সরকারের পতন। শেখ হাসিনার পতনেই জামায়াতের নেতাদের ফাঁসি থেকে বের করে আনা যাবে, পরিস্থিতিও পরিবর্তন হয়ে যাবে।

বিএনপির টার্গেট হচ্ছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা করে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা। সরকারকে বাধ্য করা তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠায়। যে কারণে বেগম খালেদা জিয়া আগামীতে হার্ড লাইনের কর্মসূচি দেবেন। সেই ইঙ্গিতই তিনি দিলেন ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির সাথে বৈঠক বাতিল করে। আলেম- ওলামাদের টার্গেট হচ্ছে ব্লগার ইমরান এইচ সরকারসহ নাস্তিকদের গ্রেফতার ও বিচার। শেখ হাসিনার টার্গেট হচ্ছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে পুঁজি করে আবারো ক্ষমতায় আসা, চেতনা ধরে রাখার জন্য চলতি মাসেই ( মার্চে) জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আজমের মামলার রায় ঘোষণা করা হবে। প্রয়োজনে বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতারের পরিকল্পনা। অন্যদিকে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে তৃতীয় পক্ষের টার্গেট হচ্ছে সহিংস অবস্থাকে পুঁজি করে তৃতীয় শক্তিকে ক্ষমতায় নিয়ে আসা।

সূত্র জানায়, শেখ হাসিনা এই আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে দেশে তৃতীয় শক্তি বা অভুত্থান অনিবার্য। সেই ক্ষেত্রে দুই নেত্রীর প্রাণ নাশেরও সম্ভাবনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী টার্গেটে পরিণত হবেন অভুত্থানকারী বা সুইসাইড বোমারুদের। অন্যদিকে বেগম খালেদা জিয়া শিকার হতে পারেন প্রতিহিংসার। দেশী বিদেশী এই চক্রটি মনে করে এই দুই নেত্রীকে রেখে দেশের উন্নয়ন, দুর্নীতি এবং সন্ত্রাস মুক্ত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়। ১/১১ এর সময় লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবে তা রূপ লাভ করেনি। এবার সেই রূপরেখার বাস্তবায়ন করা হবে। সূত্র জানায়, ঘটনা চক্রে যদি এক নেত্রীর কিছু হয়ে যায় তাহলে অন্যনেত্রীকেও দেশ ছাড়তে হবে- এমন আশংকা একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না। তারা বলেন, খারাপ কিছু থেকেই ভাল কিছু আসে। অন্ধকারের পরেই আলোর মুখ দেখা যায়। তাদের মতে মার্চ মাস হচ্ছে বিজয়ের মাস। এই মাসে আন্দোলন করে কোন লাভ হবে না। কারণ বিজয়ের চেতনায় অন্দোলন অন্য রূপ নেবে না। সুতরাং তাদের টার্গেট মে থেকে জুন। মার্চ এবং মে আন্দোলন জঙ্গী রূপ ধারণা করবে- যা সরকারের পক্ষে সামলানো সম্ভব হবে না। প্রতিটি জেলায় ১৪৪ ধারা জারির পরিস্থিতি হবে, সেই ভয়ঙ্কর অবস্থায় সেনা বাহিনী বা তৃতীয় শক্তি ক্ষমতা নিতে বাধ্য হবে। 

সরকার এখন শাহবাগ, আলেম ওলামা, জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির আন্দোলন এবং আন্দোলনে নাশকতা ও সংহিসংতা নিয়ে বেশ বিচলিত। দেশের অবস্থা কোন দিকে যাচ্ছে তা নিয়েও শঙ্কিত। সর্বত্রই নজরদারি। তা থেকে মুক্তি নেই সেনাবাহিনীর একটি অংশেরও। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, ইতিমধ্যেই সরকার সেনা বাহিনীর একটি অংশের উপর নজরদারি গত কয়েক দিন যাবত অব্যাহত রেখেছে। বিডিআর হত্যাকান্ডের ঘটনায় সেনাবাহিনীর একটি অংশ সরকারের উপর এখনো ক্ষুব্ধ, ন্যায্য বিচার তারা পাননি। যদিও শেখ হাসিনা সরকার সেনা বাহিনীতে তার শুদ্ধি অভিযান সম্পন্ন করেছেন। যার অংশ হিসাবে নবম ডিভিশনে পদোন্নতি দিয়ে ট্যাঙ্কের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে আওয়ামী লীগ সমর্থক অফিসারকে। সরকার বিরোধী অভুত্থান করতে হলে, নবম ডিভিশনে আরেকটি অভুত্থান সফল করতে হবে, তবেই সরকার বিরোধী অভুত্থান। এখনো ন্যায় বিচারের পক্ষে, সত্যের পক্ষে, গণতন্ত্রের পক্ষে সেনা বাহিনীতে ক্ষুদ্র যে অংশটি রয়েছে সেই অংশের ২৮ জনের উপর নজরদারি রাখা হয়েছে, তাদের গতিবিধি এবং কথাবার্তা মনিটর করা হচ্ছে। সুতরাং শেখ হাসিনার সফলে ১০, ব্যর্থতায় তৃতীয় শক্তি বা অভুত্থান। ি

সূত্র : নিউ ইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ঠিকানা





হেতারা আমার মাইয়াডারে নষ্ট করে দিছে



হেতারা আমার মাইয়াডারে নষ্ট করে দিছে


আলেম পিতার নাস্তিক ছেলে



আলেম পিতার নাস্তিক ছেলে 

ডেস্ক সংবাদ : শাহবাগিদের সরকারঘোষিত দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের নেতা ও তরুণ প্রজন্মের আদর্শ বলে সাব্যস্ত করেছে আওয়ামী লীগ, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীও। তথাকথিত আদর্শ বনে যাওয়া এ নেতাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য খুঁজে দেখা যায়, এদের অনেকে নষ্ট চরিত্রের এবং বাবা-মায়ের অবাধ্য সন্তান। এদের একজন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (জাসদ) সভাপতি হুসাইন আহমেদ তফছির। গত বিশ বছর ধরে তফছির তার বাবার সঙ্গে কথা বলেন না বলে জানা যায়। আত্মপূজারী এ ছাত্রলীগ নেতা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে চলছেন গত দুই দশক ধরে। ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে শাহবাগের আন্দোলনে জড়ানোর কারণে তাকে অবাঞ্ছিত ও প্রতিরোধের ঘোষণা করেছেন তার বাবা। বর্তমানে ভবঘুরে তফছির নিজের পরিচয় গোপন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তবে শাহবাগি নাস্তিকদের সঙ্গে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তফছির দাবি করেছেন, তার বাবা এমন কথা বলেননি। যারা প্রচার করছে, তারা মিথ্যা প্রচার করছে। 
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তফছির। নয় ভাইবোনের মধ্যে তার অবস্থান প্রথম। তার ছোট ভাই হাফেজ খলিল আহমেদ সরাইল উপজেলা খেলাফত মসলিসের সভাপতি। ছোট বোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন। বাবা মাওলানা হাফেজ উবায়দুল্লাহ বিদগ্ধ আলেম ও ইসলামি চিন্তাবিদ। তিনি দীর্ঘদিন স্থানীয় মসজিদের পেশ ইমাম ও আলীনগর দারুল উলুম মাদরাসার ব্যবস্থাপনা পরিষদের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। ইসলামি পরিবারের ঐতিহ্য ও ভাবধারায় বেড়ে ওঠে তফছির। মাদরাসা থেকে সরাইল স্কুল ও কলেজ থেকে ১৯৮৪ এবং ১৯৮৬ সালে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করেন। বাম চিন্তাচেতনা প্রচার করায় স্থানীয় মাহফুজ ও মোকসেদুল ইসলাম তাকে পিটিয়ে গ্রামছাড়া করে। এরপর রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে অনার্সে ভর্তি হন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে। কলেজজীবন থেকে সক্রিয়ভাবে তিনি বাম রাজনীতি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের (জাসদ) সঙ্গে জড়িয়ে পরেন। তার এ রাজনীতি-সংশ্লিষ্টতায় নাখোশ হন ইসলামি চিন্তাবিদ বাবা ও পরিবারের সদস্যরা। তাকে বারবার নিষেধ করা হলেও তিনি প্রগতিশীলতার নামে বাম রাজনীতি চালিয়ে যান। খোঁচা দাড়ি সর্বদা পাঞ্জাবি-পায়জামা পরিধান করা এ লোকটিকে দেখে বোঝার উপায় নেই যে, তার আপাদমস্তক বাম চিন্তাধারা বিস্তৃত রয়েছে। 
৪৫ বছর বয়সী এ ছাত্রলীগ নেতা ২৫ বছর ধরে রাজনীতি করছেন। প্রগতিশীলতার প্রতি অতি উত্সাহী তফছির জেলা পর্যায়ে জাসদ ছাত্রলীগের সভাপতির পদসহ গত ১৩ বছর ধরে তিনি কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি। 
বাম রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার প্রথম পাঁচ বছর বাবা মাওলানা হাফেজ উবায়দুল্লাহ তাকে বারবার ইসলামি ভাবধারায় ফিরে আসতে বলেন। এসময় তফছির তার বাবার আদেশ অমান্য ও উপেক্ষা করেন। 
বাবা তাকে বারবার ফাসেকি নীতি ছেড়ে ফিরে আসার আহ্বান করায় তফছির বাবার সঙ্গে কথা বলা ছেড়ে দেন বলে জানান তার পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজন। কিন্তু বাবা নিরাশ হননি। তিনি যখনই যেভাবে হোক ছেলেকে বোঝাতে চেষ্টা করেন। তবে উগ্র স্বভাবের এ ছেলে বাবার কোনো কথা শোনেন না। বাবা কথা বলতে গেলে অন্যদিকে চলে যান। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২০ বছর তফছির বিভিন্ন সময় বাড়িতে গেলেও তার বাবার সঙ্গে কোনো কথা বলেননি। এমনকি শ্রদ্ধামিশ্রিত ভদ্র ব্যবহারটুকু পর্যন্ত করেন না। 
এদিকে গত ৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর শাহবাগে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের নামে ধর্মীয় রাজনীতি বন্ধ করার দাবি জানান শাহবাগি সরকারি তরুণরা। তরুণ প্রজন্মের নামে বাম রাজনৈতিক দলের ছাত্রসংগঠনের নাস্তিক কর্মীরা ইসলামের বিরুদ্ধে তাদের জমিয়ে রাখা দীর্ঘদিনের আক্রোশ প্রকাশ শুরু করে। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পবিত্র ধর্ম ইসলাম ও প্রিয় নবী (সা.) এবং মহান আল্লাহকে নিয়ে অভাবনীয় কটূক্তি শুরু করে। 
এ সময় তফছির নাস্তিক মুরতাদের নেতা ইমরান এইচ সরকারের পাশে সমর্থন দেন। নাস্তিকদের কটূক্তির প্রতিবাদকারী ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের তিনি বিষোদ্গার করেন। 
ছেলের ইসলামবিদ্বেষী অবস্থান ও নাস্তিকদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন বাবা মাওলানা হাফেজ উবায়দুল্লাহ। তিনি গত শুক্রবার সরাইলে উন্মুক্ত মঞ্চে ধর্মদ্রোহীদের সহোযোগিতা করায় নিজ ছেলেকে প্রতিরোধ করার জন্য ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের আহ্বান জানান। তফছিরের ওপর তার পুরো এলাকা এখন নাখোশ ও ক্ষিপ্ত বলে জানা 

যায়। 
তবে তার বাবা এমন কথা বলেননি দাবি করে তফছির বলেন, আমার বাবা একটু রাগী। তিনি আমার বিষয়ে এমন কথা বলেননি। যারা প্রচার করছে তারা মিথ্যাচার করছে। 
বাবার সঙ্গে কথা বন্ধ করার বিষয়ে জানতে চাইলে তফছির বলেন, এটা সত্য নয়। 
এদিকে নাস্তিকদের সঙ্গে আঁতাত করায় নিজ অস্তিত্ব নিয়ে সঙ্কটে পড়েছেন তফছির। এখন ভবঘুরে হয়ে নিজের পরিচয় গোপন করে চলছেন। এর আগে ফকিরাপুল এলাকায় থাকলেও এখন সেখানে থাকেন না বলে জানা যায়।

সূত্র: 
http://www.amardeshonline.com/pages/details/2013/03/18/192456#.UUdAABzvuSo



Saturday, March 16, 2013

সিলেট জামায়াত আমীর জোবায়েরর মুক্তির দাবী করেছে নিউ ইয়র্কের সাবেক ছাত্র নেতারা


 জোবায়েরকে মুক্তি না দিলে সিলেট প্রবাসীরা 
দেশে রেমিটেন্স পাঠানো বন্ধ করে দিবে 

নিউ ইয়র্ক : সিলেট মহানগরীর জামায়াতের আমীর ও ছাত্র শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি এ্যাডভোকেট এহসান মাহবুব জোবায়েরকে গ্রেফতারের নিন্দা জানিয়েছেন নিউ ইয়র্কে বসবাসকারী সাবেক ছাত্র নেতারা। তারা অবিলম্বে সাবেক শিবির নেতা জোবায়েরের মুক্তির দাবী করেছেন। অন্যথায় প্রবাসী সিলেটিরা রেমিটেন্স বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবে। 
শুক্রবার এক বিবৃতিতে প্রবাসী ছাত্র নেতারা বলেন, সংবিধান অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের আইনের আশ্রয় নেয়ার অধিকার রয়েছে। জামায়াত নেতা জোবায়েরকে নূন্যতম নাগরিক অধিকারটুকু দেয়নি ফ্যাসিবাদী সরকার। 
তারা বলেন, সিলেটের আমীর জোবায়ের বিরুদ্ধে সরকারের দায়ের করা মিথ্যা মামলায় জামিন নিতে সিলেট থেকে ঢাকায় এসেছিলেন। জোবায়েরকে আদালতে হাজির হওয়ার সুযোগ না দিয়ে সরকার ফ্যাসীবাদী আচরণ করেছে বলে তারা মনে করেন। 
অবিলম্বে এডভোকেট জোবায়েরসহ ১৮ দলীয় জোটের নেতাদের মুক্তির দাবী করেন নিউ ইয়র্কে বসবাসকারী সাবেক ছাত্র নেতারা।
তারা আরো বলেন, সরকারের গণহত্যা ও সরকারের স্বৈরাচারী আচরণ বন্ধ না হলে প্রবাস থেকে রেসিটেন্স বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণাসহ কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে।   
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীর নিউ ইয়র্কে বসবাসাকারী ছাত্র নেতারা হলেন, আব্দুল্লাহ আল আরিফ, নঈম উদ্দিন, হারুন অর রশিদ, জসিম উদ্দিন, আলমগীর হোসাইন, মোহাম্মদ মোমিন, মাসুম আলী, মোহাম্মদ জিন্নাহ, তারেক হোসেন, সাখাওয়াত হোসেন, আকরাম উদ্দিন, আবু সায়েম, মাহবুবুর রহমান, রশিদ উদ্দিন, আলম চৌধূরী ও আরাফাত রহমান, রাসেদুজ্জামান রাসেদ, মঞ্জুরুল হক ও আবু সায়েম প্রমুখ।




ডাকাতি ও গণহত্যায় বুদ্ধিজীবীদের উস্কানি এবং কলংকিত বাংলাদেশ



ডাকাতি ও গণহত্যায় বুদ্ধিজীবীদের উস্কানি
এবং কলংকিত বাংলাদেশ



লেখক: ফিরোজ মাহবুব কামাল

গণহত্যা বাংলাদেশে
ফিরাউন, হিটলার, স্টালিন বা মুজির নিজে হাতে মানুষ খুন করেছেন -সে প্রমাণ নাই। অথচ মানব ইতিহাসে তারাই অতি জঘন্যতম গণগত্যার নায়ক। হুকুম পালনে অসংখ্য চাকর-বাকর থাকলে কি নিজ হাতে মানুষ খুনের প্রয়োজন পড়ে? বাংলাদেশের আইনেও আদালতে প্রমাণিত কোন খুনিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যার অধিকার কোন ম্যাজিস্টেটের থাকে না। জেলা জজেরও থাকে না। তাঁকেও দেশের হাইকোর্ট থেকে অনুমতি নিতে হয়। কিন্তু স্বৈরাচারি সরকারগণ মানবহত্যার সে অধিকার তাদের আজ্ঞাবহ অশিক্ষিত দাস-সৈনিকদের দেয়। মুজিব তাই সে অধিকার দিয়েছিলেন রক্ষিবাহিনীর সাধারণ সেপাইদেরকে। মুজিবের এ সেপাইগণ ৩০ হাজারের বেশী মানুষ নির্বিচারে হত্যা করেছিল। দেশে মশামাছি মারলে যেমন বিচার হয়না, তেমনি ৩০ হাজার মানুষ হত্যারও কোন বিচার হয়নি। ফলে হত্যাকারি সেপাইদের মধ্যে কারো গায়ে কোন আঁচড়ও লাগেনি। অথচ কোন সভ্যদেশে এমন হত্যাকান্ড হবে এবং হত্যাকান্ড শেষে তার নায়কগণ বিনা বিচারে পার পেয়ে যাবে সেটি কি ভাবা যায়? কিন্তু বাংলাদেশে সেটিই রীতি।
একই রূপ নিষ্টুরতা বার বার ফিরে আসছে বাংলাদেশে। শেখ হাসিনা তার পিতার গনহত্যার রীতি পদে পদে অনুসরণ করছেন। নির্বিচারে মানবহত্যার সে অধিকার তিনি দিয়েছেন পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবীর সাধারণ সেপাইদের। তাই পক্ষিশিকারের ন্যায় তারা মানব শিকার করছে। ২৮শে ফেব্রেয়ারির একদিনেই তারা ৬০ জনের বেশী নিরস্ত্র মানুষকে হত্যা করেছে। পাকিস্তান আমলের পুরা ২৪ বছরে এর একতৃতীয়াংশ মানুষও কি পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে? মন্দিরের সেবক পুরোহিতগণ ভক্তদের মাঝে নিজস্বার্থেই দেবদেবীর কেরামতি বাড়ায়। গরুছাগলও তাদের হাতে ভগবানে পরিণত হয়। এমন অজ্ঞতার প্রসারেই তাদের ভক্ত ও উপার্জন বাড়ে। তেমনি স্বৈরাচারি শাসকদের সেবকগণও ইতিহাসের অতি দুর্বৃত্ত শাসককেও মহামানব রূপে পেশ করে। তাই নমরুদ-ফিরাউনের ন্যায় গণহত্যার নায়কদেরকে তারা শুধু শাসক রূপে নয়, ভগবান রূপে পেশ করেছে। তেমনি এক দলীয় প্রয়োজনে মুজিবের অনুসারিরাও গণহত্যার নায়ক বাকশালী এ গণশত্রুকে বঙ্গবন্ধু রূপে প্রতিষ্ঠা দিতে চায়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে পুলিশ গুলি চালিয়েছে আত্মরক্ষার্থে। অথচ প্রমাণ পেশ করা হয়নি যে, পুলিশের উপর কোথাও একটি গুলি চালানো হয়েছে। জনগণ বড় জোর পুলিশের উপর পাথর ছুঁড়েছে। কিন্তু তা থেকে বাঁচার জন্য পুলিশের মাথায় হেলমেট ছিল, সাঁজায়ো গাড়ি ছিল, কাঁদানে গ্যাস ছিল, রবার বুলেট ছিল এবং সাথে লাঠিও ছিল। কিন্তু সেগুলি ব্যাবহার না করে সরাসরি বুলেট ছুড়ার অধিকার তাদের কে দিল? হত্যা-পাগল সেপাইরাই কেবল এমন একটি হত্যাকান্ড ঘটাতে পারে। এবং সেটি ঘটে সরকারের নির্দেশে। এমন একটা হত্যাকাণ্ডকে গণহত্যা ছাড়া আর কি বলা যেতে পারে? এবং এর সাথে শেখ হাসিনা যে জড়িত তা নিয়েও কি সামান্য সন্দেহ থাকে? এমন হত্যাকে জায়েজ করতে প্রতিটি স্বৈরাচারি সরকারই বাহনা পেশ করে। নিহতদের বিরুদ্ধে আরোপিত করে মিথ্যা অপবাদ। এমন কি হযরত মূসা (আঃ)র ন্যায় আল্লাহর মহান রাসূলকে ফিরাউন রাজদ্রোহী, ষড়যন্ত্রকারি ও যাদুকর রূপে আখ্যায়ীত করেছে। সে মিথ্যাকে জনগণের মাঝে প্রচারের স্বার্থে মুজিবের ন্যায় শেখ হাসিনার হাতেও রয়েছে গৃহপালিত বিশাল মিডিয়া। এরা হত্যাপাগল পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবীর খুনিদের সন্ত্রাসী না বলে সন্ত্রাসী বলছে রাস্তায় মিছিলে নামা নিরস্ত্র মুসল্লিদের। মসজিদে তালা ঝুলানোও এদের কাছে কোন অপরাধ নয়। গণহত্যার এরূপ নায়কদের হাতে যুগে যুগে হত্যা ও নির্যাতনের কলাকৌশলগুলি বিশাল ইন্ডাস্ট্রিতে পরিণত হয়েছে। তাতে উৎপাদিত হয়েছে হত্যা ও নির্যাতনের দানবীয় যন্ত্র। নির্মিত হয়েছে আবি গারিবের ন্যায় বিশাল বিশাল কারাগার। আবিস্কৃত হয়েছে গ্যাসচেম্বার ও পারমাণবিক বোমা।
মুজিব-হাসিনার তৃপ্তির ঢেকুর
হিটলার যেমন হাজার হাজার ইহুদীদের গ্যাস চেম্বারে পাঠিয়ে ফুর্তি পেত, তেমনি ফুর্তি পেয়েছে শেখ মুজিব। খুনি মুজিব তো সিরাজ শিকদারকে হত্যা করার পর সংসদে ফুর্তিতে আস্ফালন তুলে বলেছেন, “কোথায় আজ সিরাজ শিকদার? বাকশালী মুজিব একদলীয় শাসন চাপিয়ে বিরোধীদের রাজনৈতীক অধিকারই শুধু হনন করেননি, তাদের প্রাণও হরন করেছেন। তিনি আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের হত্যাপাগল কর্মিদের দিয়ে গড়েছিলেন নৃশংস রক্ষিবাহিনী। সে রক্ষিবাহিনী গ্রাম-গঞ্জ ও অলি-গলিতে গিয়ে রাজনৈতীক বিপক্ষদের খুঁজতো। নিছক ভিন্ন রাজনৈতীক বিশ্বাসের কারণে তাদেরকে হত্যা করতো। মুজিব সে সময় বঙ্গভবনে বসে আনন্দে ঢেকুর গিলতেন। আর আজ একই ভাবে মাত্র কয়েক দিনে শতাধিক লাশ ফেলে আনন্দের ঢেকুর গিলছেন তারই কন্যা শেখ হাসিনা। উল্লাস করছেন তার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও অন্যান্য আওয়ামী নেতাকর্মীরা। আদালতের পক্ষ থেকে যখন মাওলানা আবুল কালাম আযাদ ও মাওলানা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর ফাঁসির হুকম শোনানো হয়,তখন আনন্দে তারা মিষ্টি বিনরণ করে।
সরকার যে জামায়াত শিবিরের নির্মূলে কতটা বেপরোয়া সেটি বোঝা যায় সরকারর মন্ত্রীদের বক্তৃতা-বিবৃতিতে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আওয়ামী লীগের দলীয় কর্মীদের প্রতি আবেদন জানিয়েছেন জামায়াত-শিবির নির্মূলের। প্রধানমন্ত্রী হাসিনা আবেদন জানিয়েছেন, গ্রামে গ্রামে প্রতিরোধ কমিটি গড়ে তোলার। পত্রিকায় প্রকাশ, ঢাকার মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্মকর্তা জনাব বেনজির আহম্মদ পুলিশের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন, জামায়াত-শিবির দেখা মাত্রই গুলির। ফলে পক্ষি-শিকারের ন্যায় মানব শিকারে কোথা থেকে অনুপ্রেরণা পায় সেটি কি বুঝতে বাঁকি থাকে?
হত্যা যখন গণহত্যা
চুরি-ডাকাতির ন্যায় হত্যাও প্রতি সমাজে অহরহ ঘটে। প্রশ্ন হলো, সাধারণ হত্যাকান্ড থেকে গণহত্যার পার্থক্য কোথায়? পার্থক্যটি সহজেই অনুমেয়। সাধারণ খুনিরা ব্যক্তির ধর্ম, ভাষা, গায়ের রং বা রাজনীতি দেখে খুন করে না। কোন দল বা জনগোষ্ঠিকে নিমূলের জন্যও খুন করে না। এখানে হত্যাকান্ড ঘটে ব্যক্তিগত ভাবে কিছু পাওয়া বা প্রতিশোধের স্বার্থে। সন্ত্রাসী বা ডাকাতদের হাতে সংঘটিত হত্যা তাই গণহত্যা নয়। কিন্তু যখন হত্যার লক্ষ্য হয় কোন বিশেষ একটি ধর্মীয় বিশ্বাস, বর্ণ, ভাষা ও রাজনীতির মানুষকে বেছে বেছে নির্মূল করা তখন সেটি নিতান্ত গণহত্যা। বনের হিংস্র পশুগণ শিকার ধরে নিছক বাঁচার তাগিদে। পেটের ক্ষুধা তৃপ্ত হলে পশু আর শিকার ধরে না। এমন শিকার ধরার মটিভটি নিছক বেঁচে থাকা, পশুকুলকে নির্মূল করা নয়। তাই হিংস্র পশুদের হামলায় কোন বনই পশুশূন্য হয় না। কিন্তু স্বৈরাচারি শাসকদের হাতে প্রকাণ্ড গণহত্যা ঘটে। বিরান হয় ঘরবাড়ি ও জনপদ। কারণ তাদের লক্ষ্য,নিছক পেটের ক্ষুধা মেটানো নয়, বরং মনের সীমাহীন খায়েশ পূরণ। পেট পানাহারে পূর্ণ হয়, কিন্তু ক্ষুদার্ত মন নিছক পানাহারে তৃপ্ত হয় না। তাদের মন চায় বিপক্ষ দল বা গোষ্ঠির সমূলে নির্মূল। তাই হিটলার শুধু জার্মানীতে বসবাসকারি ইহুদী নেতা ও বুদ্ধিজীবীদের নির্মূল নিয়ে খুশি ছিল না, তার লক্ষ্য ছিল প্রতিটি ইহুদীর মৃত্যূ। সে লক্ষ্যপূরণে হিটলার তাই বড় বড় গ্যাস চেম্বার নির্মাণ করেছিল।
মুজিব ৩০ হাজারের বেশী রাজনৈতীক কর্মীকে হত্যা করেছিল তাদের রাজনীতিকে নির্মূল করার লক্ষ্যে। তাই সেটি ছিল নিরেট গণহত্যা। আর হাসিনা তাঁর পিতার সে পদাংক অনুসরণ করে চলেছেন। হাসিনার লক্ষ্য, দেশে ইসলামপন্থিদের নির্মূল। তাঁর নিজের ও দলের প্রকাশ্য স্লোগান রাজাকার নির্মূলের। মুজিবের হাতে ছিল বিশাল রক্ষিবাহিনী। আর হাসিনা পেয়েছে পুলিশ বাহিনী, র‌্যাব আর বিজিবী। সে সাথে আছে ছাত্রলীগের অস্ত্রধারি ক্যাডার বাহিনী -যারা পুলিশের পাশে চাপাতি ও রিভলবার নিয়ে রাজনৈতিক শত্রু খোঁজে এবং তাদেরকে হত্যা করে। নির্যাতনে ও হত্যায় ছাত্রলীগের সে ক্যাডারগণ এতটাই বেপরোয়া যে কিছুদিন আগে বিশ্বজিত দাসের ন্যায় একজন নিরীহ ব্যক্তিকে দিনেদুপুরে পুলিশের সামনে কুপিয়ে হত্যা করেছে। শাহবাগে যারা সমবেত হয়েছে তাদেরও লক্ষ্য শুধু গোলাম আযম, নিজামী, মোজাহিদ বা সাঈদীর ফাঁসি নয়, তারা চায় প্রতিটি রাজাকারের ফাঁসি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের নামে হাসিনা সরকার যে আদালত বসিয়েছে তা থেকে শাহবাগের সমবেত সন্ত্রাসীরা ফাঁসির হুকুম বাস্তবায়ন ছাড়া অন্য কিছু চায় না। ফাঁসির চেয়ে কম কোন শাস্তিতে তারা রাজি নয়। বিশ্বের বহু দেশে যাবজ্জীবন কারাদন্ডই সর্বোচ্চ শাস্তি। জামায়াত নেতা আব্দুল কাদেরে বিরুদ্ধে আদালত তো সে শাস্তিই শুনিয়েছিল। কিন্তু তারা সে শাস্তিতে খুশি নয়। যেহেতু চায় বিরোধীদের নির্মূল, ফলে চায় ফাঁসি। কারণ নির্মূল তো ফাঁসি বা মৃত্যুদন্ড ছাড়া ঘটেনা।
ডাকাতি ও গণহত্যায় বুদ্ধিজীবী
একটি দেশ কখনোই কিছু চোরডাকাত, দুর্বৃত্ত অফিসার,সন্ত্রাসী খুনি বা পতিতার পাপে ধ্বংস হয় না। ধ্বংস হয় দুর্বৃত্ত বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতীক নেতাদের পাপে। কারণ তারাই দেশের ড্রাইভিং সিটে। নমরুদ-ফিরাউনের ন্যায় এরাই আল্লাহর আযাবকে জমিনের উপর নামিয়ে আনে। বাংলাদেশও আজ এরূপ দুর্বৃত্ত বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতীক নেতাদের হাতে অধিকৃত। বাংলাদেশে বহু মানুষ গুম ও খুন হচ্ছে। যেমন পুলিশ ও র‌্যাবের হাতে,তেমনি রাজনৈতীক ক্যাডারদের হাতে। এরূপ প্রতিটি খুনের আসল নায়ক পুলিশ বা র‌্যাব যেমন নয়, তেমনি রাজনৈতীক ক্যাডারগণও নয়,বরং মুল কলকাঠিটি নাড়ায় দলের নেতা। এবং সে নেতার সাথে কাজ করে এক পাল রক্তপিপাসু বুদ্ধিজীবী। বস্তুত জাতীয় পর্যায়ে সব সময়ই এমন একটি গণহত্যার পঠভূমিকা নির্মান করে বুদ্ধিজীবগণ। বিপক্ষীয় দলের নেতাকর্মীদের হত্যা করা, তাদের ঘরবাড়ি, দোকান-পাটে ডাকাতি করাকে তারা তাদের লেখনি ও বক্তৃতা-বিবৃতিতে প্রশংসনীয় ও বিরত্বপূর্ণ কর্ম রূপে চিত্রিত করে।
এরূপ বুদ্ধিজীবীগণও যে কতটা বিবেকহীন ও নৃশংস হতে পারে তার নজির দেখা গেছে একাত্তরে। সে হিংস্রতার নৃশংস প্রকাশ ঘটেছিল বিহারীদের বিরুদ্ধে। তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্গণে স্লোগন উঠেছিল “একটা একটা মাড়ু (অবাঙালী) ধরো, সকালবিকাল নাস্তা করো”। তখন নেশা চেপেছিল খুনের। তাদের সে উস্কানির ফলেই বাঙালীরা সেদিন হাজার হাজার বিহারদের নির্বিচারে হত্যা করেছে, তাদের দোকানপাট, ঘরবাড়ি দখল করেছে এবং শত শত বিহারী নারীদের ধর্ষণও করেছে। সে বীভৎস নৃশংসতার কিছু বিররণ পশ্চিমা বিশ্বের সাংবাদিক ও পশ্চিমবাংলার শর্মিলা বোসের লিখনীতে পাওয়া গেলেও বাংলাদেশের বাঙালী বুদ্ধিজীবীদের লেখনিতে নেই। তাদের লেখনিতে তা নিয়ে এক লাইন বর্ণনাও আসেনি। এবং সে নৃশংসতার বিরুদ্ধে তাদের থেকে সামান্যতম নিন্দাবাদও উঠেনি। এই হলো বাঙালী বুদ্ধিজীবীদের চরিত্র ও বিবেকের মান। তাদের একই রূপ চরিত্র আজ ফুটে উঠেছে শাহবাগের মঞ্চে। এখান তারা নাস্তা করতে চায় জামায়াত শিবিরের কর্মীদের রক্তমাংস দিয়ে। তারা ধ্বনি তুলছে “একটা একটা শিবির ধরো, সকাল বিকাল নাস্তা করো”।
লক্ষ্য দেশধ্বংস
আওয়ামী লীগের এজেন্ডা দেশগড়া নয়, বরং দেশধ্বংস। বাংলাদেশে শিল্পকারখানা পরিকল্পিত ভাবে ধ্বংস করা হয়েছিল মুজিব আমলে। এবং সেটি ছিল ভারতের হাতে বাংলাদেশের বাজার তুলে দেয়ার লক্ষ্যে। কারণ ভারতকে এছাড়া খুশি করার কোন সহজ পথ ছিল। ফলে মুজিব আমলে ভারতীয় পণ্যের সয়লাব এসেছিল। সেজন্য আদমজীর ন্যায় বিশ্বের সর্ববৃহৎ পাটকলকে ধ্বংস করাও ভারতীয় চরগণ অপরিহার্য মনে করে। ধ্বংস করা হয়েছিল পাকিস্তান আমলে প্রতিষ্ঠিত অন্যান্য শিল্প প্রতিষ্ঠানকে। তখন একের পর এক আগুন দেয়া হয়েছিল পাটের গুদামে। ভারতীয় পণ্যের জন্য খুলে দেয়া হয়েছিল দেশের সীমান্ত। এভাবেই একাত্তরে ভারতের সামরিক অধিকৃতি প্রতিষ্ঠা লাভের পর প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল অর্থনৈতিক অধিকৃতি। শেখ হাসিনাও ময়দানে নেমেছে সে অভিন্ন স্ট্রাটেজী নিয়ে। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের সবচেয়ে বৃহৎ বেসরকারি ব্যাংক। এ ব্যাংকের অর্থায়নে দেশে ৪ হাজারের বেশী শিল্প-কলকারখানা প্রতিষ্টিত হয়েছে। তাই ভারতীয় স্বার্থের সেবকগণ চায়, ইসলামী ব্যাংকের ন্যায় সফল প্রতিষ্ঠানটির আশু ধ্বংস। ইতিমধ্যেই তারা সরকারি ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি কাটা ডাকাতি করেছে। এখন ডাকাতি করতে চায় ইসলামি ব্যাংকের কোষাগারে। ডাকাতি করতে চায় ইবনে সিনা হাসপাতাল, ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিকালস এর ন্যায় ইসলামপন্থিদের প্রতিষ্ঠানগুলি। এমন খুন ও ডাকাত কর্মে উৎসাহ দিচ্ছে দেশের আওয়ামী লীগের বুদ্ধিজীবীগণ।
দেশধ্বংসী এসব বুদ্ধিজীবীদের মন যে কতটা সন্ত্রাসপূর্ণ, এবং বিপক্ষীয়দের সম্পদ লুন্ঠন ও তাদের রক্ত নিয়ে হোলি খেলায় তারা যে কতটা পুলক বোধ করেন তারই চিত্র বেরিয়ে এসেছে শাহবাগের সমাবেশে তাদের দেয়া বক্তৃতায়। এরা পেশাদার খুনি নয়, চোরডাকাতও নয়। কিন্তু তাদের ভূমিকাটি পেশাদার চোরডাকাত ও খুনিদের চেয়েও ভয়ংকর। খুনি ও চোরডাকাতগণ জনসভায় দাঁড়িয়ে মানুষকে হত্যা ও চুরিডাকাতিতে উৎসাহ দেয় না। তারা সে কুকর্মকে নিজেদের মধ্যেই সীমিত রাখে এবং গোপনে করে। কিন্তু আওয়ামী বুদ্ধিজীবীরা সে কুকর্মকে জাতীয় সংস্কৃতিতে পরিণত করতে চায়। শাহবাগে প্রদত্ত বক্তৃতায় তারা যেমন খুনে উৎসাহ দিয়েছেন, তেমনি উৎসাহ দিয়েছেন জামায়াতের গড়া প্রতিষ্ঠানগুলির সম্পদের উপর ডাকাতিতে।সে উৎসাহতে বহু স্থানে ইসলামী ব্যাংকের উপর হামলা হয়েছে। ইসলামপন্থিদের প্রতিষ্ঠিত বহু হাসপাতালেও বিপুল ভাংচুর হয়েছে।
রক্তপীপাসু বুদ্ধিজীবী
আওয়ামী বুদ্ধিজীবীদের মূল আগ্রহটিও দেশগড়া নয়,বরং দেশধ্বংস। সে লক্ষ্যে বুদ্ধিজীবী নামধারি এসব আওয়ামী দুর্বৃত্তগণ যে কতটা উগ্র সে চিত্রটি ফুটে উঠেছে দৈনিক সংগ্রামে ৭/৩/১৩ তারিখে ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিমের “শাহবাগের বুদ্ধিজীবীরা” শিরোনামে রচিত একটি নিবন্ধে। সে নিবন্ধ থেকে কিছু উদ্ধৃতি দেয়া যাকঃ “সমাবেশে আওয়ামীপন্থী লেখক ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল ও ড. আনোয়ার হোসেন সবচেয়ে বেশি উস্কানিমূলক বক্তব্য দেন। “জয় বাংলা” বলে বক্তব্য শুরু করে মুহাম্মদ জাফর ইকবাল বলেন,“শিবিরকে প্রতিহত করতে আমাদের রাস্তায় লাঠিসোটা নিয়ে নামতে হবে।তোমরা আজ জেগে উঠেছো, বিজয় হবেই হবে।” জামায়াত-শিবিরের সদস্যদের সমাজ,রাষ্ট্র ও সংবাদ মাধ্যমের সব ক্ষেত্র থেকে বর্জনের মাধ্যমে নতুন আন্দোলন গড়ে তোলার আহবান জানান তিনি।জাহাঙ্গির নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড.আনোয়ার হোসেন তো হামলার লক্ষ্যকে শুধু জামায়াতের নির্মূলে সীমিত না রেখে বিএনপির নির্মূলেও উস্কানি দিয়েছেন। সেদিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন,‘জামায়াতের বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যারা ইন্ধন জুগিয়েছে,তাদেরও বিচারের সময় এসে গেছে।জামায়াত-শিবিরকে ক্ষমা করার আর সময় নেই।জামায়াত-শিবির নিয়ন্ত্রিত সব প্রতিষ্ঠানকে বন্ধ করে দিতে হবে। জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে।” ডা.প্রাণ গোপাল দত্ত বলেন,‘এদেশের মাটিতে জামায়াত-শিবির ক্যানসার।একে প্রতিহত করতে না পারলে কেউ নিরাপদে থাকবে না। তাই এদের প্রতিহত করতে হবে। বাংলার মাটি থেকে জামায়াত-শিবিরকে চিরতরে উৎখাত করতে হবে।’ আর উৎখাত তো শুধু নির্যাতন ও তাদের সম্পদ ডাকাতিতে হয় না। এজন্য তাদের হত্যা করা চাই। তাই সে হত্যাকর্মটি যেমন জাফর ইকবাল ও আনোয়ার হোসেন চান, তেমনি চান ডাঃ প্রাণ গোপাল দত্ত। প্রশ্ন হলো,হত্যাপাগল নাযী বাহিনীর খুনিদের মুখে ইহুদীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত আক্রোশ কি এর চেয়ে ভিন্নতর ছিল?
যে কোন সভ্যদেশে গণহত্যায় এমন উস্কানিমূলক বক্তৃতা দেয়া নিতান্তই ফৌজদারি অপরাধ। সে অপরাধে নিশ্চয়ই তাদের শাস্তি হতো। কিন্তু ডাকাত পাড়ায় ডাকাতি ও খুনের উস্কানি দেয়া কোন অপরাধ নয়। বরং সেটি প্রশংসীন কাজ। নইলে ডাকাতপাড়ায় নতুন ডাকাত গড়ে উঠবে কীরূপে? ফলে বাংলাদেশে সে অপরাধে কাউকে গ্রেফতার করে আদালতে তোলা হয়না, শাস্তিও হয় না। সরকার দেশকে একটি ডাকাত-অধিকৃত জনপদে পরিণত করেছে। তাই এসব অপরাধী বুদ্ধিজীবীদের কোন শাস্তি হয়নি। বরং তারা স্ব স্ব পদে অধিষ্ঠিত আছেন। সমাবেশে আওয়ামী লীগ-বামপন্থী লেখক, বুদ্ধিজীবীদের নেতৃত্বে গণ-শপথ পাঠ করানো হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. চন্দ্রনাথ পোদ্দার বলেন, সমাবেশ থেকে যে কোনো একদিন গিয়ে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত আমার দেশ কার্যালয় গুঁড়িয়ে দেয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। আওয়ামীপন্থী বুদ্ধিজীবী ও বাংলা একাডেমীর সভাপতি অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক রফিক উল্লাহ খানসহ আরও অনেকের বক্তৃতাতেও ছিল ফ্যাসিবাদ ও বাকশালের পদধ্বনি। সমাবেশে উচ্চারিত গানের মধ্যে ছিল, ‘একটা একটা শিবির ধর, সকাল বিকাল জবাই কর’, ‘জামায়াতের আস্তানা গুড়িয়ে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘জামায়াতের আস্তানা দখল কর, দখল কর’, ‘সাম্প্রদায়িকতার আস্তানা, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘জ্বালো জ্বালো আগুন জ্বালো, শিবির ধরে জবাই করো’, ‘শিবির ধরো ধরো, সকাল বিকাল জবাই কর। অধিকাংশ গানের মূল কথা ছিল জামায়াতে ইসলামী নেতাদের সম্পত্তি দখল করা এবং দলটির নেতা-কর্মীদের হত্যা বা জবাই করা।”
“নাজী” অধিকৃত বাংলাদেশ
ড.ইনায়েত রহিত নামের একজন প্রবাসী বাংলাদেশী বাংলাদেশের বর্তমান চিত্রটি তুলে ধরতে গিয়ে লিখেছেন,“ Bangladesh is going the way that Germany did in 1929-30-31-32-33. Please read the history of the Nazi party. I can see the exact reflection in Bangladesh. I can see Adolf Hitler, Joseph Goebbels, Herr Ribbentrop, Hermann Goering.......match them to the players in Dhaka.....you will find exact duplicates. They first chased the top Jewish hierarchy, who they blamed for defeat of World War I, and then expanded it to include every Jew...man, woman, child for their misfortune. First they looted their property, banned their clubs; then they went after their blood. Finally it was every Jew...man, woman and child who were to be rounded up and butchered. Blame was spread to include the children, and even unborn children, so Hitler decided on the "final solution", so future generations would not be born. When I hear the shrill slogans from Dhaka to kill the children of "Razakars", even their grandchildren, and even future generations to come, I shiver.....I get the cold feeling in my spinal cord, I cry....is this what is coming ? Are the followers of Prophet Muhammad going to face the same cruelty that the followers of Prophet Moses faced less than a hundred years ago. Are these new Aryans ( the superior Bakshal race) as ruthless as their compatriots ( Nazis) of a couple of generations ago ?
প্রখ্যাত ব্যারিষ্টার Toby M. Cadman গত ৫মার্চ ২০১৩ তারিখে তার সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফরের অভিজ্ঞতার উপর একটি নিবন্ধ লিখেছেন। সে নিবন্ধে তিনি বাংলাদেশী বুদ্ধিজীবীদের একটি চিত্র তুলে ধরেছেন। তিনি আর্ন্তজাতিক মানবতাবিরোধীতা ট্রাইবুনাল (আইসিটি)সর্ম্পকে তিনি লিখেছেন, “All those accused of war crimes must be convicted and duly executed. Nothing less will suffice. One must ask what therefore is the point in a trial where the only acceptable result is execution. One is reminded of the words of Justice Jackson, Chief Prosecutor of the International Military Tribunal, Nuremberg who stated: “If you are determined to execute a man in any case there is no occasion for a trial. The world yields no respect to courts that are merely organized to convict.
To this point, the Prime Minister, Sheikh Hasina Wajed, has been reported as saying in Parliament that she would talk to the judges to convince them to take the sentiments of the protesters into account in formulating their decisions. It is notable that one of the first judgments issued by the Tribunal referred to the ‘will of the people’ in reaching its decision clearly demonstrating the emotive manner in which these trials are now being conducted.
On 28 February 2013, the third accused, Maulana Delwar Hossain Sayedee, was convicted and sentenced to death following a trial that was characterized by prosecutorial and judicial misconduct, witness perjury, witness abduction and a flagrant denial of basic human rights standards. The call for death echoed by the Shahbagh demonstrators has seemingly dictated the course of events unfolding in the Tribunal in an atmosphere where defence witnesses are now too afraid to appear and where the judges have now been swayed by mob, anti-Jamaat sentiment.” The big question is what would have been the response of the Shahbagh demonstrators had Sayedee not received the death sentence. It is clear that the Tribunal Judges were under such pressure to respond to the public calls for blood that, had they not responded as such, it is not inconceivable that it could have been their own blood spilt on Shahbagh.”
শাহবাগের পজিটিভ দিক
নর্দমার মশামাছি ও কীটগুলো কখনোই তাদের উপস্থিতি গোপন রাখতে পারে না। তাদের সামনে দুর্গন্ধময় আবর্জনা ফেললেই তারা স্বমুর্তিতে হাজির হয়। শাহবাগের মোড়ে ইসলামের শত্রু নাস্তিক-মুরতাদদের সমাবেশ শুরু হলে এসব আওয়ামী বুদ্ধিজীবীগণও নিজ ঘরে নীরবে বসে থাকতে পারেনি। তারা নিজ নিজ চরিত্র নিয়ে শাহবাগে হাজির হয়েছে। আল্লাহপাক তো এভাবেই সমাজের ভয়ানক দুর্বৃত্তদের সমাজে পরিচয় করিয়ে দেন। বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যায় বিদ্যাশিক্ষার গুরত্বপূর্ণ অঙ্গণেও ইসলামের কতবড় ভয়ংকর শত্রুগুলো বসে আসে সেটিও আল্লাহতায়ালা দুচোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন। শাহবাগের আন্দোলনের এটিই পজিটিভ দিক। ইসলামের রক্তপিপাসু খুনিদের তাই আর হ্যারিকেন লাগিয়ে নগরে বন্দরে খোঁজাখোঁজির প্রয়োজন নেই। তারা নিজেরাই নিজেদের প্রকৃত পরিচয়টি স্বশরীরে জনসম্মুখে তুলে ধরেছে। পানি এতই ঘোলা করা হয়েছে যে বড় বড় মাছ গুলো এখন ভেসে উঠেছে। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে যারা ভাবেন তাদের জন্য এটি এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাংলাদেশে রোগ আর এখন লুকানো বিষয় নয়। রোগের জীবানূগুলো এখন রাজ পথে জোয়ার সৃষ্টি করেছে। কারা দেশের শত্রু আর কারা মিত্র সেটি এখন সুস্পষ্ট। এখন প্রয়োজন,রোগমুক্তির লক্ষ্যে এদের থেকে নিষ্কৃতির লড়াই।
চোরডাকাত ও খুনির সংস্কৃতি শাহবাগে
ডাকাতি করা, লুটতরাজ করা এবং মানুষ খুন করা যে কোন সমাজেই অতি গুরুতর অপরাধ। কোন সভ্য সাধারণ মানুষ এমন অপরাধ কর্মে নামে না। এটিই সভ্য সমাজের অতি ন্যূনতম মূল্যবোধ ও সংস্কৃতি। এমন সভ্য সংস্কৃতির নির্মাণে বছরের পর বছর ধর্মপালন ও জ্ঞানচর্চার প্রয়োজন হয়। তাই ধর্মহীন ও জ্ঞানচর্চাহীন বনেজঙ্গলে তাই সভ্যতর মূল্যবোধ ও সংস্কৃতি গড়ে উঠে না। পাপুয়া নিউগিনি, আন্দামান বা নিকোবরের বন্য মানুষগুলো তাই জীবন যাপনে পশুকুল থেকে সামান্যই ভিন্ন। কারণ তাদের মাঝে ধর্ম বা জ্ঞানচর্চার প্রবেশ ঘটেনি। ডাকাত-পাড়াতেও সে সংস্কৃতি থাকে না। সেখানে বরং ডাকাতি, খুন ও ধর্ষণও নিন্দনীয় না হয়ে বরং তেমন বর্বর কাজে লাগাতর উৎসাহ দেয়া হয়। ডাকাতপাড়ায় এ রোগটির মূল কারণঃ ধর্মীয় শিক্ষা ও উন্নত নৈতীক জ্ঞান না থাকা। অথচ ডাকাতপাড়ার সে সংস্কৃতি নেমে এসেছে ঢাকার শাহবাগের সমাবেশে। সে সমাবেশ থেকে তাই জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের জবাই করায় উৎসাহ দেয়া হচেছ। স্লোগান উঠেছে তাদের প্রতিষ্ঠানগুলির উপর ডাকাতির। স্লোগান দেয়া হচ্ছে সকল ইসলামপন্থিদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার। অথচ সে স্লোগান গুলো ডাকাতপাড়ার ডাকাত বা পতিতাপল্লির পতিতাও দিচ্ছে না। বরং দিচ্ছে সেখানে জমা হওয়া কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার ছাত্রশিক্ষক। দেশের বুদ্ধিজীবীগণ। বিদ্যাশিক্ষার নামের দেশে কি পরিমাণ ঘৃনা, অশিক্ষা ও কুশিক্ষা ছড়ানো হয়েছে শাহবাগের আন্দোলন হলো তারই উদাহরণ। উনানে বসিয়ে একটু তাপ দিলে পানির আবর্জনা যেমন ফেনা রূপে ভেসে উঠে, তেমনি শাহবাগীদের আন্দোলনে ভেসে উঠছে সমাজের আবর্জনা।
গভীরতর নৈতীক পচন
বাংলাদেশে নৈতীক পচনটি যে কতটা গভীরে ছড়িয়ে পড়েছে তার কিছু উদাহরণ দেয়া যাক। কোন সভ্যসমাজে কি কখনো এ স্লোগান উঠে যে, বিচারে রায় হতে হবে একমাত্র মৃত্যুদন্ড? অথচ বাংলাদেশে শুধু সে দাবীই উঠছে না, বরং হুমকি দেয়া হচ্ছে অন্য কোন রায় ঘোষিত হলে তা মানা হবে না। বলা হচ্ছে, ফাঁসির হুকুম না হলে রাজপথের আন্দোলন থামানো হবে না। এমন দাবিতে শাহবাগের আন্দোলনকারিগণ একা নয়, তাদের সে দাবীর প্রতি সমর্থন জানাতে শাহবাগে ছুটে গেছেন ড.কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার রফিকুল হক ও আসিফ নজরুলের মত ব্যক্তিবর্গ। ছুটে গেছেন বহু প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি। বাংলাদেশের পচন যে গত গভীর সেটি কি বুঝতে এরপরও বাঁকি থাকে? বাংলাদেশ অধিকৃত শুধু এক স্বৈরাচারি শাসকগোষ্ঠির হাতেই নয়, নিদারুন জিম্মি হয়ে পড়েছে নৈতিকতাহীন একপাল বু্দ্ধিজীবীদের হাতেও। আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে শাহবাগীদের বিদ্রোহ, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তাদের ফাঁসির দাবি এবং সে দাবির প্রতি এসব বুদ্ধিজীবীদের একাত্মতার এরূপ খবর যতই বিশ্বব্যাপী প্রচার পাচ্ছে ততই ধিক্কার উঠছে বাঙালীর নৈতীক পচন নিয়ে। এখন বিশ্ববাসী বুঝতে পারছে, একমাত্র এমন এক গভীর পচন নিয়েই একটি জাতি বিশ্বের ২০০টির বেশী দেশকে হারিয়ে দুর্বৃত্ত কর্মে পর পর ৫বার প্রথম হতে পারে। নৈতীক পচনটি শুধু দেশের চোর-ডাকাত, পতিতা, ঘুষখোর অফিসার, ডেস্টিনী-হলমার্কের ন্যায় কোম্পানীর কর্মকর্তাদেরকেই আক্রান্ত করেনি, চরম ভাবে আক্রান্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর, আদালতের বিচারক, আইনবিদ, লেখক, বুদ্ধিজীবী ও রাজনীতিবিদদেরও। শাহবাগীদের আন্দোলনের ফলে এদের ভদ্র লেবাস দেহ থেকে খুলে পড়েছে। বিশ্ববাসীর সামনে তারা আজ উলঙ্গ।
বাড়ছে বিশ্বব্যাপী অপমান
বিচারের রায় শুধু মৃত্যুদন্ড হলে আদালত বসানো দরকার কি? সে সমাজে তো দরকার শুধু এক পাল হত্যাপাগল জল্লাদের। সে জল্লাদদেরই বিপুল সমাবেশ হয়েছে শাহবাগে। সে প্রশ্নটি রেখেছেন বিলেতে প্রখ্যাত ব্যারিস্টার টবি ক্যাডমান। একই কারণে বিস্মিত হয়েছেন বিশ্বের প্রতিটি বিবেকমান ব্যক্তি। ট্রাইবুনাল বাতিলের বিরুদ্ধে শত শত মানুষ প্রতিবাদে রাজপথে নেমেছে লন্ডন, কায়রো, ইস্তাম্বুল, কলকাতা, কূয়ালামপুর ও টোকিওসহ বিশ্বের বহু নগরীতে। উদ্বেগ বেড়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারে। পৃথিবীপৃষ্ঠে বিচারের নামে এতবড় হত্যাকান্ড আধুনিক কালে হলে তাতে শুধু বাঙালীদেরও অপমান বাড়বে না, অপমান বাড়বে সমগ্র মানব জাতির,বিশেষ করে মুসলমানদের। বাঙালী মুসলমানগণ ইতিমধ্যেই মুসলিম ইতিহাসে বহু অপকর্মে রেকর্ড গড়েছে। সেটি যেমন একাত্তরে মুসলিম ভূমিতে বিশাল কাফের বাহিনী আহবান করে,তেমনি মুজিবামলে তলাহীন ভিক্ষার ঝুলি এবং নব্বইয়ের দশকে হাসিনার প্রথমবার ক্ষমতায় আসায় দুর্নীতিতে বিশ্বে প্রথম হওয়ার মধ্য দিয়ে।এখন বাংলাদেশের ইতিহাসে আরেক কলংক যোগ হতে যাচ্ছে। সেটি বিচারের নামে প্রতিটি রাজাকারের ফাঁসির হুকুমের নামে আরেক গণহত্যার।ফাঁসির রায় আদায়ে আদালতের উপর প্রচন্ড চাপসৃষ্টির উদ্দেশ্যে রাজপথে নামানো হয়েছে দলীয় ক্যাডারদের।বিচারকদের তারা জল্লাদ রূপে ব্যবহার করতে চায়। ক্যাডারদের দাবী,আদালতে ফাঁসির হুকুম না হলে তারা মাঠ ছাড়ছে না। সরকার তাদের শুধু উৎসাহ ও নিরাপত্তাই দিচ্ছে না,লাগাতর অর্থ ও খাদ্যপানীও জোগাচ্ছে। অথচ এরূপ পাইকারি ফাঁসির হুকুম নুরেমবার্গের আদালতে নাজীদের যেমন হয়নি,হেগের আন্তর্জাতিক আদালতে কোন যুদ্ধাপরাধীরও হয়নি। অথচ বাংলাদেশে এমন দাবি উঠছে ১৬ কোটি দেশবাসীর নামে।এমন দাবিতে বিশ্ববাসীর সামনে নিজেদের কদর্যতা ও অপমান ছাড়া আর কি অর্জিত হতে পারে? বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এরচেয়ে বড় অপরাধই বা কি হতে পারে? বাংলাদেশের জনগণ কি এরূপ কদর্য অপরাধীদের বরদাশত করতে থাকবে?
বাঙালী মুসলমানের ব্যর্থতা
ইসলামে ইবাদত শুধু নামায-রোযা,হজ-যাকাত আদায় নয়,বরং অতি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা ও অন্যায়ের নির্মূল। আল্লাহর এ হুকুম পালনই মুসলমানের জীবনে মূল মিশন।সে মিশন পালনেই মুসলমানের জীবনে জিহাদ শুরু হয়।সে জিহাদের বরকতেই তারা পরিণত হয় শ্রেষ্ঠ মানবে। এবং নির্মিত হয় শ্রেষ্ঠতম সভ্যতা।সেটিই পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে,“তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত,তোমাদের আবির্ভাব হয়েছে মানবজাতির জন্য,তোমরা নির্দেশ দাও সৎকর্মের,আর নিষেধ করো অসৎকাজের,এবং বিশ্বাস করো আল্লাহকে।”–সুরা আল-ইমরান,আয়াত ১১০।আরো বলা হয়েছে,“তোমাদের মধ্যে অবশ্যই একটি দল থাকতে হবে যারা কল্যাণের দিকে মানুষকে আহবান করবে,এবং সৎকাজের নির্দেশ দিবে ও অসৎ কাজের নিষেধ করবে।এবং তারাই সফলকাম।”-সুরা আল-ইমরান,আয়াত ১০৪।যে মুসলমানের জীবনে আল্লাহ-নির্দেশিত এ মিশন নেই এবং সে মিশন পালনে জিহাদই নাই –তারা কি বিশ্বের শ্রেষ্ঠ জাতি হতে পারে? তারা বরং নীচে নামায় বা দুর্বৃত্তিতে বিশ্বরেকর্ড গড়বে সেটিই কি স্বাভাবিক নয়? বাংলাদেশের কলংক বাড়াচ্ছে একাত্তরের রাজাকারগণ নয়,বরং আজকের ক্ষমতাসীন এ দুর্বৃত্তরাই। বাংলাদেশে নামায-রোযা,মসজিদ-মাদ্রাসা বাড়লেও ১৫ কোটি মুসলমানের দেশটিতে ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা যেমন বাড়েনি,অন্যায়ের তান্ডবও কমেনি।বরং সমগ্র দেশে অধিকৃত হয়ে আছে অতি দুর্বৃত্ত অপরাধিদের হাতে।বাংলাদেশের মুসলমানদের এর চেয়ে বড় ব্যর্থতা আর কি হতে পারে? এ ব্যর্থতা নিয়ে মহান আল্লাহর দরবারেই বা কি জবাব দিবে? ১০/৩/২০১৩

সূত্র :http://www.drfirozmahboobkamal.com/2010-03-24-10-21-22/911-intellectuals-instigation-to-genocide-and-arson-and-the-disgrace-for-bangladesh.html